‘মন্ত্রীদের সপ্তাহে কমপক্ষে একদিন জনপরিবহন ব্যবহার করতে হবে’
‘মন্ত্রীদের সপ্তাহে কমপক্ষে একদিন জনপরিবহন ব্যবহার করতে হবে’
editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ০৫:৪২ পূর্বাহ্ণ
Manual4 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, তার দল ও ১১-দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে মন্ত্রীদের সপ্তাহে অন্তত এক দিন এবং সচিবদের দুই দিন সাধারণ জনপরিবহন ব্যবহার করতে হবে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক নির্বাচনী ভাষণে তিনি এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেন।
Manual6 Ad Code
নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ভবিষ্যতে আর কোনো আলাদা পরিবহন ব্যবস্থা থাকবে না, বরং সবাইকে সাধারণ মানুষের মতো গণপরিবহন ব্যবহার করতে হবে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের অংশ হিসেবে এনসিপি এবার ৩০টি আসনে ‘শাপলা কলি’ মার্কায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ভাষণে তিনি পরিবর্তনের রাজনীতি ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তরুণ প্রজন্মকে সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
Manual4 Ad Code
নাহিদ ইসলাম তার ভাষণে ১১-দলীয় জোটের ১৮টি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইনসাফ ও সংস্কার। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ফ্যাসিস্ট আমলে সংঘটিত গুম-খুন, নির্যাতন ও ব্যাংক লুটের বিচার নিশ্চিত করাই হবে তাদের অগ্রাধিকার।
Manual2 Ad Code
এ ছাড়া ১৮ বছর বয়সের বেশি সব তরুণ-তরুণীর জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ চালু এবং প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনীতে রূপান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের ইশতেহারে। নাহিদ বলেন, বিগত দেড় বছরে অনেক প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় জনগণের মাঝে যে ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে, তা তারা অনভিজ্ঞতা ও সীমাবদ্ধতা হিসেবে স্বীকার করে নিচ্ছেন। এই ভুলগুলো শুধরে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে তিনি ভোটারদের কাছে আরেকটিবার সুযোগ প্রার্থনা করেন।
পুলিশ বাহিনীর সংস্কার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম এক আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব দেন। তিনি জানান, ফ্যাসিবাদের সহযোগী হওয়ার কলঙ্ক মুছতে পুলিশ বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে ‘জনসেবক বাহিনী’ রাখা হবে এবং এর কেন্দ্রীয় কাঠামো ভেঙে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে পুনর্গঠন করা হবে।
সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কখনোই আফগানিস্তান হবে না, এটি হবে তুরস্ক বা মালয়েশিয়ার মতো একটি ধর্মানুরাগী উদারনৈতিক রাষ্ট্র।’ যেখানে ধর্ম থাকবে ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গায় এবং রাষ্ট্র পরিচালিত হবে আইন ও ইনসাফের ভিত্তিতে। এ ছাড়াও নারী অধিকার নিশ্চিত করা, নারী নির্যাতনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে একটি শক্তিশালী সুনীল অর্থনীতি গড়ে তোলার পরিকল্পনাও তার ভাষণে স্থান পায়।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ৫ আগস্টের বিপ্লবের ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করে এনসিপি প্রধান বলেন, এই নির্বাচন সফল না হলে গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন ব্যর্থ হবে। তিনি শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা এবং আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
Manual2 Ad Code
নাহিদ ইসলাম ভোটারদের আশ্বস্ত করেন, এবার কারও ভোটাধিকার হরণ করতে দেওয়া হবে না এবং গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে তারা ভোটকেন্দ্রে সক্রিয় থাকবেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত একটি রাষ্ট্র গড়ার লক্ষে তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে সবাইকে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগের বিশেষ অনুরোধ জানান।