রাজশাহী সংবাদদাতা:
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল, শীতবস্ত্র বিতরণ ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়ন উপলক্ষে কর্মী সমাবেশের আয়োজন করা হয় রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে। উপজেলার পিরিজপুর হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এই সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার সময় শনিবার বিকেলে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
Manual7 Ad Code
রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী অ্যাডভোকেট সুলতানুল ইসলাম তারেকের অনুসারিরা হামলার শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে একই আসনে দলটির আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীনের অনুসারীরা হামলা করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
Manual7 Ad Code
গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম শাওয়াল অভিযোগে বলেন, শনিবার বিকেল চারটার দিকে জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব ও রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বিপ্লব ও গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনারুল সরকারকে সঙ্গে নিয়ে প্রাইভেট কারযোগে আমরা সমাবেশস্থল পিরিজপুর স্কুল মাঠের উদ্দেশ্যে রওনা করি। উপজেলার বারোমাইল এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে প্রস্তুত থাকা ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল লাঠিসোটা ও লোহার রোড নিয়ে প্রথমে আমাদের গাড়ির গতিরোধ করে। হামলাকারীরা এ সময় গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল মারতে থাকে। আমাদের লাঠি পেটা করতে থাকেন। এতে গাড়িতে থাকা জিয়া পরিষদের সহকারি মহাসচিব, আমিসহ আরও কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছি। আমাদের মাথায় ও শরীরে আঘাত করা হয়েছে। খবর পেয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা ছুটে এসে আমাদেরকে উদ্ধার করেন। পরে আমরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছি।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম শাওয়াল অভিযোগে আরও বলেন, রাজশাহী-১ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী জেনারেল শরীফ উদ্দিনের অনুসারীরা বারবারই তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার কর্মসূচিতে হামলা করে আসছে। এর আগে তারা তানোরের একটি কর্মসূচিতে হামলা করেছিল। সর্বশেষ শনিবারে গোদাগাড়ীর পিরিজপুরের কর্মসূচিতে আমরা আসার সময় জেনারেল শরিফের অনুসারীরা হামলা চালিয়েছে। আমি জেনারেল শরিফের বিরুদ্ধে কেন্দ্রে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেছিলাম কিছুদিন আগে। এই কারণেই আমাদের ওপর হামলা হয়েছে।
Manual6 Ad Code
অন্যদিকে গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনারুল সরকার বলেন, শনিবার বিকেলের সন্ত্রাসী হামলাটি শরিফের অনুসারী কয়েকজন যুবদল নেতার নেতৃত্বে ঘটেছে। এর আগেও তারা একাধিকবার এ ধরণের হামলা করেছে। এই বিষয়ে কি করনীয় তা আমরা আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করবো বলে জানান তিনি।
জানা গেছে, পরে পিরিজপুর স্কুল মাঠে ৩১ দফা সফল করতে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে জেনারেল শরিফ উদ্দিনের মোবাইল নম্বরে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।