একের পর এক ফ্লাইট বাতিল: বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে এয়ারলাইন্সগুলো
একের পর এক ফ্লাইট বাতিল: বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে এয়ারলাইন্সগুলো
editor
প্রকাশিত মার্চ ৭, ২০২৬, ০৪:১১ অপরাহ্ণ
Manual3 Ad Code
Manual4 Ad Code
প্রজন্ম ডেস্ক:
ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন হাজার হাজার যাত্রীর গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, তেমনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলো। বিশেষ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে।
৬ দিনে ২১০ ফ্লাইট বাতিল
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সাতটি দেশ— ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) একদিনেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। গত ৬ দিনে সব মিলিয়ে ২১০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
সাধারণত রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে হাজার হাজার প্রবাসী দেশে ফেরেন। এই সময়ে প্রতিটি ফ্লাইট পূর্ণ থাকে এবং এয়ারলাইন্সগুলোর ব্যবসার মূল মৌসুম এটিই।
Manual2 Ad Code
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম বলেন, “যেখানে এখন ভালো ব্যবসা হওয়ার কথা, সেখানে আমাদের একের পর এক ফ্লাইট বাতিল করতে হচ্ছে। দ্রুত এ অবস্থা না কাটলে বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয় দেখা দেবে।”
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত তাদের ২৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এটি এয়ারলাইন্সের জন্য একটি কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তিনি বলেন, “রমজানে আমাদের হাজার হাজার প্রবাসী দেশে আসেন। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সেটি হচ্ছে না। দ্রুত এটি নিরসন না হলে বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।” যদিও ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে সে বিষয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এখনই বলা যাবে না বলেও জানান তিনি।
টিকিটের দাম দ্বিগুণ-তিনগুণ হওয়ার শঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, সহসাই এই যুদ্ধ বন্ধ না হলে সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে। সেই সময় হয়তো টিকিটের দাম দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহেদুল আলম জানান, এই পরিস্থিতি যদি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক না হয়, তবে তা মারাত্মক আকার ধারণ করবে। এই বিশেষজ্ঞের মতে, “পরিস্থিতি ঠিক হলে বিভিন্ন রুটের ভাড়া বাড়তে পারে। এয়ারলাইন্সগুলো তাদের ক্ষতি পোষাতে এমনটা করবেন।”
এখনই এয়ারলাইন্সগুলোর ক্ষতির পরিমাণ সঠিকভাবে নিরূপণ করা কঠিন—এমনটাই জানিয়েছেন কাজী ওয়াহেদুল আলমও। তিনিও মনে করেন, পরিস্থিতি শান্ত হলে এয়ারলাইন্সগুলো তাদের পরিমাণ বলতে পারবে। তবে তারা যে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন এটা নিশ্চিত।
একই সঙ্গে তিনি আটকে পড়া প্রবাসীদের ব্যাপারে তার উদ্বেগের কথা জানান। তিনি বলেন, “বিদেশে যারা আটকা পড়েছেন, তাদের ফিরিয়ে আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আকাশপথের এই উত্তেজনা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটছে না। আপাতত এয়ারলাইন্সগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।