স্পোর্টস ডেস্ক :
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের বিতর্কিত মন্তব্যের পর দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ব্রাজিল বুয়েনস আইরেসে নিযুক্ত নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করেছে এবং একই সঙ্গে দেশটিতে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং দেশটির সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতিকে নিয়ে মিলেইয়ের কড়া ও অবমাননাকর মন্তব্যের পরই এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয় ব্রাসিলিয়া। ঘটনার সূত্রপাত সাও পাওলোতে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী প্রচারণা অনুষ্ঠানে। ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারোর এক রাজনৈতিক আয়োজনে অংশ নিয়ে মিলেই বর্তমান ব্রাজিল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন।
সেখানে লুলা দা সিলভার নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও তাকে ‘দণ্ডিত অপরাধী’ ও ‘চোর’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। একই বক্তব্যে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেক্সান্দ্রে দে মোরায়েসকেও কটূক্তি করেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট।
Manual4 Ad Code
মিলেইয়ের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, কোনো বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ব্রাজিলের ভূখণ্ডে দাঁড়িয়ে দেশের প্রেসিডেন্ট, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জনগণকে লক্ষ্য করে এমন ভাষা ব্যবহার করেছেন—এমন ঘটনা নজিরবিহীন। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
Manual4 Ad Code
ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এডসন ফাচিনও মিলেইয়ের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তার মতে, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের একজন বিচারপতিকে প্রকাশ্যে অপমান করা অত্যন্ত গুরুতর ও অসম্মানজনক ঘটনা।
এদিকে আর্জেন্টিনার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও মিলেইয়ের বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফার্নান্দেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেন, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ও বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের নেতাকে এভাবে আক্রমণ করা গ্রহণযোগ্য নয়।
Manual4 Ad Code
বুয়েনস আইরেসের গভর্নর আক্সেল কিচিলোফও একই ধরনের অবস্থান নিয়েছেন। তিনি ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, মিলেইয়ের মন্তব্য আর্জেন্টিনার সাধারণ মানুষের মনোভাবের প্রতিফলন নয়। দক্ষিণ আমেরিকার দুই প্রভাবশালী দেশের মধ্যে বাণিজ্য, কূটনীতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে।