প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

মধ্যপ্রাচ্যে আরো কয়েক হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্যে আরো কয়েক হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

Manual8 Ad Code

নিউজ ডেস্ক:
কয়েকদিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে আরো কয়েক হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এদের মধ্যে দেশটির বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং সেটির পাহারায় থাকা কয়েকটি যুদ্ধজাহাজে অবস্থানরত প্রায় ছয় হাজার সেনা রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য দিয়েছেন।

এ ছাড়া ওই সেনাদের মধ্যে বক্সার অ্যামফিবিয়াস রেডি গ্রুপ এবং তাদের সঙ্গে থাকা মেরিন কোরের টাস্কফোর্স, ১১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের আরো প্রায় ৪ হাজার ২০০ সদস্য রয়েছেন। তারা চলতি মাসের শেষ দিকে ওই অঞ্চলে পৌঁছাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত এই সামরিক শক্তি আগে থেকেই ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর সঙ্গে যুক্ত হবে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ২২ এপ্রিল শেষ হবে, এমন সময়ে ওই অঞ্চলে এই বাড়তি সামরিক শক্তি জড়ো করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দপ্তর পেন্টাগনের ভাষ্য অনুযায়ী, আনুমানিক ৫০ হাজার মার্কিন সেনাসদস্য ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে যুক্ত রয়েছে। নতুন করে পাঠানো সেনা সদস্যরা তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন।

তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার ইরানের বন্দরগুলোতে যাওয়া এবং সেখান থেকে আসা নৌযানের ওপর অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেন। ইরানের শাসকগোষ্ঠী যেন হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে বাধ্য হয়, সে জন্য চাপ প্রয়োগ করতে চাইছেন তিনি। পারস্য উপসাগর দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের তেল পরিবহনের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ।

ট্রাম্প একই সঙ্গে তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে আলোচনার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতেও চাপ দিচ্ছেন। গেল সপ্তাহান্তে কোনো সমঝোতা ছাড়াই ওই আলোচনা শেষ হয়। এ সপ্তাহের শেষ দিকে আবার আলোচনা শুরু হতে পারে বলে ট্রাম্প জানিয়েছেন।

ট্রাম্প বুধবার ফক্স বিজনেসকে বলেন, তার ধারণা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ‘খুব দ্রুত’ শেষ হতে পারে। তিনি আশা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র পেতে বাধা দিতে পারে, তাহলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই গ্যাসের দাম যুদ্ধের আগের পর্যায়ে নেমে আসবে। ট্রাম্প বলেন, ‘যখন এটার মীমাংসা হবে তখন গ্যাসের দাম ব্যাপকভাবে কমে যাবে।’

Manual5 Ad Code

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের জবাবে ইরান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। দেশটির সামরিক কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ চলতে থাকলে ইরান পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর ও লোহিত সাগর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ করে দেবে। ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম তাকে উদ্ধৃত করে বলেছে, ‘ইরান তার জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ রক্ষায় শক্তিশালী পদক্ষেপ নেবে।’

Manual2 Ad Code

এই পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে সামরিক শক্তি পাঠানো নিয়ে দেশটির নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অ্যাডমিরাল জেমস ফগো বলেছেন, অতিরিক্ত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ পৌঁছালে ইরানের ওপর চাপ আরো বাড়বে এবং শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ও অন্য জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের হাতে আরো বেশি বিকল্প থাকবে। জেমস ফগো বর্তমানে নর্দার্ন ভার্জিনিয়ার সেন্টার ফর মেরিটাইম স্ট্র্যাটেজির ডিন।

Manual7 Ad Code

জেমস ফগো বলেন, ‘আপনার কাছে যত বেশি টুল থাকবে, আপনার তত বেশি বিকল্প থাকবে।’ তিনি অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানোকে দেখছেন পরিস্থিতি খারাপ হলে ‘বাড়তি সক্ষমতা’ হিসেবে।

Manual2 Ad Code

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, যদি ইরান তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা না ছাড়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো চুক্তি না করে সে জন্য ট্রাম্প ‘বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সব বিকল্প খোলা রেখেছেন’।

তিনি বলেন, ট্রাম্প, ভ্যান্স ও মার্কিন আলোচকেরা যুক্তরাষ্ট্রের সীমারেখা খুব স্পষ্ট করে দিয়েছেন। অবরোধ কার্যকর থাকলে চুক্তির জন্য ইরানের মুখিয়ে হয়ে ওঠা আরো বাড়বে বলে মন্তব্য করেন ক্যারোলিন লেভিট।

অবশ্য বিষয়টি নিয়ে পেন্টাগন এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযানের দায়িত্বে থাকা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

অতিরিক্ত বাহিনী পৌঁছালে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে তিনটি বিমানবাহী রণতরি থাকবে, যার প্রতিটিতে রয়েছে কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন জানুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে আছে। ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ফেব্রুয়ারিতে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে পৌঁছায়। এর আগে জাহাজটি গত বছর ইউরোপে ছিল এবং এ বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বাহিনীর অভিযানে অংশ নেয়।

মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ মঙ্গলবার ‘হর্ন অব আফ্রিকা’র (সোমালি উপত্যকা) কাছে ছিল। সেখান থেকে সেটি মধ্যপ্রাচ্যে যাবে বলে দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এদিকে তিনটি জাহাজের বক্সার অ্যামফিবিয়াস রেডি গ্রুপ গত সপ্তাহে হাওয়াই ছেড়ে যায়। তাদের মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে আরও দুই সপ্তাহ লাগবে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তাদের সঙ্গে থাকা ১১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটে ৮০০–এর বেশি সদস্যের একটি পদাতিক ব্যাটালিয়ন, হেলিকপ্টার ও নৌ অবতরণযান আছে। একই ধরনের আরেকটি ইউনিট, ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট, মার্চের শেষ দিকে জাপানের ওকিনাওয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছায়।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code