প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৯শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

উদ্বৃত্ত কোরবানির পশু, উদ্বেগ চোরাচালান নিয়ে

editor
প্রকাশিত মে ২১, ২০২৬, ০১:১৬ অপরাহ্ণ
উদ্বৃত্ত কোরবানির পশু, উদ্বেগ চোরাচালান নিয়ে

Manual7 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

Manual4 Ad Code

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ঘরে ঘরে পশু কেনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সামর্থ্যবান মানুষেরা নিজেদের পছন্দমতো পশু কিনতে হাটগুলোতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন, অনেকেই আবার অনলাইনে পশু কিনছেন।

দেশে এ বছর কোরবানির পশু উদ্বৃত্ত থাকবে ২২ লাখের বেশি। কিন্তু সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় ও মিয়ানমারের গরু দেশে প্রবেশ করলে দেশীয় খামারিরা চরম বিপাকে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

তবে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

 

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার কোরবানির পশুর প্রাপ্ততা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। এর বিপরীতে চাহিদা রয়েছে প্রায় ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার। ফলে উদ্বৃত্ত পশুর সংখ্যা ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি। দেশের আট বিভাগের মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম ছাড়া রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও রংপুরে পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।

কিন্তু এরই মধ্যে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে গরু প্রবেশের গুঞ্জন শোনা গেছে। জয়পুরহাট ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাদমান জয় রায়হান বলেন, “খামারে বিদ্যুৎ, খাবার ও ওষুধসহ অন্যান্য ব্যয় এ বছর বেশি ছিল। এখন যদি সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানিরা গরু প্রবেশ করায় তাহলে আমাদের লোকসান হবে।”

ময়মনসিংহের ধোবাড়া থানার খামারি জাহিদ হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন, “আমাদের সীমান্ত দিয়ে প্রায় প্রতিবছরই ভারতীয় গরু ঢোকে। সরকার যদি এ বছর কড়া নজরদারি করতে ব্যর্থ হয় তাহলে আমরা বিপদে পড়ব। কারণ এ বছর ব্যয়ের পরিমাণ বেশি ছিল।”

Manual1 Ad Code

কোরবানির পশুর বিভাগীয় চিত্র

খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. গোলাম হায়দার বলেন, “খুলনায় কোরবানির চাহিদার চেয়ে পশুর সংখ্যা ৩ লাখ ৬৭ হাজার বেশি রয়েছে। বিভাগটিতে কোরবানির পশুর চাহিদা ১০ লাখ ৭৯ হাজার। সেখানে মজুদ রয়েছে ১৪ লাখ ৪৬ হাজারের বেশে। বিভাগটিতে ১৭০টি হাট রয়েছে। এর মধ্যে স্থায়ী হাটের সংখ্যা ১২১টি ও অস্থায়ী ৪৯টি। এসব হাটে পশুদের চিকিৎসা দিতে ১৪২টি দল দায়িত্ব পালন করবে। আমাদের এখানকার উদ্বৃত্ত পশুগুলো সাধারণত ঢাকা ও চট্টগ্রামে বাজারজাত করা হয়। এ বিভাগের চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ায় সবচেয়ে বেশি পশু পালন করা হয়।”

বরিশাল বিভাগ

বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক মো. মাহফুজুল হক বলেন, “বরিশালে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৪ লাখ। সেখানে এ বছর পশু প্রস্তুত করা হয়েছে ৪ লাখ ৬৮ হাজার। সে হিসাবে আমাদের প্রায় ৬৮ হাজার পশু অতিরিক্ত থাকবে। এগুলো ঢাকাসহ আশপাশের জেলায় বিক্রি হয়। তা ছাড়া বরিশালের উদ্বৃত্ত পশু চট্টগ্রাম ও ঢাকার চাহিদাও মেটায়।’ তিনি জানান, এখানকার মানুষ নদী ও খোলা প্রান্তরে গরুকে কাঁচা ঘাস খাওয়ানোয় উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক কম।”

সিলেট বিভাগ

সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ড. আবু জাফর মো. ফেরদৌস বলেন, “সিলেটে কোরবানির চাহিদা রয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার। এর বিপরীতে পশু রয়েছে ২ লাখ ৮০ হাজার। আমরা আশা করছি, ৮ থেকে ১০ হাজার পশু অতিরিক্ত থাকবে।”

চাহিদা নিরূপণ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে করা হয় জানিয়ে চোরাচালান প্রতিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সীমান্ত দিয়ে গবাদিপশু প্রবেশ ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ আমাদের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কাজ করা হচ্ছে। আমরা চাই খামারিরা তাদের পশুগুলো দেশেই বিক্রি করুক। পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে কোনো ধরনের পশু যাতে কোনোভাবেই দেশে ঢুকতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজর রাখা হচ্ছে।”

ময়মনসিংহ বিভাগ

Manual7 Ad Code

ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক মনোরঞ্জন ধর বলেন, “আমরা বিক্রেতা-ক্রেতা উভয়ের মুখেই হাসি দেখতে চাই। আমাদের বিভাগে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৫৮৮টি। বিপরীতে কোরবানির যোগ্য পশু রয়েছে ৫ লাখ ৬১ হাজার ৬৩৯টি। উদ্বৃত্ত থাকবে ১ লাখ ১৭ হাজার ৫১টি।”

ভারতীয় পশু প্রবেশ ঠেকাতে তিনি বলেন, “এটি প্রতিরোধে আমরা প্রতিটি ওয়ার্ড পর্যায়ে বিভিন্ন পেশার মানুষদের নিয়ে কমিটি গঠন করেছি। আশা করি চোরাচালান বন্ধ করা সম্ভব হবে।”

Manual7 Ad Code

সবচেয়ে বেশি উদ্বৃত্ত রাজশাহীতে

দেশে পশুর উৎপাদন সবচেয়ে বেশি রাজশাহী বিভাগে। এ বিষয়ে বিভাগীয় কর্মকর্তা ড. আনন্দ কুমার বলেন, “আমাদের এখানে ১৮ লাখ ৭০ হাজার ৫৩৯টি পশু উদ্বৃত্ত থাকতে পারে। কারণ আমাদের চাহিদা রয়েছে ২৪ লাখ ৫ হাজার ৮৯টি, আর পশু প্রস্তুত রয়েছে ৪৩ লাখ ৫ হাজার ৬২৮টি।”

কী বলছে সরকার

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান তুহিন বলেন, “এবার আমাদের কোরবানির চাহিদার তুলনায় ২২ লাখ ৩৩ হাজার গবাদিপশু বেশি আছে। কোরবানিতে পশুর কোনো ঘাটতি হবে না। তা ছাড়া সীমান্তে বিজিবি, পুলিশ, কোস্ট গার্ডসহ আমাদের কর্মকর্তা ও স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে চোরাচালান বন্ধ করতে সরকার তৎপর রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো চোরাচালানের সংবাদ আমরা পাইনি। সারা দেশের পশুর হাটগুলোতে ভেটেরিনারি দল কাজ করবে। কোনো পশু অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হবে।”

মন্ত্রী ও ডিএনসিসির হুঁশিয়ারি

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী একাধিকবার বলেছেন, সীমান্ত দিয়ে ভারত ও মিয়ানমারের গরু ঢুকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, “কোরবানির পশুর হাট নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ দিনের জন্য বসবে। এর আগে কোনো ধরনের বেচাকেনা বা কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে তা অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে।”

সীমান্তে বিজিবির আধুনিক নজরদারি

অবৈধ গরু প্রবেশ রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। আটটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত জেলায় (চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, যশোর, সাতক্ষীরা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজার) অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন ও চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। রাতের আঁধারে চোরাচালান ঠেকাতে ড্রোন, সার্চলাইট ও থার্মাল ডিভাইস ব্যবহারের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code