লিমন ও বৃষ্টি হত্যা কাণ্ড: হিশামকে আটক রাখার নির্দেশ
লিমন ও বৃষ্টি হত্যা কাণ্ড: হিশামকে আটক রাখার নির্দেশ
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ণ
Manual3 Ad Code
নিউজ ডেস্ক :
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগে মূল অভিযুক্ত হিশাম আবু গারবিয়েহকে জামিনবিহীনভাবে আটক রাখার আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার ফ্লোরিডার টেম্পা এলাকার একটি আদালতে সংক্ষিপ্ত শুনানির সময় হিলসবোরো কাউন্টির বিচারক লোগান মারফি ২৬ বছর বয়সী হিশামকে কোনো সাক্ষী বা নিহতদের আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না দেওয়ারও নির্দেশ দেন।
Manual7 Ad Code
দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টিকে হত্যার ঘটনায় সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি সোয়াট টিম হিশামকে গ্রেপ্তার করে। আদালতের নথি অনুযায়ী, আবু গারবিয়েহের বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ প্রথম-ডিগ্রি হত্যার দুটি অভিযোগসহ অন্যান্য অভিযোগও রয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে আবু গারবিয়েহের মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। যদিও প্রসিকিউটররা এখনও জানাননি, তারা মৃত্যুদণ্ড চাইবেন কিনা।
Manual6 Ad Code
গতকাল সকালের শুনানির সময় আবু গারবিয়েহ আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। সরকারি আইনজীবী জেনিফার স্প্র্যাডলি গত সোমবার বলেন, তাঁর দপ্তর এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবে না।
এক আত্মীয় জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ২৭ বছর বয়সী ডক্টরাল শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হওয়ার আগে বিয়ের কথা ভাবছিলেন। লিমনকে শেষবার ক্যাম্পাসের বাইরের একটি ভবনে দেখা গিয়েছিল, যেখানে তিনি আবু গারবিয়েহ এবং আরেকজন রুমমেটের সঙ্গে একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন।
গোয়েন্দারা সেলফোনের অবস্থান ও লাইসেন্স প্লেট রিডারের ডেটা ব্যবহার করে আবু গারবিয়েহর গাড়ি ও লিমনের ফোন ট্র্যাক করে সেই সেতু পর্যন্ত পৌঁছান, যেখানে গত শুক্রবার সকালে লিমনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। প্রসিকিউটরদের দাখিল করা একটি প্রতিবেদন অনুসারে, লিমনের শরীরে অসংখ্য ছুরির আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তাঁকে বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়।
Manual6 Ad Code
ডেপুটিরা বৃষ্টির সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছিলেন। গত রোববার শেরিফের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, সেতুর কাছে জলাশয়ে একটি মৃতদেহ পাওয়া গেছে। শেরিফের কার্যালয় জানায়, গতকাল পর্যন্ত মৃতদেহটি শনাক্ত করা যায়নি।
Manual8 Ad Code
‘বাবা-মাকে এত জোরে কখনও কাঁদতে শুনিনি’
নিহত পিএইচডি শিক্ষার্থী লিমনের ছোট ভাই জোয়ায়ের আহমেদ ফ্লোরিডার স্থানীয় গণমাধ্যম টেম্পা বে টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘এটা আমার জন্য ছিল দীর্ঘ ও অন্ধকার রাত। আমি কখনও আমার মা-বাবাকে এত জোর শব্দে কাঁদতে শুনিনি। তারা শিশুর মতো কাঁদছিলেন।’ মূল অভিযুক্ত হিশাম সম্পর্কে লিমনের উদ্ধৃতি দিয়ে জোবায়ের বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমার ভাই ওই বাসায় উঠেছিলেন। তিনি প্রায়ই বলতেন– লোকটি কেমন যেন, কারও সঙ্গে মিলমিশ নেই; কিছুটা সাইকোপ্যাথ টাইপ। আমার ভাই এটা বুঝতে পারছিলেন না।’