ইরানের জব্দকৃত যেসব সম্পদ ফেরত দিতে বাধ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের জব্দকৃত যেসব সম্পদ ফেরত দিতে বাধ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ১২, ২০২৬, ০৫:০০ পূর্বাহ্ণ
Manual2 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
কাতার ও অন্যান্য দেশের ব্যাংকে থাকা ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।ভিডিও সংবাদ ফিচার
Manual7 Ad Code
স্পর্শকাতর বিষয়ের কারণে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্রটি রয়টার্সকে বলেছেন, সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, যা এই আলোচনার একটি মূল বিষয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থ্যাৎ হরমুজে নিরাপদে জাহাজ চলতে দেবে এমন শর্তে জব্দকৃত সম্পদ ছেড়ে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
Manual4 Ad Code
ঊর্ধ্বতন ওই সূত্রটি ওয়াশিংটন ঠিক কত পরিমাণ সম্পদ মুক্ত করতে রাজি হয়েছে তার সঠিক পরিমাণ জানায়নি। তবে অপর এক ইরানি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কাতারে থাকা ইরানের ৬ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত তহবিল মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে।
সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি এবং কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য রয়টার্সের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
Manual6 Ad Code
২০১৮ সালে প্রাথমিকভাবে জব্দ হওয়া এই ৬ বিলিয়ন ডলার ২০২৩ সালে একটি মার্কিন-ইরান বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইরানের মিত্র ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন তহবিলটি পুনরায় জব্দ করে।
সে সময় মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ইরান অদূর ভবিষ্যতে এই অর্থ ব্যবহার করতে পারবে না এবং ওয়াশিংটন প্রয়োজনে অ্যাকাউন্টটি সম্পূর্ণ জব্দ করার অধিকার রাখে।
রয়টার্স জানিয়েছে, এই তহবিলের উৎস ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ইরানের তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ। ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করে দেশটির ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর এই অর্থ দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকগুলোতে আটকে যায়।
Manual5 Ad Code
পরবর্তীতে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে দোহার মধ্যস্থতায় হওয়া বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় এই অর্থ কাতারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়। ওই চুক্তিতে ইরানে আটক পাঁচজন মার্কিন নাগরিকের বিনিময়ে এই তহবিল মুক্ত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রে আটক পাঁচজন ইরানিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
সে সময় মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছিলেন, এই অর্থ কেবল মানবিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে এবং মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের তত্ত্বাবধানে ইরানে খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কৃষি পণ্য সরবরাহের জন্য অনুমোদিত বিক্রেতাদের মাধ্যমে তা খরচ করা হবে।