ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে। জ্বালানি সংকটের কারণে দৈনন্দিন জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুর মূল্যবৃদ্ধিসহ টেলিযোগাযোগ খাতে বাড়ছে জ্বালানির জ্বালা। দেশে চলমান এমন পরিস্থিতিতে মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং ও অপ্রতুল বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে মোবাইল অপারেটরদের সাইট ডাউন হওয়াসহ মোবাইল পরিষেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সার্ভারগুলো প্রায়শই ডাউন হয়ে পড়ছে। যার প্রভাব পড়ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থাপিত মোবাইল টাওয়ার, ডাটা সেন্টার, নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা ও পপগুলোতে। ইতিমধ্যে মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর (এমএনও) এবং নেটওয়ার্ক টাওয়ার কোম্পনিগুলো সাংগঠনিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
Manual4 Ad Code
এমন প্রেক্ষাপটে এসব অবকাঠামোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সভার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। জ্বালানি নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশে নিরবচ্ছিন্ন টেলিকম সেবা এবং নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা সচল রাখতে সরকারি-বেসরকারি অংশীজনদের সঙ্গে আজ বুধবার ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিশেষ সভা ডেকেছে বিটিআরসি।
এদিকে বৃহস্পতিবার একই সময়ে নিজেদের কার্যালয়ে টেলিকম অবকাঠামোগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে আরেকটি সভা আহ্বান করেছে বিটিআরসি। এই সভায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি), ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো), ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিসিবি) এবং সব এমএনও, এনটিটিএন অপারেটর, টাওয়ারকো অপারেটরগুলোর এমডি ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিটিআরসি।
Manual1 Ad Code
গতকাল বিটিআরসি থেকে অংশীজনদের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে দেশব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিতে মোবাইল নেটওয়ার্ক, ডাটা সেন্টার ও কোর নেটওয়ার্ক সাইটগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি ও লোডশেডিং মুক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অংশীজনদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম জোরদার করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
উল্লেখ্য, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বরাদ্দ নিশ্চিকরণের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত ১২ মার্চ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পত্র প্রেরণ করে বিটিআরসি। ওই পত্রের গুরুত্ব বিবেচনায় গত ১৩ মার্চ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ কর্তৃক এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ ও সব জেলা প্রশাসক বরাবর পত্র প্রেরণ করা হয়। এ ছাড়া গত ২০ এপ্রিল মোবাইল অপারেটর ও টাওয়ার কোম্পানিগুলোর জ্বালানি পরিবহন এবং টাওয়ার সাইটগুলোতে রক্ষণাবেক্ষণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য বিটিআরসি থেকে পুনরায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে টেলিকম স্টেকহোল্ডারদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার পরিপ্রেক্ষিতে টেলিকম নেটওয়ার্ক সচল রাখতে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিতের বিষয়ে ২২ এপ্রিল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, মোবাইল অপারেটর, এনটিটিএন অপারেটর, টাওয়ারকো অপারেটর এবং অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস বাংলাদেশের (অ্যামটব) সঙ্গে বিটিআরসির একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামী ২৩ এপ্রিল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, পিজিসিবি, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো এবং টেলিকম সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের সঙ্গে আরেকটি যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় টেলিকম খাত সংশ্লিষ্ট জ্বালানি সংকটজনিত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত দেশে মুঠোফোন গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি ৬০ লাখ এবং এর মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা রয়েছে প্রায় ১১ কোটি ৪৮ লাখ। বর্তমানে টেলিকম অপারেটরদের মোট ৪৬ হাজার ১৭৬টি টেলিকম টাওয়ার রয়েছে। এ ছাড়া সারা দেশে টাওয়ার কোম্পানি ও মোবাইল অপারেটরদের মোট ৯৮ হাজার ৫১৪টি বেইজ ট্রান্সসিভার স্টেশন (বিটিএস) চালু রয়েছে, যার মধ্যে ২জি ৪৮ হাজার ৪০৬টি, ৩জি ১ হাজার ৪৭টি এবং ৪জি ৪৮ হাজার ৬৩০টি।