প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নিয়োগ পাওয়ার পর ৩ মাসের বেতন পাননি কারিগরির ১১০০ শিক্ষক!

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ
নিয়োগ পাওয়ার পর ৩ মাসের বেতন পাননি কারিগরির ১১০০ শিক্ষক!

Manual7 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) থেকে সুপারিশ পেয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে কাজে যোগ দেন ১১শ কারিগরি শিক্ষক। ডিসেম্বরে তাদের এমপিও কার্যকর হয়। সেপ্টেম্বর থেকে কাজে যোগ দিলেও এই শিক্ষকদের বেতন দেওয়া শুরু হয় ডিসেম্বর থেকে। চাকরির প্রথম তিন মাসের বেতন এখনো দেওয়া হয়নি তাদের।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া এসব শিক্ষক এখন তিন মাসের বেতনের জন্য এখানে ওখানে ধর্ণা দিচ্ছেন। সুনর্দিষ্ট কোনো আশা না পেয়ে অনেকে হতাশ হয়ে পড়েছেন, অনেকে জানিয়েছেন ক্ষোভ।

তারা বলছেন, একই সময়ে এনটিআরসিএ থেকে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা শুরু থেকেই নিয়মিত বেত পাচ্ছেন। অথচ তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে অযৌক্তিকভাবে।

দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরও বেতন না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আন্দোলনে নেমেছেন এই শিক্ষকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবশেষ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর এনালগ পদ্ধতির মারপ্যাঁচে এসব শিক্ষকের এমপিও (মান্থলি পে অর্ডার) কার্যকর করা হয় ডিসেম্বর থেকে। ফলে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর—এই তিন মাসের বেতন থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্দেশনা অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের ১৫ তারিখের মধ্যে অধিকাংশ শিক্ষক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের মধ্যেই তারা এমপিওভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র অধিদপ্তরে জমা দেন। কিন্তু অদৃশ্য কারণে অধিদপ্তর সেপ্টেম্বর থেকে তাদের এমপিও কার্যকর না করে তা পিছিয়ে ১ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর করে।

এরপর থেকে তিন মাসের বেতন দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন শিক্ষকরা। গত কয়েক মাস ধরে অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে ধরনা দিচ্ছেন তারা (শিক্ষকরা)। সম্প্রতি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে দিনভর অবস্থান করেন কয়েকশ শিক্ষক। সেখানে অধিদপ্তরের পরিচালক ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় বৈঠক হয়। তবে ফলপ্রসু হয়নি কোনো আলোচনা।

বেতন বঞ্চিত শিক্ষকরা প্রশ্ন তুলেছেন — একই মন্ত্রণালয়ের (শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ) অধীনে মাদ্রাসা অধিদপ্তর যদি নিয়োগের মাস থেকে বেতন নিশ্চিত করতে পারে, তবে কারিগরি অধিদপ্তর কেন পারবে না? শিক্ষকদের অভিযোগ, অধিদপ্তর ইচ্ছা করেই এমপিও ফাইল আটকে রেখে ডিসেম্বর পর্যন্ত নিয়ে গেছে।

এদিকে, অধিদপ্তরের এ রোগ বেশ পুরোনো বলে জানালেন এর আগের গণবিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন শিক্ষক।

Manual6 Ad Code

সঙ্গে আলাপে ৫ম গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশ পাওয়া এক ভোকেশনাল শিক্ষক (নাম-পরিচয় গোপন রেখে) জানান, পূর্ববর্তী চতুর্থ ব্যাচ পর্যন্ত এমন বহু উদাহরণ রয়েছে যেখানে শিক্ষকরা ৫ থেকে ৭ মাস পর্যন্ত বেতন পাননি। এমপিওভুক্ত হওয়ার পর থেকে বেতন কার্যকর করা হতো, ফলে যোগদানের পর দীর্ঘ সময় তারা সম্পূর্ণ বিনা বেতনে কাজ করতে বাধ্য হন। এই অন্যায়ের প্রতিবাদে আমরা পঞ্চম গণবিজ্ঞপ্তির শিক্ষকরা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আন্দোলন করেছি।

এই শিক্ষক বলেন, ‘আমরা ২০২৪ সালে যোগদান করি। আন্দোলনের পর কর্তৃপক্ষ কিছুটা ছাড় দেয়। তবে আমাদের ক্ষেত্রে প্রথম দুই মাসের বেতন কেটে রেখে বাকি মাসগুলোর বেতন একসঙ্গে দেওয়া হয়।’

নাম-পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক কারিগরির আরেক শিক্ষক অভিযোগ করেন, আমাদের আবেদন প্রক্রিয়াটি এত জটিল করে রাখা হয়েছে যে, অনেক সময় এমপিও হতে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত লেগে যায়। এই পুরো সময়টা আমাদের বিনা বেতনে কাজ করতে হয়। এসব বিষয়ে অধিদপ্তরে যোগাযোগ করা হলে আমাদের সঙ্গে অনেক সময় দুর্ব্যবহার করা হয়। কর্মকর্তারা আমাদের ইস্যুকে গুরুত্বই দেন না।

কারিগরি শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং স্পষ্ট বৈষম্য। ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলা হলেও কারিগরি অধিদপ্তর এখনো এনালগ পদ্ধতিতে ফাইল চালাচালি করে শিক্ষকদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। নীতিমালার দোহাই দিয়ে শিক্ষকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করছে। আমরা অবিলম্বে শিক্ষকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানাচ্ছি।

Manual1 Ad Code

তিনি বলেন, শিক্ষকরা ক্লাসে পাঠদান করেছেন, হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন। অর্থাৎ তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছেন। তাহলে তাদের পারিশ্রমিক কেন আটকে থাকবে? অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ ধীরগতির দায়ভার কেন শিক্ষকরা নেবেন? সফটওয়্যার বা ডিজিটাল পদ্ধতির অভাব কোনো অজুহাত হতে পারে না। আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যাতে দ্রুত সব শিক্ষকের বকেয়া বেতন নিশ্চিত করা হয়। শিক্ষকদের পেটে ক্ষুধা রেখে মানসম্মত কারিগরি শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

ধার-দেনায় জর্জরিত নতুন শিক্ষকরা, বকেয়া বেতনের আশায় ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে

Manual3 Ad Code

বেতন না পেয়ে নতুন নিয়াগ পাওয়া শিক্ষকরা অধিকাংশই ধার-দেনায় জড়িয়ে পড়েন এবং অর্থনৈতিকভাবে দুরবস্থার মধ্যে পড়েন। বাড়ি থেকে দূর-দূরান্তে যোগদান করা শিক্ষকদের মধ্যে অনেকেই বাসা ভাড়া এবং নিত্যদিনের খাবার খরচ মেটাতেও হিমশিম খেয়েছেন। অনেকে ওই তিন মাস সম্পূর্ণ ঋণ করে চলেছেন। যার রেশ টানতে হচ্ছে এখনও।

Manual5 Ad Code

গত ১২ এপ্রিল সারা দেশ থেকে এসে বকেয়া বেতনের দাবিতে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে মানববন্ধন করেন ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা।

মানববন্ধনে কুমিল্লার একটি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর জান্নাতুল ফারজানা বলেন, শিক্ষকতা পেশায় অনেক সম্মান থাকে জেনে এসেছিলাম, কিন্তু এসে দেখলাম এখানে অর্থনৈতিক কোনো সম্মান নেই। যোগদানের পর ধার-দেনা করে জীবিকা নির্বাহ করেছি। বকেয়া বেতন না পাওয়ায় সেই ধার শোধ করতে পারছি না।

একই সংকটের কথা বলেন নড়াইল সদরের একটি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রভাষক আবুল হাশেম। তিনি জানান, একই সময়ে সুপারিশপ্রাপ্ত অন্য বিভাগের শিক্ষকরা নিয়মিত বেতন পেলেও কারিগরি অধিদপ্তরের শিক্ষকরা চরম বৈষম্যের শিকার। আমরা যোগদানের দিন থেকে বেতন চাই। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাদ্রাসা ও জেনারেল শাখায় এমপিওভুক্তি এখন অনলাইনে হলেও কারিগরিতে এখনো এনালগ পদ্ধতিতে কাগজপত্র জমা দিতে হয়। এই সুযোগেই অধিদপ্তর গড়িমসি করার সময় পায়। এমনকি ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) হতে আরও দুই মাস সময় লাগবে ধরে নিলে একজন শিক্ষকের টানা ৫ মাস বেতনহীন থাকতে হচ্ছে।

অধিদপ্তরের নিয়োগ পত্রে স্পষ্ট বঞ্চনার চিত্র

হাতে আসা কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের ৫৪ জন শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ ও এমপিও অনুমোদনের অফিস আদেশ বিশ্লেষণ করে বঞ্চনার এক ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে। দাপ্তরিক এই নথিতে দেখা যায়, শিক্ষকদের যোগদান ও এমপিও কার্যকরের তারিখে বিস্তর ফারাক রয়েছে। তালিকায় থাকা ৫৪ জন শিক্ষকের কেউই যোগদানের মাস থেকে বেতন পাননি। তাদের অধিকাংশকে ৩ মাস থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১১ মাস পর্যন্ত বেতনহীন অবস্থায় কাজ করতে হয়েছে। অফিস আদেশের ৭ নম্বর শর্তে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এমপিও কার্যকরের তারিখের আগে কোনো অর্থ বরাদ্দ হলে তা উত্তোলন করা যাবে না। অর্থাৎ, দাপ্তরিকভাবেও তাদের বকেয়া পাওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শোভন মজুমদার (ট্রেড ইন্সট্রাক্টর) নামে এক শিক্ষক শরীয়তপুরের জাজিরা গার্লস হাই স্কুল এন্ড কলেজে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে যোগদান করেন। তার এমপিও কার্যকর করা হয়েছে ১ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে। অর্থাৎ ৩ মাস তিনি বিনা বেতনে ক্লাস নিয়েছেন। মো. শফিকুল ইসলাম (পরিচ্ছন্নতা কর্মী) দিনাজপুরের পার্বতীপুর কারিগরি ও বাণিজ্যিক কলেজে ৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে যোগদান করেন। তার এমপিও কার্যকর হয়েছে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে। ৫ মাস তিনি পারিশ্রমিক পাননি।

মোসা. মাহমুদা বেগম (ল্যাব অ্যাসিস্টেন্ট) নীলফামারীর গোমনাতী কলেজে ২৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে যোগদান করলেও এমপিও পেয়েছেন ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে। ৫ মাস ২০ দিন তাকে বেতনহীন থাকতে হয়েছে। মো. মামুন ইসলাম নামের আরেকজ হিসাব সহকারী হিসেবে ঠাকুরগাঁওয়ের গড়েয়া মহিলা টেকনিক্যাল কলেজে ৬ আগস্ট ২০২৫ তারিখে যোগদান করেন। তার এমপিও কার্যকর হতে সময় লেগেছে ৬ মাস (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)।

এছাড়া মো. আব্দুল কাদের (সহকারি শিক্ষক) নামে একজন যশোরের উত্তর অভয়নগর কলেজে ৩১ মার্চ ২০২৫ তারিখে যোগদান করেন। দীর্ঘ ৮ মাস পর ১ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে তার এমপিও অনুমোদন পায়।

ফোন ধরছেন না কারিগরি অধিদপ্তরের কেউ

এমপিওভুক্তিতে কেন এই অদৃশ্য জটিলতা কিংবা যোগদানের তারিখ থেকে কেন বেতন দেওয়া হচ্ছে না— এসব বিষয়ে জানতে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দায়িত্বশীল কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অধিদপ্তরের এমপিও শাখার উপ-পরিচালক মো. খোরশেদ আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এমনকি ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তার কোনো সাড়া মেলেনি।

গত ১৬ এপ্রিল বিষয়টি নিয়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলীর সঙ্গে কথা বলতে তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে তার অফিসিয়াল টিঅ্যান্ডটি নম্বর থেকে জানানো হয়, মহাপরিচালক বর্তমানে মন্ত্রণালয়ে রয়েছেন। তিনি কখন ফিরবেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মচারী।

পরে মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল আলমের সাথেও মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনিও ফোন রিসিভ করেননি।

যোগদানের তারিখ থেকেই প্রাপ্য বেতন পাবেন শিক্ষকরা : কারিগরি সচিব

এ বিষয়ে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া বলেন, কারিগরি শিক্ষকদের বেতন সংক্রান্ত যে সমস্যার কথা বলা হচ্ছে, সেটি মূলত এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমানে কিছু প্রতিষ্ঠান এখনও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পরিচালিত হওয়ায় নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বেতন পেতে দুই থেকে তিন মাস সময় লেগে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, যেসব শিক্ষক স্বয়ংক্রিয় (সিস্টেমভিত্তিক) প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছেন, তারা তুলনামূলকভাবে দ্রুত বেতন পাচ্ছেন। তবে যারা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে অন্তর্ভুক্ত, তাদের ক্ষেত্রে বিলম্ব হচ্ছে।

সচিব আশ্বাস দিয়ে বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি ধীরে ধীরে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায় আনার কাজ চলমান রয়েছে। এতে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিলম্ব কমে আসবে।

এছাড়া তিনি স্পষ্ট করেন, এমপিও পরে অনুমোদন পেলেও যোগদানের তারিখ থেকেই প্রাপ্য বেতন ও অন্যান্য সুবিধা প্রযোজ্য হবে। এ বিষয়ে প্রচলিত নীতিমালা ও সার্কুলার অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং শিক্ষকদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।

মন্ত্রীর সেই ‘ঘাম শুকানোর আগে পারিশ্রমিক’ নীতি কি তবে ফাইলবন্দি?

গত ফেব্রুয়ারি মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই মুখোমুখি হয়েছিলেন বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তখন তিনি শিক্ষকদের এই সংকটের বিষয়ে সরকারের নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার করেছিলেন।

পক্ষ থেকে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল— এনটিআরসিএ সুপারিশপ্রাপ্ত কারিগরি শিক্ষকদের যোগদানের দিন থেকে বেতন না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে, এ বিষয়ে আপনি কী বলবেন? উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, ‘নীতিগতভাবে কাজ শুরুর দিন থেকেই পারিশ্রমিক পাওয়ার কথা। কোরআন-হাদিসেও আছে, ‘‘ঘাম শুকানোর আগে পারিশ্রমিক দিতে হবে’’। যদি কোথাও কোনো ব্যত্যয় ঘটে থাকে, সেটি দেখতে হবে, জাস্টিফাই করতে হবে। অবশ্যই তা খতিয়ে দেখব’।

মন্ত্রীর সেই প্রতিশ্রুতির পর প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হলেও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। শিক্ষকরা এখনো বেতন পাচ্ছেন না।

এ অবস্থায় নতুন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না তা জানতে গত ১৬ এপ্রিল মন্ত্রীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে বিস্তারিত জানিয়ে ক্ষুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠানো হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code