স্পোর্টস ডেস্ক:
ক্রীড়ার মহাযজ্ঞ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় বসছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের আসর। আগামী ১১ জুন মেক্সিকোতে জমকালো উদ্বোধনের মাধ্যমে পর্দা উঠবে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই মহাযজ্ঞের। ইতোমধ্যে অংশ নিতে যাওয়া ৪৮টি দেশের প্রায় সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন। এখন দলগুলোর চলছে বেস ক্যাম্পে যাওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি।
গ্রুপ পর্বের খেলা চলবে ১১ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত। টুর্নামেন্টের শুরুতেই দলগুলো যাতে মানিয়ে নিতে পারে, সে জন্য আয়োজক তিন দেশের বিভিন্ন শহরে অত্যাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ২০২৬ বিশ্বকাপের দলগুলো কোন শহরে থাকছে এবং কোথায় তাদের অনুশীলন চলবে:
ক্যালিফোর্নিয়া ও পশ্চিম উপকূল (যুক্তরাষ্ট্র)
যুক্তরাষ্ট্র: স্বাগতিকরা আস্তানা গাড়ছে ক্যালিফোর্নিয়ার আরভাইনে। সাবেক সামরিক বিমানঘাঁটিতে তৈরি ‘গ্রেট পার্ক স্পোর্টস কমপ্লেক্স’-এ অনুশীলন করবে তারা।
আর্জেন্টিনা: বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা থাকবে মিসৌরির কানসাস সিটিতে। ‘স্পোর্টিং কেসি পারফরম্যান্স সেন্টার’-এ কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে অনুশীলন করবে লিওনেল মেসির দল। কাতারের মতো এবারও তাদের জন্য থাকছে ঐতিহ্যবাহী বারবিকিউ রান্নার বিশেষ ব্যবস্থা।
আলজেরিয়া: প্রথম দল হিসেবে কানসাসে ক্যাম্প নিশ্চিত করেছে তারা। কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রক চক পার্ক’-এ অনুশীলন করবে দলটি।
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা: ১০ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা দলটি সেন্ট লুইসের ‘ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি’-র হাই পারফরম্যান্স সেন্টারে অনুশীলন করবে। এই শহরে ইউরোপের বাইরে সবচেয়ে বড় বসনিয়ান জনগোষ্ঠীর বাস।
চেকিয়া: ২০ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে তারা। টেক্সাসের ম্যান্সফিল্ড মাল্টিপারপাস স্টেডিয়ামে অনুশীলন করবে চেক দল।
ডিআর কঙ্গো: ৫২ বছর পর (১৯৭৪ সালে জায়ার নামে খেলেছিল) বিশ্বকাপে ফিরছে তারা। টেক্সাসের ‘হিউস্টন স্পোর্টস পার্ক’-এ অনুশীলন করবে দলটি।
ব্রাজিল: পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ঘাঁটি গাড়ছে নিউইয়র্ক সিটিতে। তবে নেইমার-ভিনিসিউসদের অনুশীলন হবে নিউজার্সির ‘কলম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি’-তে।
ক্রোয়েশিয়া: গত বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান অধিকারীরা কোনো ভেন্যু শহরে না থেকে ভার্জিনিয়ার আলেক্সান্দ্রিয়ার ‘এপিস্কোপাল হাই স্কুল কমপ্লেক্স’-এ ক্যাম্প করছে।
কেপ ভার্দে: বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সুযোগ পাওয়া দলটি ফ্লোরিডার ট্যাম্পায় ‘ওয়াটার্স স্পোর্টসপ্লেক্স’-এ অনুশীলন করবে।
কুরাসাও: কেপ ভার্দের মতো ওলন্দাজ অঞ্চলের এই দ্বীপদেশটিরও এটি প্রথম বিশ্বকাপ। তারা ফ্লোরিডার ‘ফ্লোরিডা আটলান্টিক বিশ্ববিদ্যালয়’-এ অনুশীলন করবে।
হাইতি: ৫০ বছর পর (শেষ ১৯৭৪) বিশ্বকাপে ফেরা দলটি নিউজার্সির ‘স্টকটন বিশ্ববিদ্যালয়’-এ অনুশীলন করবে।
ইরাক: ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা ইরাক দল থাকবে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার রাজকীয় ‘দ্য গ্রিনব্রায়ার রিসোর্ট’-এ, যেখানে আমেরিকার ২৮ জন প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন সময়ে অতিথি হিসেবে থেকেছেন।
উজবেকিস্তান: বিশ্বকাপে অভিষেক ঘটা এই দলটি জর্জিয়ার ম্যারিয়েটায় সদ্য উদ্বোধন হওয়া ‘আটলান্টা ইউনাইটেড ট্রেনিং সেন্টার’-এ অনুশীলন করবে।
মেক্সিকো ও কানাডা ক্যাম্প
মেক্সিকো (স্বাগতিক): মেক্সিকো তাদের নিজেদের রাজধানী মেক্সিকো সিটির ‘সেন্ত্রো দে আলতো রেন্দিমিয়েন্তো’-তেই ক্যাম্প করছে। উচ্চ-উচ্চতার আবহাওয়ার সুবিধা নিতেই তাদের এই সিদ্ধান্ত।
কানাডা (স্বাগতিক): ঘরের মাঠের সুবিধা নিতে কানাডা দল ভ্যাংকুভারের ‘ন্যাশনাল সকার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার’-এ অনুশীলন করবে।
পানামা: স্বাগতিক কানাডা ছাড়া পানামাই একমাত্র দল যারা কানাডায় বেস ক্যাম্প করছে। ওন্টারিওর ‘নোটাওয়াসাগা ট্রেনিং সেন্টার’-এ থাকবে তারা।
দক্ষিণ আফ্রিকা: মেক্সিকোর পাচুকার ‘ইউনিভার্সিদাদ দেল ফুতবোল’-এ অনুশীলন করবে বাফানা বাফানারা। উদ্বোধনী ম্যাচেই তারা স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে।
দক্ষিণ কোরিয়া: মেক্সিকোর গুয়াদালাহারার ‘চিভাস ভার্দে ভায়ে’-তে অনুশীলন করবে এশিয়ার পরাশক্তিরা।
স্পেন: মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় ম্যাচ থাকলেও তারা ক্যাম্প করছে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ‘বেলর স্কুল’-এ। দলের কৌশল গোপন রাখতে এই স্কুলের মাঠের চারপাশে ১০ ফুট উঁচু কালো পর্দা দেওয়া হচ্ছে।