দাফনের ১২ ঘণ্টা পর ‘মা বেঁচে আছে’ ভেবে লাশ তুললেন সন্তানরা
দাফনের ১২ ঘণ্টা পর ‘মা বেঁচে আছে’ ভেবে লাশ তুললেন সন্তানরা
editor
প্রকাশিত আগস্ট ২, ২০২৬, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ণ
Manual6 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুরের মেলান্দহে দাফনের ১২ ঘণ্টা পর মা জীবিত আছে ভেবে কবর থেকে তার মরদেহ উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে। পরে মৃতের স্বজনরা মরদেহ নিয়ে মেলান্দহ ও জামালপুরের একাধিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে পুনরায় মৃত ঘোষণা করেন।
গতকাল শনিবার (১ আগস্ট) রাতে মেলান্দহ উপজেলার চর মাহমুদপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
Manual3 Ad Code
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের চর মাহমুদপুর গ্রামের মৃত সোহরাব আকন্দের স্ত্রী হালিমা খাতুন (৬৫) বার্ধক্যজনিত কারণে গত শুক্রবার (৩১ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে মারা যান। পরদিন শনিবার সকাল ৮টায় জানাজা শেষে হালিমা খাতুনকে দাফন করা হয়। কিন্তু মৃত হালিমা খাতুনের মানসিকভাবে অসুস্থ মেয়ে সুলতানা (৪০) দাফনের পর থেকেই তার মা জীবিত আছে ‘জিন’ তাকে জানিয়েছে বলে চিৎকার করতে থাকে। এক পর্যায়ে হালিমা খাতুনের স্বজনরা রাত ৯টার দিকে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করেন। পরে হালিমা খাতুন আসলেই জীবিত রয়েছে কিনা সেটা জানার জন্য রাতেই মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে প্রথমে মেলান্দহ ও পরে জামালপুরের একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেসব হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মৃত ঘোষণার পর পুনরায় হালিমা খাতুনের মরদেহ দাফনের জন্য রাতেই তার স্বজনরা গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে জামালপুর জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
Manual5 Ad Code
মৃতের ছেলে হুমায়ূন কবির বলেন, আমার মা শুক্রবার রাতে মারা যায়। পরে আমরা শনিবার সকালে জানাজা শেষ করে মাকে দাফন করি। কিন্তু আমার বোন আমাদের বলে মা বেঁচে আছে। আমারা তাকে বুঝানোর চেষ্টা করি কিন্তু সে বুঝে না। এক পর্যায়ে আমরা মরদেহ কবর থেকে তুলি। তখন কেন জানি মনে হচ্ছিল মায়ের হাত-পা একটু একটু নড়ছে। পরে মাকে নিয়ে মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাই। সেখানে ডাক্তার ইসিজি করে বলে মা মারা গেছে। তারপর আমরা অ্যাম্বুলেন্সে করে জামালপুর যাই ওখানে কয়েকটা বেসরকারি হাসপাতালে যাই। তারাও বলে মা অনেক আগেই মারা গেছে। পরে আমরা লাশ নিয়ে বাড়িতে চলে আসি এবং লাশ পুনরায় দাফন করি।
মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর কর্তব্যরত চিকিৎসা বলেন, কাল রাতে যখন ঘটনা ঘটে তখন আমি ডিউটিতে ছিলাম না। যে ডাক্তার ডিউটিতে ছিল সে বাসায় চলে গেছে। তবে আমি যেটি শুনেছি কিছু লোক একটা মরদেহ নিয়ে হাসপাতালে আসে। তারপর ইসিজি করে দেখা যায় সে মৃতই ছিল। পরে তার স্বজনরা কথাটি বিশ্বাস না করে মরদেহ নিয়ে জামালপুর যায়।
Manual7 Ad Code
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, বিষয়টি আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি। এ বিষয়ে এখনো কোন অভিযোগ পাইনি।