প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২১শে রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

তারকারা হঠাৎ হাতে-গালে সংখ্যা লিখছেন কেন?

editor
প্রকাশিত নভেম্বর ২৭, ২০২৫, ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ
তারকারা হঠাৎ হাতে-গালে সংখ্যা লিখছেন কেন?

Manual1 Ad Code

 

বিনোদন ডেস্ক:

নিয়মিত বিনোদন অঙ্গনের নানা তারকাদের যারা ফলো করেন, তাদের কাছে ব্যাপারটি চমকে যাওয়ার মতো হতে পারে! তারকাদের কারও গালে, আবার কারও হাতে- দেখা যাচ্ছে নানা সংখ্যা। বিষয়টি হঠাৎ করে চোখে পড়ায় অনেকের বোধগম্য নাও হতে পারে। কিন্তু এর রহস্য জানলে মন খারাপ হতে পারে অনেক ভক্তদেরই।

 

Manual4 Ad Code

বিশেষ করে নারী শিল্পীদের মাঝেই- যেমন অভিনেত্রী, গায়িকা কিংবা মডেল, তাদের মাঝেই দেখা গেল এই প্রবণতা। অনেকে হয়তো বুঝতেও পারছেন, ব্যাপারটা কী! কারণ, সংখ্যাগুলো প্রকাশের সঙ্গে তারা স্লোগান লিখছেন ‘মাই নাম্বার, মাই রুলস’। মূলত, ডিজিটাল সহিংসতা ও সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে তারকাদের এক নতুন প্রতিবাদী আন্দোলন এটি। এতে সামাজিক মাধ্যমে অংশ নিয়েছেন দেশের একঝাঁক নারী তারকারা। জানা গেছে, তারকারা তাদের ছবিতে যে সংখ্যাটি প্রকাশ করছেন, তা নির্দেশ করছে তারা প্রতিদিন গড়ে কতবার অনলাইন হয়রানি বা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হন।

গত ২৫ নভেম্বর এই আন্দোলনের সূচনা করেন অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। নিজের ছবির সঙ্গে হাতে ‘৯’ সংখ্যাটি লিখে তিনি জানান, তিনি প্রতিদিন অন্তত ৯টি হয়রানির মুখে পড়েন।

 

Manual1 Ad Code

তিশা তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘সংখ্যা থেকে কণ্ঠস্বর, আসুন আমাদের গল্প সবার সামনে তুলে ধরি। তোমার নম্বরের গল্প বলো, আরও জোরে আওয়াজ তোলো। মানুষ হয়তো কেবল একটি সংখ্যা দেখতে পারছেন, কিন্তু আমি যা সহ্য করেছি এবং যা কাটিয়ে উঠেছি, তার সবই দেখতে পাচ্ছি।’

Manual7 Ad Code

সবশেষে তিনি ‘মাই নাম্বার, মাই রুলস’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে সবাইকে ডিজিটাল সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

তিশার আহ্বানে সাড়া দিয়ে চলচ্চিত্র, নাটক, এবং সংগীত জগতের আরও অনেক তারকা এই প্রতিবাদী আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন। তারা তাদের দৈনিক হয়রানির সংখ্যা প্রকাশ করে এই বার্তা দিচ্ছেন যে, অনলাইনে নারীরা প্রতিনিয়ত কতটা সহিংসতা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

যেমন, অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘির সংখ্যা ৩, অভিনেত্রী রুনা খানের সংখ্যা হলো ২৪, অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদের সংখ্যা ৭২, অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনার সংখ্যা ৯৯ প্লাস, আর অভিনেত্রী শবনম ফারিয়ার সংখ্যাটি সবচেয়ে বেশি, ১০০০। যার অর্থ, তিনি প্রতিদিন হাজারবার হয়রানির শিকার হন। এছাড়াও গায়িকা সাজিয়া সুলতানা পুতুলের সংখ্যা ৯, মডেল ও অভিনেত্রী মারিয়া নূর লিখেছেন ৭।

এদিকে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ তার পোস্টে তুলে ধরেছেন হয়রানির শিকার হওয়ার যন্ত্রণা। তিনি লিখেছেন, “তারা বলেছিল, ‘এটা তো শুধু একটা কমেন্ট। উপেক্ষা করে যাও।’ আমি উপেক্ষা করেছি ১ বার, ২ বার, ৩ বার নয় বহুবার। কিন্তু এটা থামেনি। এই সংখ্যা আরও বেড়েছে। এটাই আমার গল্প। এবং এটার শুরুটা এবার নম্বর দিয়ে।”

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক মাধ্যমে নারী অভিনয়শিল্পীরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হলেও এর কোনো প্রতিকার পাননি। দিনে দিনে এই সহিংসতা আরও বেড়ে যাওয়ায় তারকারা এখন নীরবতা ভেঙে নিজেদের প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে এই ‘সংখ্যা’কে বেছে নিয়েছেন। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো, ডিজিটাল মাধ্যমে নারী সহিংসতা ও সাইবার বুলিং বন্ধ করা এবং এর বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করা।

Manual8 Ad Code

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৭৮৯১০১১
১১৩৪১৫১৬১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৯৩০৩১  

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code