প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২রা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

কার ভুলে মাঝ দরিয়ায় আটকে আছে বাংলার জয়যাত্রা?

editor
প্রকাশিত মে ১৯, ২০২৬, ০১:০১ অপরাহ্ণ
কার ভুলে মাঝ দরিয়ায় আটকে আছে বাংলার জয়যাত্রা?

Manual7 Ad Code

 

 

আগামী প্রজন্ম ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বাঁধানোর পর আড়াই মাস পেরিয়ে গেছে; সেই যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরে আটকা পড়া হাজার দেড়েক জাহাজের ২০ থেকে ২২ হাজার নাবিক এখনো হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনে চলেছেন।

তবে বার বার চেষ্টা করেও প্রণালি পার হতে ব্যর্থ হওয়া বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নাবিকরা বলছেন, অন্য জাহাজের ক্রুদের তুলনায় নিজেদের আরো বেশি দুর্ভাগা মনে হচ্ছে তাদের।

তুলনামূলক ‘কম খরচায়’ বিপদজনক এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার একটি সুযোগ তারা হাতছাড়া হয়ে যেতে দেখেছেন কয়েক দিন আগে। এখন তারা দেখতে পাচ্ছেন, ভারত ও পাকিস্তানসহ অন্য দেশগুলো যেখানে তাদের জাহাজে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকা নাবিকদের বদলি হিসেবে ‘রিলিফ ক্রু’ পাঠাচ্ছে, ‘বাংলার জয়যাত্রা’র ক্ষেত্রে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

৫ লাখ ৭৮ হাজার ডলার টোল দিয়ে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার একটি সুযোগ দিয়েছিল ইরান। ওই অর্থকে নাবিকরা ‘তুলনামূলক কম খরচ’ বলছেন, কারণ এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহে বন্ধুপ্রতীম কিছু দেশের জাহাজের ক্ষেত্রে এর পাঁচগুণ টোল দিতে হয়েছিল।

সে সময় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে যোগাযোগের কথা স্মরণ করে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, “একটি মুসলিম দেশ হিসেবে আমরা ছাড় চেয়েছিলাম।”

তিনি বলেন, “টাকা কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু ইরানকে টোল দিলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পড়ার ঝুঁকি ছিল, তাই আমাদের হাতে আর কোনো বিকল্প ছিল না।”

পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বাংলাদেশের ‘অতি সতর্ক অবস্থান’ শুরু থেকেই ইরানের সঙ্গে পেশাদার ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগ নষ্ট করেছে। কূটনৈতিকভাবে বারবার ভুল পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলার জয়যাত্রায় আটকে থাকা ৩১ নাবিকের মধ্যে অন্তত এক ডজন ক্রু ইতোমধ্যে দেশে ফেরার আবেদন করেছেন। তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে থাকার জন্য প্রতিদিন অতিরিক্ত ৫ ডলার ‘যুদ্ধ ভাতা’ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তারা আর চুক্তি নবায়ন করতে আগ্রহী নন।

রাশিয়াসহ অনেক দেশই দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকা নাবিকদের মানসিক ও শারীরিক ঝুঁকি কমাতে ক্রু পরিবর্তনের ব্যবস্থা করছে।

মাহমুদুল বলেন, “আমাদের নাবিক ও জাহাজকে বিপদজনক এলাকা থেকে বের করে আনতে সাধ্যমতো সব কিছুই আমরা করছি। তবে বদলি ক্রু পাঠানোর কোনো চিন্তা আমাদের নেই। আমরা এটাকে কোনো বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছি না।”

তার মানে হল, জাহাজটি যতদিন ওই এলাকায় আটকে থাকবে, ততদিন বর্তমান নাবিকদেরই জাহাজে রাখার পরিকল্পনা করেছে বিএসসি।

Manual8 Ad Code

সাবেক কূটনীতিক ও পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সংকট কোন দিকে যাবে তা বলা কঠিন। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে এটা কয়েক বছর ধরেও চলতে পারে।

তাদের মতে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু পরিস্থিতি যদি আরও খারাপ হয়, তখন জ্বালানি সরবরাহ থেকে শুরু করে আটকে থাকা নাবিকদের উদ্ধারের মত বিষয়ে আপৎকালীন পরিকল্পনা থাকা জরুরি।

আর বাংলার জয়যাত্রার ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বলছেন, “আমাদের দেশে ফিরতেই হবে। আমরা অনির্দিষ্টকাল এভাবে আটকে থাকতে পারি না।”

 

‘রিলিভার’ পাঠাচ্ছে অন্য দেশ

Manual6 Ad Code

বাংলাদেশি জাহাজটির ৩১ নাবিকের এক-তৃতীয়াংশ ইতোমধ্যে টানা নয় মাস সমুদ্রে কাটিয়েছেন। আরও ১০ জন সাত মাস ধরে জাহাজে আছেন। এর মধ্যে দুই মাস কেটেছে দিন-রাত আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ছুটে যেতে দেখে, আতঙ্কের মধ্যে। কিছু ক্ষেপণাস্ত্র তো খুব কাছে এসে পড়েছে।

স্বাভাবিক সময়ে অনেক নাবিকই ছয় থেকে দশ মাস সমুদ্রে থাকেন। জাহাজের যে নাবিকদের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে, মানসিকভাবে তাদের স্থিতিশীল মনে হলেও তারা বলছেন, ছয় মাসের বেশি সময় ধরে সমুদ্রে থাকলে নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আবদ্ধ জায়গায় বারবার একই কাজ করা এবং ভারী জিনিস তোলার কারণে প্রায়ই পিঠ, ঘাড় ও জয়েন্টে পেশি ও হাড়ের ব্যথা হয়।

অনিয়মিত শিফট ও রাতের পাহারার কারণে ক্লান্তি ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাও একটি সাধারণ বিষয়। পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ায় মোশন সিকনেস, মাথা ঘোরা ও পানিশূন্যতাও দেখা যায়।

চাপপূর্ণ কর্মপরিবেশ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পাশাপাশি একটানা রোদ, লবণাক্ত পানি ও আর্দ্রতার সংস্পর্শে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, রোদে পোড়া ও নানা ধরনের সংক্রমণ হতে পারে।

একজন নাবিক বলেন, “এখনও কেউ অসুস্থ হয়নি। কিন্তু উদ্ধার করা না হলে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ব। এই পরিস্থিতিতে চিরকাল থাকা যায় না।”

কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা আছে, এমন নাবিকরাও বলছেন, ধেয়ে আসা মিসাইলের ভয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকার মত এমন মানসিক চাপ তাদের আগে কখনো সহ্য করতে হয়নি।

যুদ্ধ যখন পুরোদমে চলছিল, তখন নোঙর করার মত নিরাপদ জায়গা খুঁজতে গিয়ে পরিস্থিতির জটিলতা হাড়ে হাড়ে বুঝেছেন এই নাবিকরা।

হরমুজ প্রণালির যতটা সম্ভব কাছাকাছি থাকার পাশাপাশি নাবিকদের জিপিএস ও মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কে থাকাও প্রয়োজন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ঘন ঘন নেটওয়ার্ক জ্যামিংয়ের কারণে সেটা কঠিন হয়ে পড়ে।

আবার যে দেশের সীমানায় জাহাজ নোঙর করা হচ্ছে, সেই দেশকে ফি দিতে হয়। বাড়তি খরচ এড়াতে উপকূলের ১২ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে থাকার চেষ্টা করেন নাবিকরা।

কারিগরি কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। বাংলার জয়যাত্রার নোঙর ২৭০ মিটার। এ জাহাজ ৫০ মিটারের বেশি গভীর পানিতে নিরাপদে নোঙর করে থাকতে পারে না।

দুবাই ও শারজাহ থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে নোঙর করা এই জাহাজের ক্রুরা ভালো করেই জানেন, বাংলাদেশ থেকে বিশেষ কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়া তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতে নামতে পারবেন না।

অনেক বিদেশি নাবিকের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত সবচেয়ে নিরাপদ এবং পালানোর সহজ পথ হয়ে উঠেছে। তারা নৌকায় করে তীরে গিয়ে এরপর বিমানে চড়ে দেশে ফেরেন।

তবে মানবিক কোনো কারণ না থাকলে সাধারণত বাংলাদেশি নাবিকদের সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় না।

দেশে ফেরার ফ্লাইট ধরতে সৌদি আরব বা আশপাশের অন্য কোনো দেশে যেতে হলেও সংঘাতপূর্ণ এই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে ১০০ থেকে ১৫০ নটিক্যাল মাইল পাড়ি দিতে হবে।

 

যে যাত্রা রূপ নিল দুঃস্বপ্নে

বিএসসির মালিকানাধীন ‘বাংলার জয়যাত্রা’ সিঙ্গাপুরভিত্তিক কোম্পানি দাওয়া শিপিংয়ের অধীনে ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে। জাহাজটির ৩১ নাবিকের সবাই বাংলাদেশি।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরের বহির্নোঙরে আসে জাহাজটি। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে পণ্য খালাস বিলম্বিত হয়।

ভেড়ার একদিন পরেই জাহাজ থেকে ২০০ মিটার দূরত্বে একটি তেল রিজার্ভারে মিসাইল হামলার পর আগুন ধরে যায়। এমন পরিস্থিতিতে জাহাজটির ৩১ বাংলাদেশি নাবিকের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে কয়েকদিন পর জাহাজ থেকে পণ্য খালাস শুরু হয়।

কথা ছিল পণ্য খালাস শেষে জাহাজটির পুনরায় কাতারে যাবে। যুদ্ধ পরিস্থিতে সেটি বাতিল হয়। এরপর বাংলার জয়যাত্রার মুম্বাই যাওয়ার কথা ছিল।

সেখানে যেতে হলে জাহাজটিকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হত। সেই উদ্দেশ্যে রওনাও দেয় জাহাজটি। কিন্তু বেশি দূর এগোতে পারেনি।

দাওয়া শিপিং পরে নির্দেশনা দেয়, মুম্বাই নয়, সার নিয়ে যেতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন ও ডারবানে। কিন্তু হরমুজ না খোলায় জটিলতা থেকেই যায়।

মার্চে একবার এবং এপ্রিলে দুবার হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করেছে বাংলার জয়যাত্রা, কোনোবারই সফল হতে পারেনি।

জাহাজটি সবশেষ মে মাসের শুরুতে শারজাহ থেকে পানি কেনার জন্য মিনা সাকর বন্দরে ছেড়েছিল। ওই বন্দর ইরানের ফায়ারিং লাইন থেকে ৪৭ নটিক্যাল মাইল এবং হরমুজ প্রণালি থেকে ৭০ মাইল দূরে।

শারজাহ থেকে ১৯০ টন পানি কিনে ফিরে যাওয়ার পথে নাবিকরা আইআরজিসির নতুন এক ঘোষণা শুনতে পান। সেখানে বলা হয়, আগে যেখানে জাহাজ নোঙর করা ছিল, সেদিকে এগোলে হামলার ঝুঁকিতে পড়বে।

ফলে ৫ মে জাহাজকে নতুন অবস্থানে নিয়ে যেতে বাধ্য হন নাবিকরা। কিন্তু যুদ্ধে অবসান না হলে বাংলার জয়যাত্রাকে আবারও জায়গা বদলাতে হবে, অন্তত পানি কেনার জন্য হলেও।

সাধারণত জাহাজগুলো নিজেদের পানি নিজেরাই শোধন করে নিতে পারে। বাংলার জয়যাত্রাও মূল ইঞ্জিনের তাপ ব্যবহার করে পানযোগ্য পানি উৎপাদন করতে পারে। কিন্তু জাহাজ নোঙর করে থাকায় এখন তা সম্ভব হচ্ছে না।

পানির ব্যবহার অর্ধেকে নামিয়ে আনার পর জাহাজে এখন প্রায় এক মাস চলার মত পানি রয়েছে। গোসল ও অন্যান্য কাজের জন্য প্রতিদিন মাত্র আধা ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

স্বাভাবিক অবস্থায় এ জাহাজে প্রতিদিন ১২ টন পানির প্রয়োজন হয়। ইঞ্জিনের জরুরি কার্যক্রমের জন্য সবসময় ৪০ টন পানির মজুত রাখতেই হয়।

জাহাজের চিফ ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হাসান বলছেন, জাহাজে থাকা খাবার দিয়ে আরও দুই মাস চলতে পারে। এছাড়া জ্বালানি হিসেবে আছে ৪০০ টন হেভি ফুয়েল অয়েল এবং প্রায় ১৫০ টন ডিজেল।

যুদ্ধের মধ্যে প্রতিদিনই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। সেসব দৃশ্য দেখে আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করতে হয়েছে বাংলাদেশি জাহাজটির নাবিকদের।

যুদ্ধের মধ্যে প্রতিদিনই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। সেসব দৃশ্য দেখে আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করতে হয়েছে বাংলাদেশি জাহাজটির নাবিকদের।

কূটনীতিতে ‘ভুল’

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সরকারি বিবৃতিগুলো থেকে দেখা যায়, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরবসহ পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো থেকে জ্বালানি পরিবহনের সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে পারাপারের জন্য বাংলাদেশ মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে।

এপ্রিলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা তুরস্কের আনতালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামসহ বিভিন্ন জায়গায় বার বার বলেন যে, সমস্যার সমাধান হয়েছে। পরে তা সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়।

ইরানি দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, বাংলাদেশের প্রাথমিক কূটনৈতিক অবস্থানে তেহরানের ক্ষোভ তৈরি হলেও পরে আলোচনার জন্য বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে আইআরজিসির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর একদিন পর বাংলাদেশ একটি বিবৃতি দেয়। সেখানে ইরানের পাল্টা হামলাকে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন’ বলে নিন্দা জানানো হয়, যদিও ইরান বলেছিল তারা ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করেই হামলা চালিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার কারণেই যে এ সংঘাত শুরু করেছিল, সে কথাও বিবৃতিতে এড়িয়ে যাওয়া হয়।

যুদ্ধ শুরুর দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মেয়েদের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বোমা হামলায় শতাধিক শিশু নিহত হলেও বাংলাদেশ তার নিন্দা জানায়নি।

Manual7 Ad Code

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “শিশু হত্যার নিন্দা না করে আমরা কার্যকর ও পেশাদার কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেছি।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্য অনেক দেশের মত বাংলাদেশও ধরে নিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোট দ্রুত যুদ্ধে জয়ী হবে।

Manual8 Ad Code

কিন্তু পরিস্থিতি এখন অনেক জটিল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ বাড়ায় ইরান পথ খুলে দিতে আগ্রহী হলেও ছাড় দেওয়ার সুযোগ কমে গেছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদের প্রশ্ন, “এরকম পরিস্থিতিতে আমরা কীভাবে আশা করতে পারি যে ইরান বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করবে? নিজের অস্তিত্বই যখন হুমকির মুখে, তখন ইরান কীভাবে অন্য জাহাজগুলোকে পার হতে দেবে?”

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান অনুমতি দিলেও কিছু দেশ হয়ত হরমুজ প্রণালি পার হতে চাইবে না, কারণ তাতে তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায় পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে মেরিটাইম ল অ্যান্ড পলিসির শিক্ষক সৈয়দ জাকারিয়া বকশ ইমরান বলেন, “এই সংকটের একটি বড় শিক্ষা হল, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখাই যথেষ্ট নয়।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিই বাংলাদেশের সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি পাওয়ার একমাত্র পথ। সেই বাস্তবতায় ন্যূনতম নৈতিক অবস্থান বজায় না রেখে প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রঘেঁষা অবস্থান নেওয়ায় জাতীয় স্বার্থ ঝুঁকিতে পড়েছে।

জাকারিয়া বলেন, “আমাদের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। আমাদের নিরপেক্ষ ও নৈতিক হতে হবে।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এস এম মাহবুবুল আলম, যিনি পশ্চিম এশিয়া ডেস্কেরও দায়িত্বে ছিলেন, সাম্প্রতিক বদলির কারণ দেখিয়ে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জ্বালানি বিভাগ বা বিদেশে বাংলাদেশের মিশনের কর্মকর্তারাও হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল নিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনার বর্তমান অবস্থা ব্যাখ্যা করেননি।

বিএসসির এমডি মাহমুদুল বলেন, “কোনো এক জায়গায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। হয়ত যুদ্ধ নিয়ে আইআরজিসি খুব ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।”

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code