নিজস্ব প্রতিবেদক:
দুই দফা টিকা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরও সিলেটে কমছে না হামের সংক্রমণ। আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ঠাঁই দেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। শয্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এক শয্যায় একাধিক শিশু রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় অফিস সূত্র জানায়, সিলেটে সংক্রমণ বাড়ায় চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে এক শ শয্যার শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালটি হামের চিকিৎসার জন্য ডেডিকেটেড করা হয়। আর গত মে মাস থেকে ওসমানী হাসপাতালে ডেডিকেটেড করা হয় ৮৫ শয্যার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডটি।
Manual3 Ad Code
সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত একশ শয্যার শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৮৫ জন ও ওসমানী হাসপাতালে ১৮৪ জন হাম আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। দুই হাসপাতালের ১৮৫ শয্যার বিপরীতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৩৬৯ জন।
Manual1 Ad Code
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে হামের চিকিৎসার জন্য নতুন ১২১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। আর সবমিলিয়ে চিকিৎসাধীন আছেন ৫২১ জন। গেল ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১ জন। নতুন এই মৃত্যুসহ বিভাগে হাম ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯১ জনে।
সূত্র জানায়, হামের সংক্রমণ শুরুর পর থেকে সিলেটে একাধিকবার হামের টিকার ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এরপরও কমছে না সংক্রমণ। টিকা নেওয়ার পরও অনেক শিশু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। শিশুদের পাশাপাশি কিশোর-তরুণসহ বিভিন্ন বয়সি লোকও হামে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক তিনজন হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
আসন সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ রোগীকে কীভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মির্জা রিয়াদ হাসান জানান, রোগী এলে ফিরিয়ে দেওয়া যায় না। আবার হাসপাতালে শয্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা বেশি। এই অবস্থায় দুটো শয্যা একত্রিত করে চার শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অনেক রোগীকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
Manual2 Ad Code
তিনি আরও জানান, হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা বাড়াতে ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
স্বাস্থ্য বিভাগের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম জানান, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও শয্যার চেয়ে দ্বিগুন-তিনগুণ রোগী ভর্তি। তারপরও চিকিৎসক ও নার্সরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
হামের চিকিৎসার জন্য ঔষধপত্রের কোনো সংকট নেই বলে জানান তিনি।