জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ৬ নম্বর চিকনাগুল ইউনিয়নের কাপনাকান্দি গ্রামে জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আপন চাচার ওপর ভাতিজার হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত বৃদ্ধ মনোফর আলীকে (৭০) বর্তমানে হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক মহিলা আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে অন্য আসামিদের এখনও গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
Manual4 Ad Code
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কাপনাকান্দি গ্রামের নিজ বসতবাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
Manual6 Ad Code
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত রাহিম আলী আহত মনোফর আলীর আপন ভাতিজা। একই বাড়িতে পৃথকভাবে বসবাস করলেও জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, ওই বিরোধের জের ধরে অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জমি দখলের চেষ্টা করছিলেন।
ঘটনার দিন মনোফর আলীর মালিকানাধীন রাস্তার ওপর বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হলে তিনি এর প্রতিবাদ করেন। এতে রাহিম আলীর নেতৃত্বে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে তার বাড়ির উঠানে প্রবেশ করে গালাগাল শুরু করে। একপর্যায়ে রাহিম আলী ধারালো দা দিয়ে মনোফর আলীর মাথায় কোপ দেন। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সাফিয়া বেগম মুগুর দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। পরে রাজিয়া বেগম ও নাইমা বেগম লাঠি ও বাঁশ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাকে প্রথমে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় আহতের পুত্রবধূ মোছা. শিপা বেগম বাদী হয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় রাহিম আলী, সাফিয়া বেগম, রাজিয়া বেগম, নাইমা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৩০৭, ৩২৩, ৩২৬ ও ৫০৬ ধারায় রুজু করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রাজিয়া বেগম নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে দক্ষিণ কাপনাকান্দি মহল্লাবাসী ও এলাকার বৃদ্ধ আহত মনোফর আলীর বাড়িতে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা পরিবারের সদস্যদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং হামলার সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান।
Manual8 Ad Code
পরিবারের পক্ষ থেকে আহত মনোফর আলীর ভাতিজা আব্দুল আহাদ ও রানা বলেন, আমাদের চাচা এখনও হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। আমরা চাই, হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক। কোনো প্রভাবশালী মহল যেন কাউকে রক্ষা করতে না পারে। আমরা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি আমরা দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকলের কাছে আমাদের চাচার সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করছি।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, মনোফর আলীর বাড়িতে বর্তমানে কোনো পুরুষ সদস্য নেই। তার তিন ছেলে জীবিকার তাগিদে দুবাইয়ে অবস্থান করায় পরিবারের নারী সদস্যরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
Manual1 Ad Code
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) অফিসার ইনচার্জ মাহবুবর রহমান মোল্লা জানান, ঘটনার পর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।