প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১১ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

চীনও বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায়

editor
প্রকাশিত ডিসেম্বর ৮, ২০২৫, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
চীনও বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায়

Manual1 Ad Code

 

Manual1 Ad Code

প্রজন্ম ডেস্ক:

Manual2 Ad Code

 

Manual1 Ad Code

ভারতের পর এবার চীন সরকারও বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায় রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে যে দলই ক্ষমতায় আসুক তাদের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ইচ্ছুক দেশ দুটি। এ জন্য বাংলাদেশের তিস্তা উন্নয়ন প্রকল্পসহ অন্য বড় প্রকল্পে অর্থায়ন ও চুক্তির বিষয়ে চীন ধীরে চলার নীতি গ্রহণ করেছে। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো একথা নিশ্চিত করেছেন।

 

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, তিস্তা মহাপরিকল্পনার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য দুদেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে চুক্তি স্বাক্ষর এখনো হয়নি। তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে চলতি মাসেই দুদেশের মধ্যে চুক্তি করার সম্ভাবনা ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার চীনের ঋণে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছে। চুক্তিতে ঋণ ও বিনিয়োগের বিষয়গুলো বিবেচনা করা হচ্ছে। সূত্র জানায়, যেহেতু তিস্তা একটি বড় প্রকল্প এবং এতে বড় বিনিয়োগ করতে হবে, তাই এই প্রকল্প এগিয়ে নিতে ধীরে চলার নীতি নিয়েছে চীন। এ জন্য চলতি ডিসেম্বরেই তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি চুক্তির সম্ভাবনা থাকলেও তা আপাতত হচ্ছে না। এ ধরনের বড় প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য চীন নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় রয়েছে।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিভিন্ন দিকগুলো নিয়ে এখন বড় কোনো কাজ হচ্ছে না। নিয়মিত কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ বছর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) বৈঠকও হচ্ছে না। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ বছর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হলেও চীনের পক্ষ থেকে আগ্রহ দেখানো হয়নি। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতাসীন হলে ফরেন অফিস কনসালটেশন অনুষ্ঠানের ইঙ্গিত ঢাকাকে দিয়েছে বেইজিং। এ ছাড়া অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতেও চীন ধীরে চলার নীতিতে চলছে।

Manual5 Ad Code

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সর্বশেষ ১৩তম ফরেন অফিস কনসালটেশন ২০২৪ সালের ৩ জুন বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় দেশ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কানেক্টিভিটি এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে এবং গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিগুলো নবায়নের বিষয়ে অগ্রগতি হয়, যা ছিল দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এ ছাড়া চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) এর আওতায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতা, বিশেষ করে অবকাঠামো, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। পদ্মা সেতু, মৈত্রী সুপারথার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং অন্য সংযোগ প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও পর্যালোচনা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী এ বছর ঢাকায় দুদেশের মধ্যে ১৪তম ফরেন অফিস কনসালটেশন হওয়ার কথা ছিল, যেখানে বাংলাদেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু চীনের ধীরে চলার নীতির কারণে এ বছর বৈঠকটি হচ্ছে না। আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, তখন তাদের সঙ্গে বৈঠকটি অনুষ্ঠানের ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটি।

 

সূত্র জানায়, গত বছর ৫ আগস্টের পর ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চীন যেভাবে আগ্রহ দেখিয়েছিল, এখন সেই আগ্রহে কিছুটা ভাটা পড়েছে। চীন সরকার মনে করছে, এই সরকারের সময়ে কোনো বড় প্রকল্প হাতে নিলে পরবর্তী সময়ে কোনো নির্বাচিত সরকার যদি সেটি ভালো চোখে না নেয়, তাতে তাদের বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়বে।

 

এদিকে গত বছর গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে ভারত সরকারও জানিয়ে দেয় যে, ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে দিল্লি আগ্রহী। কিন্তু সেটি হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তি ও অশংগ্রহণমূলক নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে। এ বছর ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রির ঢাকা সফরকালে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থন রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধা এবং একে অপরের উদ্বেগ ও স্বার্থের প্রতি পারস্পরিক সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে ভারতের সদিচ্ছা রয়েছে।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০  

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code