বহু কোরবানির বিনিময়ে আসা পরিবর্তনের ধারা ধরে রাখতে হবে, উত্তরায় তারেক রহমান
বহু কোরবানির বিনিময়ে আসা পরিবর্তনের ধারা ধরে রাখতে হবে, উত্তরায় তারেক রহমান
editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ণ
Manual1 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বহু মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে দেশে যে পরিবর্তন এসেছে, সেই ধারাকে ধরে রাখতে হবে। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে রাজধানীর উত্তরা এলাকার গ্যাস, পানি, চিকিৎসা, জলাবদ্ধতা, যানজটসহ সাতটি প্রধান সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে উত্তরার আজমপুর ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ময়মনসিংহ থেকে গাজীপুর হয়ে রাত ১২টা ৫২ মিনিটে সভাস্থলে পৌঁছে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন তারেক রহমান। বক্তব্যের শুরুতে তিনি দেরিতে আসার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং বলেন, পথিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে গিয়ে সময় লেগেছে।
Manual1 Ad Code
উত্তরার সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, নিয়মিত বিল পরিশোধের পরও গ্যাস ও পানির সংকটে মানুষ ভুগছে। এই সংকট শুধু উত্তরায় নয়, সারা দেশেই রয়েছে। তার ভাষায়, দীর্ঘদিন নতুন গ্যাস কূপ অনুসন্ধান বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তিনি বলেন, এ সংকট নিরসনের মাধ্যমে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।
Manual8 Ad Code
চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উত্তরার মধ্য ও নিম্নবিত্ত মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি একটি সরকারি হাসপাতাল। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে এ এলাকায় সরকারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পানি সংকট ও জলাবদ্ধতার বিষয়েও বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, খাল ও জলাধার শুকিয়ে যাওয়ায় পানির সমস্যা তীব্র হয়েছে। খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু উত্তরায় নয়, সারা দেশের পানি সংকট ও বর্ষা মৌসুমের জলাবদ্ধতা নিরসনের চেষ্টা করা হবে।
যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি শুধু উত্তরার নয়, পুরো ঢাকার সমস্যা। যানজট নিয়ন্ত্রণে বিএনপির একটি সমন্বিত পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে মাদকের বিস্তারকে ভয়াবহ সমস্যা উল্লেখ করে বলেন, মাদক পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, উত্তরাসহ সারা দেশে অল্পশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা গেলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, গত ১৬–১৭ বছরে মানুষের রাজনৈতিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়েছিল। এসব অধিকারের পক্ষে দাঁড়াতে গিয়ে অনেক পরিবার স্বজন হারিয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ও ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহে উত্তরার মানুষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং তা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সমাবেশের শেষদিকে তিনি বলেন, দেশের সামনে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ঐক্যবদ্ধ থাকলে এসব সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে পারস্পরিক দোষারোপ এড়িয়ে জনগণের কষ্ট লাঘবের বাস্তবসম্মত পরিকল্পনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
Manual5 Ad Code
বক্তব্য শেষে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে খুন ও গুমের শিকার পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর রাত ১টা ১৭ মিনিটে তিনি সভাস্থল ত্যাগ করেন।