কুয়েতের আকাশে মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত করলো ইরান
কুয়েতের আকাশে মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত করলো ইরান
editor
প্রকাশিত মার্চ ২, ২০২৬, ০৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ
Manual7 Ad Code
ডিজিটাল ডেস্ক :
মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতের আকাশসীমায় ইরানের মিসাইলের আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘এফ-১৫’ ফাইটার জেট বিধ্বস্ত হয়েছে।
Manual6 Ad Code
সোমবার (২ মার্চ) দুপুর ১২টা নাগাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে এই বিধ্বংসী দৃশ্য দেখা গেছে, যেখানে আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় থাকা যুদ্ধবিমানটি হঠাৎ আক্রান্ত হয়ে আছড়ে পড়ে।
Manual8 Ad Code
ভিডিও ফুটেজে অন্তত একজন পাইলটকে প্যারাসুট যোগে নিরাপদে ইজেক্ট করতে দেখা গেলেও মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে।
Manual1 Ad Code
এই ভয়াবহ সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি এক কঠোর বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইরান বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো সংলাপে বসবে না।
লারিজানির এই মন্তব্য মূলত সেইসব আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের পাল্টা জবাব, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে তেহরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরুর অনুরোধ পাঠিয়েছে। তিনি এই ধরনের প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
Manual4 Ad Code
ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী এই নেতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ট্রাম্পের ‘মিথ্যা আশ্বাস’ পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে এক ভয়াবহ বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিয়েছে। লারিজানির মতে, মার্কিন প্রশাসন এখন নিজ দেশের সেনাদের ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন যে, ট্রাম্পের ভ্রান্ত পদক্ষেপের কারণে তাঁর বহুল প্রচারিত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ স্লোগানটি এখন কার্যত ‘ইসরায়েল ফার্স্ট’ স্লোগানে রূপান্তরিত হয়েছে। ইসরায়েলের আঞ্চলিক ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন সেনাদের জীবন বলি দিচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কুয়েতে এই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা এবং তেহরানের অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মোড় এনেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন যুদ্ধবিমান আক্রান্ত হওয়ার পর ওয়াশিংটন পাল্টা কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
অন্যদিকে, ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে চলমান ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি সংঘাতে রূপ নেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে কুয়েত ও আশপাশের আকাশসীমায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।