প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৮শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

যে কারনে বছরের পর বছর ধরে বিতর্কের কেন্দ্রে ইরানের ইউরেনিয়াম?

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ
যে কারনে বছরের পর বছর ধরে বিতর্কের কেন্দ্রে ইরানের ইউরেনিয়াম?

Manual3 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমন সংক্রান্ত আলোচনার বরাবরই একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ইউরেনিয়াম। গত প্রায় দুই যুগ ধরে ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ইউরেনিয়াম নিয়ে বিরোধ চলছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে।

 

Manual4 Ad Code

ইরান সবসময় দাবি করে আসছে যে দেশটির পরমাণু কর্মসূচির উদ্দেশ্যে শান্তিপূর্ণ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র ইসরায়েল কখনও তা বিশ্বাস করেনি।

Manual4 Ad Code

আর এই অবিশ্বাসকে দৃঢ় ভিত্তি দিয়েছে জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি (আইএইএ)। ২০২৫ সালের জুন মাসের শুরুর দিকে এক বিবৃতিতে আইএইএ জানিয়েছিল, ইরানের কাছে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম আছে এবং এই ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতার মান ৬০ শতাংশ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছিল, বিশুদ্ধতার মান যদি আরও ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে ৯০ শতাংশে উন্নীত করা যায়, তাহলে অনায়াসেই ইরানের ইউরেনিয়াম দিয়ে পরমাণু বোমা বানানো সম্ভব।

আইএইএ এই বিবৃতি দেওয়ার পর থেকেই ইরানের ইউরেনিয়াম নিয়ে বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। গত বছর জুন মাসে ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পরমাণু প্রকল্পগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা সত্ত্বেও ইরানের ইউরেনিয়ামের কোনো হদিস উদ্ধার করতে পারেনি। এই ইউরেনিয়াম কোথায় আছে— তা এখনও রহস্য।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের আলোচনার কেন্দ্রে সবসময় থাকে ইউরেনিয়াম। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান তার ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করুক। অন্যদিকে, ইরান সবসময় এ আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

ইরানের পরামাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ। তার পরের দিন ২৮ তারিখ ইরানে যৌথ অভিযান শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র; শুরু হয় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র –ইসরায়েল যুদ্ধ।

টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, যা এখনও বহাল আছে। দুই দেশের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করতে গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সংলাপে বসেছিলেন মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা। কিন্তু সেই সংলাপ ব্যর্থ হয়েছে এবং চুক্তি স্বাক্ষর না করেই দুই দেশের প্রতিনিধিরা ফিরে গেছেন।

 

Manual2 Ad Code

বৈঠকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মূলত পরমাণু প্রকল্প এবং ইউরেনিয়াম হস্তান্তর নিয়ে মতবিরোধের কারণেই ব্যর্থ হয়েছে ১১ তারিখের সংলাপ।

সামনে ২২ এপ্রিল ফের সংলাপে বসতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা। সেখানেও আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে ইরানের ইউরেনিয়াম। কারণ ওয়াশিংটনের কাছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে সীমারেখা টানা।

Manual8 Ad Code

অন্যদিকে ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে পারে, তাহলে একদিকে তেহরানের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পাহাড় সরবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তাও মিলবে।

কিন্তু একটা চুক্তির জন্য ইরান তার এত বছরের পরমাণু কর্মসূচিকে সীমিত করতে ইচ্ছুক হবে কি-না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০  

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code