ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন ও সরকার গঠনের আশ্বাস দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘বিএনপি তাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের সঙ্গীদের নিয়ে নির্বাচন ও সরকার গঠনের যে প্রতিশ্রুতি ইতোমধ্যে দিয়েছে, তা থেকে এক চুলও সরে যাবে না।’
Manual2 Ad Code
শুক্রবার (৮ আগস্ট) বিকেলে ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, এলডিপি ও লেবার পার্টির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠকে জোটের নেতারাও বক্তব্য দেন।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে রমজান শুরুর আগে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে যুগপতের মিত্রদের সঙ্গে এই বৈঠক করেন তারেক রহমান।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান জোটের ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আগামী দিনগুলোতে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র হতে পারে, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সেসব মোকাবিলা করতে হবে।’
Manual3 Ad Code
দুই ঘণ্টার বৈঠকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং করণীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জোটের নেতারা বৈঠকে জোটবদ্ধ নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, ‘আন্দোলনেও আমরা বিএনপির সঙ্গে ছিলাম, আগামী দিনগুলোতেও একসঙ্গে থাকব।’
এ সময় তারা বিএনপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলের যে ক্যাম্পেইন চলছে, সে বিষয়ে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন।
এর আগে সভার সূচনা বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের ঐক্যের মাধ্যমে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরে জুলাই-আগস্টে ছাত্র, শ্রমিক ও জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে।’
তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের রায়ে আমরা বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।’
বৈঠকে ১২ দলীয় জোটের প্রধান মোস্তফা জামাল হায়দার ও জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের আহ্বায়ক ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ নিজ নিজ জোটের এবং এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ ও বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান নিজ দলের প্রতিনিধিত্ব করেন।
দুই জোটের নেতাদের মধ্যে বাংলাদেশ এলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, বিকল্পধারা বাংলাদেশের অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারি, ইসলামী ঐক্যজোটের অ্যাডভোকেট এমএ রকিব ও মাওলানা আব্দুল করিম, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) আহসান হাবিব লিংকন, জমিয়তের গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, ন্যাশনাল লেবার পার্টির লায়ন মো. ফারুক রহমান, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, গণদলের এটিএম গোলাম মওলা চৌধুরী, বাংলাদেশ ন্যাপের এমএন শাওন সাদেকী ও ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল বারিক, ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) খোকন চন্দ্র দাস, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টির এস এম শাহাদাত হোসেন, এনডিপির আবদুল্লাহ আল হারুন সোহেলসহ জোটের শরিক দলগুলোর নেতারা ছিলেন। এরমধ্যে শাওন সাদেকীর বাড়ি বিয়ানীবাজারের মাথিউরায়। সভায় তিনি বক্তব্যও রাখেন। তিনি পতিত শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে মামলা-নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। তিনি বলেন, সিলেট-৬ বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ নির্বাচনী আসনে বিএনপির নেত্বত্বে জোটবদ্ধ নির্বাচনে আমি প্রার্থী হতে চাই। সে লক্ষ্যে কাজ করছি। বহু মামলায় কারাবরণের পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী চেতনায় ঐক্যবদ্ধ ছিলাম।
বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু উপস্থিত ছিলেন।
বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ১২ দল নিয়ে ‘১২ দলীয় জোট’ এবং ১০ দল নিয়ে ‘জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট’ যুগপৎভাবে অংশ নেয়।