বঙ্গভবন নয়, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেবে নতুন সরকার
বঙ্গভবন নয়, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেবে নতুন সরকার
editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ণ
Manual1 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান এবার হতে যাচ্ছে খোলা প্রাঙ্গণে। বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
Manual5 Ad Code
সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতাদের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে। এর আগে একই দিনে সকালে দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের দুই দিন পর শনিবার থেকেই শপথ আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়। শনিবার রাতে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানান, সকালে সংসদ সদস্যদের এবং বিকেলে নতুন সরকারের শপথের আয়োজন করা হচ্ছে দক্ষিণ প্লাজায়।
সংবিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান রয়েছে। শুক্রবার রাতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭ আসনের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।
Manual4 Ad Code
এবারের নির্বাচনে বিএনপি ২০৯ আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তাদের এক সময়ের মিত্র জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলে বসতে যাচ্ছে। অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছেন।
Manual3 Ad Code
নতুন সরকারের শপথ সাধারণত রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে পড়িয়ে থাকেন। তবে এবার স্থান পরিবর্তনের তথ্য নিশ্চিত করা হলেও রাষ্ট্রপতি শপথ পড়াবেন কি না—সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাতে চাননি সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
চব্বিশের আন্দোলনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারও বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নিয়েছিল। ফলে এবার স্থান পরিবর্তন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
এদিকে শপথ আয়োজনের মধ্যেই মন্ত্রিপরিষদ সচিব আব্দুর রশীদকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বঙ্গভবনের পক্ষ থেকে দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু—দুজনই বর্তমানে দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিত থাকায় সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন।
সংসদ সদস্যদের শপথের পর সংসদীয় দলের বৈঠকে নেতা নির্বাচন করা হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নির্বাচিত নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের দাবি জানালে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এরপরই নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে।