বিয়ানীবাজার পৌরসভা: মেয়র পদে ‘মর্যাদার লড়াই’য়ে নামতে চান সম্ভাব্য প্রার্থীরা
বিয়ানীবাজার পৌরসভা: মেয়র পদে ‘মর্যাদার লড়াই’য়ে নামতে চান সম্ভাব্য প্রার্থীরা
editor
প্রকাশিত জুলাই ৬, ২০২৬, ০৩:২৬ অপরাহ্ণ
Manual4 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
সময় গড়ানোর সাথে সাথে বিয়ানীবাজার পৌরসভার নির্বাচনী নানা ইস্যু আলোচিত হচ্ছে। আগামী অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা হলেও বিয়ানীবাজার পৌরসভার নির্বাচন হতে পারে ডিসেম্বর মাসের শেষে অথবা ২০২৭ সালের জানুয়ারীর প্রথম দিকে। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এ পৌরসভার মেয়র পদটি নিয়ে মর্যাদার লড়াইয়ে নামবেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
বিয়ানীবাজার পৌরসভার প্রথম নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে তৎকালীন আওয়ামীলীগের প্রার্থী এবং ২য় নির্বাচনে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী জয়লাভ করেন। ১ম নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী অল্প ভোটে পরাজিত হন আর প্রতীক না থাকলেও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করেন।
রাজনৈতিক বিবেচনায় বিয়ানীবাজারে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি থেকে একাধিক প্রার্থী যাতে না থাকে, সে বিষয়টিই এখন দল’টির কাছে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
এদিকে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিয়ানীবাজার পৌর এলাকায় রাজনৈতিক ও নির্বাচনী তৎপরতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্ভাব্য নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা জনসংযোগ, মতবিনিময় সভা, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে শুরু করেছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের নাম। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও কয়েকজন পরিচিত মুখ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
Manual6 Ad Code
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের চেষ্টা করছেন।
সূত্রে জানা গেছে, বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়র পদে সিলেট জেলা বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক আবু নাসের পিন্টু, পৌর বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান রুমেল, জামায়াতে ইসলামী থেকে কাজী জমির হোসাইন ও ফরিদ আহমদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য নজরুল হোসেন, হাজী আব্দুস সবুর, সাবেক প্যানেল মেয়র সায়ফুল আলম ঝুনু, ফয়েজ আহমদ, মোহাম্মদ জাকির হোসেন, হুমায়ুন কবির আকিল, সিপিবির সভাপতি এডভোকেট আবুল কাশেম প্রমুখ নির্বাচন করতে পারেন। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে কাউকে দেখা যায়নি। পরিস্থিতি অনুকুল থাকলে বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামীলীগের দু’-একজন প্রার্থীও নির্বাচন করতে পারেন। যারা বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পৌর এলাকার উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি—এসব বিষয়কে সামনে রেখেই ভোটাররা যোগ্য, সৎ ও জনবান্ধব নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগে এসব ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়ে কথা বলছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে আগামী দিনে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পাবে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান, দলীয় মনোনয়ন এবং নির্বাচনী কৌশল আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। ফলে নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও জমে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে নির্বাচন কমিশন এখনো এ নির্বাচনের কোনো তফসিল ঘোষণা করেনি। ফলে অধিকাংশ সম্ভাব্য প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা না করলেও পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে নির্বাচনী আমেজ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক আড্ডা—সবখানেই এখন নির্বাচন ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে আলোচনা।
Manual1 Ad Code
এদিকে স্থানীয় সরকার পর্যায়ের নির্বাচনগুলোতে বড় ধরনের সংস্কার আনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবার সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে প্রচারণার চিরচেনা সেই পোস্টারের ব্যবহার থাকছে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
Manual5 Ad Code
একই সঙ্গে এসব নির্বাচনে প্রযুক্তিনির্ভর ভোটদান পদ্ধতি ইভিএম’র ব্যবহারও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে এবং কেবল ‘সিরিয়াস’ প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জামানতের পরিমাণ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে সংস্থাটি।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ইকবাল আহসান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি। নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনে ভোটারদের সঙ্গে প্রার্থীদের কুশল বিনিময় ও প্রচার-প্রচারণা চালাতে বাধা নেই।