প্রবাসী অধ্যুষিত বিয়ানীবাজার গ্রামীণ এলাকায় পা দিতেই চোখে পড়ে সারি সারি প্রাসাদোপম সব বাড়ি। কোথাও সমতল সবুজের মাঝে, আবার কোথাও টিলার ওপর বিশাল প্রাচীরঘেরা কারুকার্যময় স্বপ্নের সেই বাড়িগুলো। কোটি কোটি টাকা খরচে প্রবাসীরা তৈরি করেছেন এসব বাড়ি। সারা বছর বাড়িগুলো জনশূন্য থাকলেও এগুলোর নির্মাণে কত টাকা বেশি খরচ করা যায় এমন অদৃশ্য প্রতিযোগিতা এখনো আছে। এ প্রতিযোগিতা বাড়ির বাহির থেকে শুরু করে ফটক পর্যন্ত।
Manual4 Ad Code
প্রবাসীদের নির্মিত প্রাসাদোপম বাড়িগুলো পড়ে আছে ‘পরিত্যক্ত’ অবস্থায়। বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ ও সুযোগ না পেয়ে বিয়ানীবাজারের ইউরোপ, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীরা তাদের অলস টাকা খরচ করে নির্মাণ করছেন এসব বাড়ি। বিলাসবহুল একেকটি বাড়িকে স্থানীয় প্রবাসীরা সবসময় আভিজাত্যের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে আসছেন।
সচেতন মহলের অভিমত, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বানানো ‘পরিত্যক্ত’ এসব বাড়ি বিয়ানীবাজারের অর্থনীতিতে কোনো কাজে আসছে না। তারা বলছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হলে প্রবাসীরা বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন। তখন হয়তো বাড়ি নির্মাণে কোটি কোটি টাকা খরচ না করে শিল্পখাতে বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়বে প্রবাসীদের। স্বজনদের ভোগ-বিলাসে ব্যয় বাড়লেও প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের খুব কমই বিনিয়োগ হচ্ছে উৎপাদনশীলখাতে।
ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, শিল্পকারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে দেশের অন্যান্য উপজেলার মধ্যে বিয়ানীবাজার এখনও অনেক পিছিয়ে। বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ ও সুযোগ না থাকায় আগ্রহ থাকার পরও বিয়ানীবাজারে বিনিয়োগ করতে পারছেন না প্রবাসীরা। একসময় আবাসন খাতে প্রবাসীরা বিপুল বিনিয়োগ করলেও এ ব্যবসায় ক্রমেই ধস নামায় মুখ ফিরিয়ে নেন তারা। এ ছাড়া প্রবাসীদের বিনিয়োগে বিয়ানীবাজারে বেশ কয়েকটি বিপণিবিতানও গড়ে ওঠে। আরোও কয়েকটি বহুতল বিপনী বিতান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
Manual5 Ad Code
সিলেট জেলা জজ আদালতের আইনজীবি এডভোকেট মো: আমান উদ্দিন মনে করছেন, মুখ ফিরিয়ে নিলেও এখনও প্রবাসীদের বিনিয়োগে আগ্রহী করা সম্ভব। সুষ্ঠু পরিবেশ ও বিনিয়োগ ফেরতের নিশ্চয়তা পেলে তারা বিনিয়োগ করবেন। প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগে আগ্রহী করা না গেলে ভবিষ্যতে এসব পরিবারের সঙ্গে দেশের সম্পর্কই থাকবে না বলেও শঙ্কা প্রকাশ করছেন তিনি।
আরেক আইনজীবি এডভোকেট আবুল কাশেম বলেন, প্রবাসীদের কষ্টে নির্মিত এসব প্রাসাদসম বাড়ি ও শ্রম-ঘামে কেনা জমি একসময় স্বজনদের সাথে বিরোধের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যে কারণে এসবখাতে বিনিয়োগেও আগ্রহ হারান প্রবাসীরা। এছাড়া প্রবাসে বেড়ে ওঠা বর্তমান প্রজন্মের টান কমে যাওয়ায় প্রবাসীদের মধ্যে এখন দেশের সম্পদ বিক্রি করে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। তাই ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে প্রবাসীরা বিনিয়োগ না করে দেশ থেকে সম্পদ বিক্রি করে নিয়ে যাচ্ছেন।
Manual5 Ad Code
উত্তর বিয়ানীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য সচিব হাসান আহমদ বলেন, যেসব প্রবাসী এখন সপরিবার ইউরোপ-আমেরিকায় বসবাস করছেন তাদের সন্তানরা দেশের ব্যাপারে খুব বেশি আগ্রহী নয়। ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে তাদের যুক্ত করা না গেলে বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন এই প্রজন্মের সম্পর্কে ভাটা পড়তে পারে। তারা সিলেট তথা বাংলাদেশের পরিবর্তে বিশ্বের অন্য স্থানে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠবেন।
Manual6 Ad Code
বিয়ানীবাজার চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি এনাম উদ্দিন বলেন, ‘শিল্প খাতের বিকাশ ঘটানো গেলে প্রবাসীদের বিনিয়োগে আগ্রহী করা যেত। প্রবাসীরা দেশে বিনিয়োগ করতে চান, কিন্তু রাষ্ট্রীয় কিছু জটিলতা ও উপযুক্ত পরিবেশ না পেয়ে তারা নিরুৎসাহিত হন।’