নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ— ১৯ বিজিবি। গত ১০ দিনে উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ, হুইস্কি ও ফেনসিডিলসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে বিজিবি। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তে বিজিবির কঠোর অবস্থান ও একের পর এক মামলা দায়েরের পর সম্প্রতি স্থানীয় কিছু মানুষ সংঘবদ্ধ হয়ে রাস্তা অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
Manual2 Ad Code
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে বিজিবি ও প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে অবৈধ মাদক ব্যবসা ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মিনি ট্রাক বা ডিআই গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হওয়ায় সংশ্লিষ্ট একটি মহলের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে তাদের অভিমত।
Manual8 Ad Code
তাদের মতে, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান বাধাগ্রস্ত করতে রাস্তা অবরোধ বা সংঘবদ্ধভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
Manual4 Ad Code
তবে বিক্ষোভকারীদের দাবি, বিজিবি নির্দোষ ব্যক্তিদের মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে হয়রানি করছে। দ্রুত তাদের নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক জানান, সম্প্রতি বিজিবির মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে একটি ডিআই গাড়ি আটক করার সময় বিজিবির এক সদস্য আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ওই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে চারজনের বিরুদ্ধে জৈন্তাপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, তারা চিহ্নিত চোরাকারবারি বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, ১৯ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় কঠোর নজরদারির কারণে গত এক মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকার মাদক জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিদিনই ভারতীয় চোরাই পণ্য জব্দ করা হচ্ছে। বিজিবি চোরাচালানের বিভিন্ন রুট চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।