চীনের সঙ্গে গভীর শিল্প অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
চীনের সঙ্গে গভীর শিল্প অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
editor
প্রকাশিত জুন ২৫, ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ
Manual7 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ শীর্ষক সম্মেলনে চীনা ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত এবং চীনের সঙ্গে আরও গভীর শিল্প অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী।
Manual3 Ad Code
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই হোটেলে চীনের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত এ সম্মেলনে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে চীনা ব্যবসায়ীদের সামনে বিশেষ প্রেজেন্টেশন দেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। সম্মেলনে চীনের ১২৫ ব্যবসায়ী অংশগ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পুঁজিসংক্রান্ত কার্যপ্রণালি ঢেলে সাজাতে সরকার ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস, সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন, নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকরণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
Manual5 Ad Code
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল এবং মোংলায় দ্বিতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি চীনা বিনিয়োগকারীদের আরও কার্যকর সেবা প্রদানের লক্ষ্যে শিগগিরই চীনে বাংলাদেশের প্রথম ‘বিনিয়োগ কার্যালয়’ চালু করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, আমরা চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে তাদের ভ্যালু চেইন সম্প্রসারণের জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমরা চীনা কোম্পানিগুলোকে বৈশ্বিক বাজারে পরিষেবা দিতে সাহায্য করতে পারি এবং একই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বৃহৎ অভ্যন্তরীণ চাহিদা থেকে লাভবান হতে পারি।
Manual4 Ad Code
তিনি বলেন, আমরা চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষায়িত শিল্প অবতরণ কেন্দ্র তৈরি করছি, যার মধ্যে আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল এবং মোংলায় একটি দ্বিতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত। এ স্থানগুলো লজিস্টিকস, বন্দর সংযোগ, পরিষেবা, কর্মী, সরবরাহকারী এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি ইকোসিস্টেম প্রদান করে।
তিনি আরও বলেন, আমরা চীনের সঙ্গে আমাদের দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তি উন্নত করার জন্যও কাজ করছি, যাতে বিনিয়োগকারীরা আরও শক্তিশালী আস্থা, সুস্পষ্ট সুরক্ষা এবং বিনিয়োগের জন্য একটি আরও আধুনিক কাঠামো পেতে পারেন। শীর্ষ বিনিয়োগ প্রচার সংস্থা বিআইডিএর এখন চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষায়িত সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা ডেস্ক রয়েছে। আপনারা যেমন দেখেছেন, চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষায়িত ওয়েবসাইটও রয়েছে, যাতে বিভিন্ন খাতের সুযোগ, প্রণোদনা এবং প্রক্রিয়াগুলো আরও সহজে পাওয়া যায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন, এ ফোরাম থেকে আমরা একটি অভিন্ন সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যাই, যা এ অঞ্চলের সুযোগগুলোকে বাংলাদেশ ও চীন উভয়ের জন্য দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সমৃদ্ধিতে রূপান্তরিত করবে।
এই সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ।