প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৮ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

মাঠ প্রশাসনের ৪৯৮ প্রস্তাব

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
মাঠ প্রশাসনের ৪৯৮ প্রস্তাব

Manual2 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

আগামী ৩ মে রাজধানীতে শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন। নতুন সরকারের অধীনে এটিই প্রথম সম্মেলন হওয়ায় নীতিনির্ধারণ, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নÑ এই তিন অক্ষকে কেন্দ্র করে এবারের আলোচ্যসূচি সাজানো হয়েছে। ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনারদের পাঠানো ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ৪৯৮টি প্রস্তাব কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা মাঠ প্রশাসনের বর্তমান অগ্রাধিকার ও সংকটের একটি বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরে। এই প্রস্তাবের মধ্যে অগ্রাধিকার পেয়েছে জ্বালানি, আইনশৃঙ্খলা, সেবা ও উন্নয়ন।

ভেন্যু ও আয়োজন : প্রতীকী মিতব্যয়িতা

গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারের মূল ভেন্যুও রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় আয়োজনে এসেছে ব্যতিক্রম, ডিসিরা ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক গাড়ি ভেন্যুতে রেখে সরকারি বাসে অধিবেশনস্থলে যাতায়াত করবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি কেবল ব্যয় সাশ্রয় নয়; মাঠ প্রশাসনের কাছে একটি বার্তাÑ সাশ্রয় ও দক্ষতা এখন প্রশাসনিক আচরণের অংশ।

Manual5 Ad Code

উদ্বোধন ও ‘মুক্ত আলোচনা’Ñ প্রত্যাশার কেন্দ্রে প্রথম দিন

প্রথম দিন সকাল সাড়ে ১০টায় সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের পরই ডিসিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ‘মুক্ত আলোচনা’ নির্ধারিত, যা সাধারণত সীমিত সময়ের আনুষ্ঠানিক পর্ব হলেও এবার তা নীতিগত দিকনির্দেশনা পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন সরকারের অগ্রাধিকার, বিশেষ করে ইশতেহার বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং সেবামুখিতাÑ এই পর্বেই স্পষ্ট বার্তা আকারে আসতে পারে।

প্রথম দিনের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফটোসেশনও থাকবে। সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও নৈশভোজের আয়োজন রাখা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় একটি পরিবর্তন।

সম্মেলনে মোট ৫৬টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, কার্যালয় ও সংস্থার বিষয় নিয়ে ৪৩টি কার্য-অধিবেশন হবে। প্রতিটি অধিবেশনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবরা উপস্থিত থেকে ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনারদের প্রস্তাব, প্রতিবন্ধকতা ও সুপারিশ শুনবেন এবং তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেবেন।

দ্বিতীয় দিনে জাতীয় সংসদে উপস্থিতি, স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও নৈশভোজ; তৃতীয় দিনে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আপ্যায়ন; চতুর্থ দিনে চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রশাসনিক সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভা ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নৈশভোজÑ এভাবে কর্মসূচি সাজানো হয়েছে।

কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত ৪৯৮টি প্রস্তাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, চারটি বড় খাতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণ

Manual6 Ad Code

সীমান্তপথে মাদকের প্রবাহ, স্থানীয় পর্যায়ে আসক্তি বৃদ্ধি এবং পুনর্বাসন ঘাটতিÑ এসব নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রস্তাব এসেছে। ঝিনাইদহে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব এর একটি উদাহরণ।

আসন্ন গ্রীষ্মে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি এবং লোডশেডিং কমাতে তাৎক্ষণিক ও মধ্যমেয়াদি পদক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। জ্বালানি সাশ্রয়ে প্রশাসনিক আচরণ পরিবর্তনের সুপারিশও রয়েছে, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে সম্মেলনের যাতায়াত ব্যবস্থায়।

স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকারিতা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক পদ্ধতিÑ এসব বিষয়ে একাধিক প্রস্তাব এসেছে। গুজব প্রতিরোধে সামাজিক মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

অবকাঠামো ও আঞ্চলিক উন্নয়ন

Manual2 Ad Code

সড়ক, সেতু, পর্যটন অবকাঠামো, কোল্ড স্টোরেজ, ক্রীড়া স্থাপনা, বিমানবন্দরÑ বিভিন্ন জেলায় নির্দিষ্ট প্রকল্পের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার প্রস্তাব রয়েছে। যেমনÑ পাবনায় পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক মানের কোল্ড স্টোরেজ; কুষ্টিয়ায় গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন; রাজবাড়ীতে পদ্মা ব্যারাজ; বগুড়ায় উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও ক্রীড়া অবকাঠামো।

ইশতেহার বাস্তবায়ন : প্রশাসনের কাঁধে কতটা চাপ

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের অধীনে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তায় বড় ধরনের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড চালু; কর্মসংস্থান সৃষ্টি; বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতিÑ এসব বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা নির্ণায়ক।

এ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী বলেছেন, ‘ডিসিরা সরকারের নীতি ও কর্মকৌশল বাস্তবায়নের প্রধান মাধ্যম। আমরা চাই মাঠ প্রশাসন সততা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করুক। পদোন্নতি, পদায়ন ও বদলিতে যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।’ তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসনকে ‘শাসক’ নয়, ‘সেবক’ হিসেবে পুনর্গঠনের বার্তাই এবার প্রধান।

 

গুজব, সামাজিক মাধ্যম ও প্রশাসন

Manual2 Ad Code

ডিজিটাল পরিসরে গুজব ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। সম্মেলনের প্রস্তাবগুলোতে দেখা যাচ্ছে, জেলা পর্যায়ে তথ্য যাচাই, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সমন্বিত কৌশল চাওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, স্থানীয় কমিউনিটি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমকে যুক্ত করে বহুমাত্রিক পদ্ধতি নিতে হবে।

প্রশাসনিক বাস্তবতা বনাম প্রত্যাশা

ডিসি সম্মেলন ঐতিহ্যগতভাবে ‘সমস্যা তুলে ধরা’ এবং ‘সমাধানের দিকনির্দেশনা’Ñ এই দুইয়ের মিলনস্থল। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ থাকে বাজেট, সমন্বয় এবং ধারাবাহিকতার। পূর্ববর্তী সম্মেলনগুলোর অনেক সিদ্ধান্ত মাঠে পূর্ণ বাস্তবায়ন পায়নিÑ এমন অভিযোগও আছে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক আমলা ড. আব্দুস সবুর বলেন, ‘সম্মেলনে অনেক ভালো প্রস্তাব আসে, কিন্তু পরে তা অনুসরণ করার জন্য শক্তিশালী মনিটরিং কাঠামো দরকার। না হলে সিদ্ধান্ত কাগজেই থেকে যায়।’

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০  

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code