তনু হত্যা/আদালতে দেননি জবানবন্দি, রিমান্ড শেষে কারাগারে হাফিজুর
তনু হত্যা/আদালতে দেননি জবানবন্দি, রিমান্ড শেষে কারাগারে হাফিজুর
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০১:০৮ অপরাহ্ণ
Manual6 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
Manual1 Ad Code
এর আগে গত বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনের রিমান্ডে ছিলেন তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক ওই সেনাসদস্য।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকার পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তিন দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার দুপুরে আদালতে তোলা হয় হাফিজুরকে। এ সময় ১৬৪ ধারায় তিনি জবানবন্দি না দেওয়ায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। তবে রিমান্ডে তিনি কোনো তথ্য জানিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান তদন্ত কর্মকর্তা।
Manual4 Ad Code
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। পরদিন সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস সংলগ্ন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন তার বাবা।
Manual1 Ad Code
মামলার শুরুতে থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি।
Manual6 Ad Code
প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
সিআইডির তদন্তে তনুর মরদেহের কাপড়ে পাওয়া যায় তিন ব্যক্তির ডিএনএ। দীর্ঘদিন ধরে সেই ডিএনএ ম্যাচ করা হয়নি। গত ৬ এপ্রিল মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন আদালত। এ সময় সেই তিন ব্যক্তির ডিএনএ ম্যাচ করার আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। ডিএনএ পাওয়া তিনজনই সাবেক সেনা সদস্য।
তারা হলেন- সাবেক সার্জেন্ট জাহিদ, সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সাবেক সৈনিক শাহিনুল আলম। তাদের মধ্যে সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে তুলে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।