জকিগঞ্জ সংবাদদাতা:
সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে এক রোহিঙ্গা নাগরিক এবং এক দালালসহ মোট চারজনকে আটক করেছে।
Manual6 Ad Code
রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন ১৯ বিজিবির সদস্যরা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের সময় তাদের গ্রেপ্তার করে।
Manual5 Ad Code
বিজিবি জানিয়েছে, আটককৃতদের মধ্যে একজন কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দা এবং অন্য দুজন বাংলাদেশি নাগরিক যারা কাজের সন্ধান ও চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিজিবির এই কঠোর নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন ১৯ বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে ডোনা বিওপির একটি টহল দল কানাইঘাট উপজেলার কাচারীপাড়া এলাকায় প্রথম অভিযানটি চালায়। এ সময় অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টারত অবস্থায় মো. আলী হোসাইন নামের ৩৫ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করা হয়।
আলী হোসাইন কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্পের বাসিন্দা বলে শনাক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান যে, ভারতের হায়দরাবাদে থাকা পরিবারের কাছে যাওয়ার জন্য তিনি দালালের সহায়তায় সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় তাকে সহায়তাকারী দালাল চক্রের সদস্য রুমেল আহমেদকেও বিজিবি গ্রেপ্তার করেছে এবং তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে।
একই দিন সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে উপজেলার পূর্ব কারাবাল্লা এলাকায় আটগ্রাম বিওপির টহল দল দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালনা করে। এই অভিযানে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বাসিন্দা মো. রুবেল শেখ এবং যশোরের মনিরামপুর উপজেলার মোছা. শাহানাজ নামের দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়।
Manual1 Ad Code
তল্লাশিকালে তাদের কাছ থেকে ১৮ হাজার ৭৬০ টাকা এবং মুঠোফোন জব্দ করা হয়। বিজিবির কাছে দেওয়া প্রাথমিক জবানবন্দিতে রুবেল শেখ জানান তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য এবং শাহানাজ চাকরির উদ্দেশ্যে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে যাচ্ছিলেন।
জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন ১৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, সীমান্ত দিয়ে সব ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পাচার রোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
Manual5 Ad Code
গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় টহল ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।