স্পোর্টস ডেস্ক:
চোখে তাঁর এখনও কিশোর বয়সের ছাপ, মাঠে বল হাতে আগ্রাসন থাকলেও সেলিব্রেশনে কখনও তাঁকে উগ্র হতে দেখা যায়নি। দক্ষিণ আফ্রিকার সেই পেসার কাগিসো রাবাদা এবার জড়িয়ে পড়েছেন মাদক কেলেঙ্কারিতে। ক্রিকেটে ‘ডোপ টেস্ট’ চালু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৪৪ জনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আইসিসি। যাদের কেউ কেউ শক্তি বাড়াতে গিয়ে আবার কেউ কেউ ব্যথা কমাতে গিয়ে নিষিদ্ধ ওষুধ নিয়েছেন। তবে শুধু বিনোদন বা রিফ্রেশের কারণে মাদক গ্রহণের ঘটনা খুব বেশি নেই।
অস্ট্রেলিয়ার প্রয়াত কিংবদন্তি ক্রিকেটার শেন ওয়ার্নের নাম জড়িয়েছিল কোকেন সেবনের দায়ে, পাকিস্তানের শোয়েব আকতার ও মোহাম্মদ আসিফ নিষিদ্ধ হয়েছিলেন মাদক গ্রহণের কারণে। এমন বহু প্রতিভা সময়ের আগে শেষ হয়েছে শুধু এই কেলেঙ্কারি মাথায় নিয়ে। তবে তাদের মধ্যে অনেকেই শুধরে নিয়ে আবার মাঠে ফিরতে পেরেছেন। তাদের মতো রাবাদাও কি পারবেন মাদকের কালোছায়া কাটিয়ে মাঠে ফিরতে?
Manual6 Ad Code
‘আমি ভুল করেছি, দুঃখ প্রকাশ করছি সমর্থকদের কাছে। ক্রিকেট আমার কাছে শুধু একটি খেলাই নয়, বরং এটা আমার জীবনের বড় একটা সুযোগ ও সম্মান। আমি মাঠে ফেরার অপেক্ষায় থাকব।’ আপাতত সাময়িক নিষেধাজ্ঞায় থাকলেও রাবাদা এখনও জানেন না তাঁর শাস্তি কত মাস বা কত বছর হতে পারে। আগামী সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকার মাদকবিরোধী সংস্থা রাবাদার শাস্তির মেয়াদ জানাতে পারে।
Manual2 Ad Code
ক্রিকেটে প্রথম মাদক কেলেঙ্কারির ঘটনা সামনে আসে ১৯৮৭ সালের মে মাসে। যখন গাজা সেবনের কারণে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ইয়ান বোথামের ওপর। সেই ঘটনা আলোড়ন তোলে ক্রিকেটবিশ্বে। নব্বইয়ের দশকে কোকেন গ্রহণ করে ২২ মাস নিষিদ্ধ হয়েছিলেন সাবেক ইংলিশ পেসার ইয়ান স্মিথ। মাঝে বেশ কয়েক বছর এই ধরনের ঘটনা শিরোনামে আসেনি। এরপর ২০০৩ সালে শেন ওয়ার্নের মাদক কেলেঙ্কারি ট্যাবলয়েডগুলোর বাজার গরম করে দেয়। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই লেগ স্পিনার কোকেন সেবনের দায়ে বিশ্বকাপের মাঝপথ থেকেই ফিরে আসেন। নিষিদ্ধ হন এক বছর। এর আগে সিগারেট, অ্যালকোহল, নাইট পার্টিসহ বিভিন্ন ব্যাপারে নাম জড়িয়ে যায় তাঁর। তারকা এই লেগস্পিনারকে ‘হলিউড’ ডাকনাম দেয় ব্রিটিশ মিডিয়া। যদিও শেষ দিকে রিহ্যাব করে মাদক থেকে মুক্ত হতে পেরেছিলেন ওয়ার্ন।
অস্ট্রেলিয়ান এ তারকার পর ২০০৬ সালে দুই পাকিস্তান ক্রিকেটারের নাম চলে আসে ডোপিং কেলেঙ্কারিতে। শোয়েব আকতার ও মোহাম্মদ আসিফ শক্তিবর্ধনের জন্য নেন নিষিদ্ধ ন্যানড্রনিল স্টেরয়েড। মূত্র পরীক্ষায় তা ধরা পড়লে শোয়েব দুই বছর আর আসিফ এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন ক্রিকেটে। তারপর অবশ্য শোয়েব সুস্থ জীবনে ফিরতে পেরেছিলেন। কিন্তু আসিফ আবার জড়িয়ে যান মাদকের সঙ্গে। সর্বশেষ ২০১৭ সালে দুবাই বিমানবন্দরে মাদকসহ ধরা পড়েন তিনি। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটে গত বছরের এপ্রিলে এমন একটা কেলেঙ্কারির খবর সামনে আসে। কোকেন সেবনের দায়ে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় ডগ ব্রেসওয়েলকে। সেই তালিকায় সর্বশেষ নাম এবার কাগিসো রাবাদা।