প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৮ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ: বেকায়দায় শিল্পের মালিকরা, বেকারত্ব বাড়ার শঙ্কা

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ২২, ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ: বেকায়দায় শিল্পের মালিকরা, বেকারত্ব বাড়ার শঙ্কা

Manual6 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

দেশের শিল্প খাতে এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বেশির ভাগ কাঁচামালের দাম বেড়েছে। জ্বালানিসংকটে অনেক কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ক্রয়াদেশ অনুযায়ী সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। সবকিছু মিলিয়ে খরচ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় শিল্প খাতের সংকট আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে সমগ্র অর্থনীতির সংকট বাড়বে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশে বেকারত্ব বাড়তে পারে–এমন আশঙ্কা করে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, কয়েক বছর ধরে শিল্পায়নে নিম্নমুখী ধারা চলছে। রপ্তানি আয় কমছে। নতুন কর্মসংস্থান নেই। শ্রমের বাজারে প্রতিবছর নতুন বেকার যোগ হচ্ছে। এর মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এ যুদ্ধের কারণে পুরোনো শিল্পের টিকে থাকা কঠিন হচ্ছে।

জ্বালানিসংকট, আমদানি ব্যয়–সবই বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন শিল্প গড়ে উঠছে না। এরই মধ্যে অনেক কারখানায় উৎপাদন কম করা হচ্ছে। খরচ কমাতে অনেকে বদলি শ্রমিক বাদ দিয়েছে। খরচ আরও কমাতে অনেকে নিয়মিত শ্রমিক-কর্মচারীও ছাঁটাই করতে বাধ্য হবে। এতে বেকারত্ব আরও বাড়বে।

নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে শুধু তৈরি পোশাক খাতের ৩০০-এর বেশি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এ খাতের দুই থেকে আড়াই লাখ শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। তৈরি পোশাকশিল্পে যুদ্ধের কারণে সংকট আরও বেড়েছে। এ খাতের অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানও খরচ কমাতে উৎপাদন ও কর্মী কমানোর কথা ভাবছে। এতে দেশে বেকারত্ব আরও বাড়বে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ‘সার্ভে অব ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রি’ শিরোনামের এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদন খাতের বড় ও মাঝারি শিল্পকারখানার সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্যানুসারে, দেশে তৈরি পোশাক খাতে ৩ হাজার ১৭০টি কারখানা আছে।

জিডিপিতে শিল্প খাতের বড় ধরনের ভূমিকা রয়েছে। এ খাত থেকে জিডিপিতে (স্থির মূল্যে) প্রতিবছর গড়ে ৬ লাখ কোটি থেকে ৭ লাখ কোটি টাকা যোগ হয়।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিল্প খাতের ওপর অর্থনীতির গতিশীলতা নির্ভর করে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে শিল্প খাতে খরচ বেড়েছে। শিল্প টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। জ্বালানিসংকট কমছে না, দামও বাড়ানো হয়েছে। অনেক কারখানার মালিক শিল্প টিকিয়ে রাখতে শ্রমিক-কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো সহজ পথে যেতে পারেন। এতে বেকারত্ব বেড়ে যাবে। বেকারত্ব বাড়ার কারণে দেশের অর্থনীতিতে ভারসাম্য নষ্ট হবে।

Manual6 Ad Code

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) আরেক জরিপ অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে বেকার জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ।

Manual8 Ad Code

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তৈরি পোশাকশিল্প, পাটশিল্প, চামড়া ও চামড়াজাতশিল্প, ফার্মাসিউটিক্যালস বা ওষুধশিল্প, সারশিল্প, নির্মাণশিল্প, সিমেন্ট ও সিরামিকশিল্প, খাদ্য ও খাদ্যজাতশিল্প. ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পসহ অধিকাংশ শিল্প খাতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদ বলেন, চামড়া খাতের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয় এমন বিভিন্ন রাসায়নিকের দাম বেড়েছে। চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে পণ্য তৈরিতে জ্বালানি বড় ধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চামড়া খাতে খরচ বেড়েছে। উৎপাদিত পণ্য সময়মতো বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। যুদ্ধের কারণে চামড়াশিল্পে ধস নেমেছে।

ইফাদ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সবচেয়ে চাপে পড়েছে। এসব শিল্প বর্তমান সংকটে টিকে থাকা কঠিন। এরই মধ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি অনেক শিল্প উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। এসব শিল্পের মালিকরা তাদের কর্মীদের জানিয়ে দিয়েছেন জ্বালানিসংকট না কমলে কারখানা সচল রাখা সম্ভব নয়। এসব কর্মীর নতুন চাকরির সুযোগ নেই বললেই চলে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন শিল্প গড়ে উঠছে না। নতুন করে কোনো তরুণ-তরুণী ব্যবসায় আসছেন না।

দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সূত্র জানায়, মোট শিল্প খাতের ৯০ শতাংশই এসএমই (অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি) খাতের শিল্প। এর সংখ্যা ৭৮ লাখের বেশি।

Manual4 Ad Code

ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের উদ্যোক্তাদের বড় অংশ নারী। জ্বালানিসংকটে এরই মধ্যে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। সরকারি নির্দেশে সাধারণ দোকানপাটে বিক্রির সময় কমেছে। উৎপাদন খরচ বাড়ায় মুনাফা কমেছে।

নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন ওয়েবের প্রতিষ্ঠাতা সভানেত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘সারা দেশে ওয়েবের নারী উদ্যোক্তাদের সদস্যা সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। ছোট-বড় সব ধরনের নারী উদ্যোক্তা আমাদের সদস্য। যুদ্ধের কারণে প্রত্যেক নারী উদ্যোক্তাই নানামুখী সংকটে পড়েছেন। অনেকে মহাসংকটে আছেন। কীভাবে এসব উদ্যোক্তার সংকটের সমাধান হবে তার পথ পাচ্ছে না। সরকার চেষ্টা করছে। কিন্তু কতটা সফল হবে তা অনিশ্চিত। কারণ বিশ্ব অর্থনীতি এখন অস্থিতিশীল।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সংকট কবে দূর হবে তা অনিশ্চিত। বিশ্ব যেখানে টালমাটাল সেখানে বাংলাদেশ তো খুব শক্ত অর্থনীতির দেশ নয়। যুদ্ধ বন্ধ না হলে জ্বালানিসংকট দূর হবে না। শিল্পের সংকটও কাটবে না। শিল্প টিকিয়ে রাখতে হলে খরচ কমাতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিক ছাঁটাই খুব স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

Manual4 Ad Code

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০  

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code