প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

এমপিদের শপথ হতে পারে ১৭ ফেব্রুয়ারি

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৭:৪২ পূর্বাহ্ণ
এমপিদের শপথ হতে পারে ১৭ ফেব্রুয়ারি

Manual5 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

Manual8 Ad Code

রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সব ঠিক থাকলে শনিবার নবনির্বাচিত এমপিদের গেজেট প্রকাশ হতে পারে। আর এমপিদের শপথ অনুষ্ঠিত হতে পারে মঙ্গলবার। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংবিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের তিন দিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এমপিদের শপথ পড়াতে পারেন এমন প্রস্তুতি নিয়েছে সংসদ সচিবালয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, এমপিদের শপথের পর ওই দিনই নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নেবেন। এ জন্য নতুন মন্ত্রীদের জন্য ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টারা বিদায়ের প্রস্তুতি প্রায় শেষকরেছেন।

মঙ্গলবার অধিকাংশ উপদেষ্টা অফিস করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছেন। নিজ নিজ দফতরের নিজস্ব জিনিসপত্রও গুছিয়ে নিয়েছেন। অনেক উপদেষ্টা স্টাফদের মাধ্যমে ব্যক্তিগত নথি ও জিনিসপত্র এরই মধ্যে সরকারি দফতর থেকে বাসায় নিয়ে গেছেন। অধিকাংশ উপদেষ্টাই জমা দিয়েছেন কূটনৈতিক বা লাল পাসপোর্ট। নতুন পাসপোর্ট নিতে সচিবালয় পাসপোর্ট অফিসে আবেদনও করেছেন কেউ কেউ।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানায়, নতুন মন্ত্রীদের শপথের সম্ভাব্য তারিখ ধরা হয়ে হয়েছে ১৭ ফেব্রুয়ারি। তবে নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ আগে করা সম্ভব হলে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ ১৭ ফেব্রুয়ারির আগেও হতে পারে বলে জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ জন্য ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে শপথ নেন নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। এরপর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়।

এরপর নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। নতুন মন্ত্রিসভার দাফতরিক কাজ করে থাকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বঙ্গভবনে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন প্রথমে নতুন প্রধানমন্ত্রী এবং পরে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ। নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে উপদেষ্টা পরিষদ বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে মন্ত্রিসভার সর্বোচ্চ সংখ্যা ৪৫ জন ধরে নিয়ে গাড়ি প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক গাড়ি প্রস্তুত রাখার জন্য সরকারি যানবাহন অধিদফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো কারণে একটি গাড়ি নষ্ট বা দুর্ঘটনায় পড়লে সঙ্গে সঙ্গে যেন আরেকটি গাড়ি পাঠানো যায় এ জন্য পাঁচটি গাড়ি বেশি রাখা হচ্ছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা যেসব গাড়ি ব্যবহার করছেন সেগুলোসহ সরকারি যানবাহন অধিদফতরে থাকা মোট ৫০টি গাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে প্রস্তুত করা হচ্ছে।

Manual8 Ad Code

যারা নতুন সরকারে শপথের আমন্ত্রণ পাবেন, তাদের বাসা থেকে বঙ্গভবনে নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ি পাঠানো হবে। সরকারি যানবাহন অধিদফতরের পরিবহন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. খায়রুল কবীর মেনন জানান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক গাড়ি প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। তবে ঠিক কতগুলো গাড়ি লাগবে সেটি শপথের দিন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে চূড়ান্তভাবে জানানো হবে। সে অনুযায়ী তারা ব্যবস্থা নেবেন।

এদিকে উপদেষ্টারা বিদায়ের প্রস্তুতি শেষ করেছেন। বুধ ও বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটি থাকবে। এরপর শুক্র ও শনিবার দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি। সেই হিসেবে মঙ্গলবার উপদেষ্টারা শেষ অফিস করেছেন। বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদে প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও ২০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত, শিল্প এবং স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান গত ৩১ জানুয়ারি তার সরকারি বাসা ছেড়ে দেওয়ার পাশাপাশি কূটনৈতিক পাসপোর্টও জমা দিয়েছেন।

অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ, রেল, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে আছেন ফারুক ই আজম, ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসস্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে অনেকেই নতুন পাসপোর্ট নিয়েছেন।

তবে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের সহকারী একান্ত সচিব কামরুন নাহার জানান, পরিকল্পনা উপদেষ্টা কূটনৈতিক পাসপোর্ট নেননি এবং সরকারি বাড়িও বরাদ্দ না নেওয়ায় তার এগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো বিষয় নেই।

Manual1 Ad Code

উপদেষ্টাদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নতুন সরকার এলে বিদেশে চলে যাবেন- এমন প্রস্তুতি নিয়েছেন কয়েকজন উপদেষ্টা। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজমের দফতর থেকে জানা যায়, তিনি ইতিমধ্যে তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে সবুজ পাসপোর্ট নিয়েছেন। ফ্ল্যাটও গুছিয়ে রেখেছেন। উপদেষ্টা হওয়ার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতেন। বিদায়ের পর তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাবেন।

Manual1 Ad Code

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন জানিয়েছেন, নতুন সরকার গঠনের পরপরই পেশাগত জীবনে ফিরে যাবেন তিনি। মঙ্গলবার বিকালে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সরকারে আসার সময় তার তেমন কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। তবে চেষ্টার কোনো কমতি রাখেননি। আল্লাহর রহমতে সৎভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। কারও প্রতি বৈষম্য বা স্বজনপ্রীতি করেননি।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code