বাংলা সিনেমায় আমি আমার নিজের মতো হতে পেরেছি: রিয়া সেন
বাংলা সিনেমায় আমি আমার নিজের মতো হতে পেরেছি: রিয়া সেন
editor
প্রকাশিত নভেম্বর ২৯, ২০২৫, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
Manual5 Ad Code
Manual8 Ad Code
বিনোদন ডেস্ক:
খুব অল্প বয়সেই বলিউডে নিজের জায়গা করে নিয়েছিলেন অভিনেত্রী রিয়া সেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে ফাল্গুনী পাঠকের জনপ্রিয় গান ‘ইয়াদ পিয়া কি আনে লগি’–র মিউজিক ভিডিও দিয়ে রাতারাতি পরিচিতি পান তিনি। ১৯৯৯ সালে তামিল সিনেমা ‘তাজমহল’ দিয়ে বড়পর্দায় অভিষেক হয় তার।
দুই দশকের বেশি সময়ে কাজ করেছেন ৩০টিরও বেশি সিনেমায়। ‘স্টাইল’, ‘কেয়ামত’, ‘ঝংকার বিটস’, ‘শাদি নাম্বার ওয়ান’, ‘আপনা সাপনা মানি মানি’—এমন বহু হিট সিনেমায় তিনি হয়ে ওঠেন পরিচিত মুখ। বাংলাদেশের সিনেমাতেও দেখা গেছে তাকে। এরপর শুরু অভিনয়ের পথচলা, যা তাকে পৌঁছে দেয় বলিউডের প্রথম সারির তরুণ অভিনেত্রীদের কাতারে। কিন্তু সফলতার পরও একটা সময় ধীরে ধীরে গতি কমে আসে তার ক্যারিয়ারজীবনে। কিন্তু কেন? সম্প্রতি সেই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন রিয়া সেন।
এর আগে ২০০৫ সালে রিয়া সেনের ব্যক্তিগত একটি ভিডিও ফাঁস হয়, যা নিয়ে বলিপাড়ায় তৈরি হয় তুমুল বিতর্ক। সেই সময় অনেক সিনেমার প্রস্তাব হারান তিনি। অনেকের মতে, এ ঘটনাই তার বলিউড ক্যারিয়ারকে বড়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ধীরে ধীরে কাজের পরিমাণ কমে আসে। আর ফিরতে পারেননি আগের অবস্থানে। এখন কাজ করছেন মূলত পার্শ্বচরিত্রে। চলতি বছর তাকে দেখা গেছে হিন্দি সিনেমা ‘নাদানিয়া’–তে। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার ওয়েব সিরিজ ‘পরিণীতা’।
সম্প্রতি পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিয়া সেন বলেন, ক্যারিয়ারের শুরুতে কাজ নিয়ে তিনি উৎসাহে ভরপুর ছিলেন। কিন্তু দ্রুতই বুঝতে পারেন— নিজের করা চরিত্রগুলো তার সঙ্গে মানাচ্ছে না। অভিনেত্রী বলেন, আমি যে চরিত্র করছিলাম, তাতে আমি স্বচ্ছন্দ ছিলাম না। তখন বলিউডে সবকিছুই নির্ভর করত গ্ল্যামারের ওপর— কী পোশাক পরছি, কী মেকআপ করছি; এসব নিয়ে চাপ ছিল প্রচণ্ড। আর অল্প বয়সেই ‘সাহসী অভিনেত্রী’র তকমা পাওয়াটা তাকে মানসিকভাবে আঘাত করেছিল। তিনি বলেন, আমি তখন স্কুলে পড়তাম। অথচ তখন থেকেই আমাকে লেবেল দেওয়া শুরু হয়। গ্ল্যামারাস ইমেজ ধরে রাখার চাপ তাকে আরও ক্লান্ত করে তোলে। শেষে সচেতনভাবেই থামিয়ে দেন বলিউডের কাজ বলে জানান রিয়া সেন। তিনি বলেন, যা বলিউডের জন্য ‘ক্ষতি’, তা হয়ে ওঠে বাংলা সিনেমার জন্য লাভ।
রিয়া নতুনভাবে আবিষ্কার হন ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘নৌকাডুবি’ (২০১১) সিনেমায়। এরপর ‘জাতিস্মর’, ‘হিরো ৪২০’- একাধিক সিনেমায় কাজ করে নিজের অভিনয়শক্তি নতুন করে প্রমাণ করেন। অভিনেত্রী বলেন, বাংলা সিনেমায় আমি আমার নিজের মতো হতে পেরেছি। পরিচালকরা বুঝতে পেরেছেন, আমি কী দিতে পারি।
Manual1 Ad Code
স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের উত্থান ক্যারিয়ারে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। ‘রাগিণী এমএমএস: রিটার্নস’, ‘পয়জন’, ‘মিসম্যাচ’- এর মতো ওয়েব সিরিজে দেখা গেছে রিয়াকে। অভিনেত্রী বলেন, ওটিটির কাজ আমাকে নানা চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দিচ্ছে। এখানে আমি নিজেকে বেশি মানানসই মনে করি।
Manual7 Ad Code
উল্লেখ্য, অভিনেত্রী রিয়া সেন পারিবারিকভাবেই ছিল অভিনয়ের উজ্জ্বল ইতিহাস। কারণ বলিউডের মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের নাতনি তিনি। এবং অভিনেত্রী মুনমুন সেনের মেয়ে রিয়া সেন।