জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:
সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্তবর্তী শ্রীপুর চা বাগান ও আসামপাড়া গুচ্ছগ্রাম এলাকায় দেখা দিয়েছে ‘বাঘ আতঙ্ক’। গত জুন মাসে অন্তত ৩টি গরু নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর শ্রীপুর চা বাগানে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। গরুগুলোর শরীরে আঁচড় ও গলায় কামড়ের চিহ্ন থাকায় স্থানীয়দের ধারণা, কোনো হিংস্র বন্যপ্রাণীর আক্রমণেই এসব প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে তদন্ত শুরু করেছে বন বিভাগ।
স্থানীয় বাসিন্দা আলি আকবর জানান, আসামপাড়া গুচ্ছগ্রাম এলাকা থেকেই প্রতিদিন প্রায় ১৫০ থেকে ২০০টি বড়-ছোট গরু ঘাস খাওয়ার জন্য শ্রীপুর চা বাগান, জামটিলা, খড়মপুড়টিলাসহ আশপাশের এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। গুচ্ছগ্রাম থেকে মেঘালয় ভ্যালি খেলার মাঠ হয়ে এসব গরু চা বাগানের বিস্তীর্ণ এলাকায় চরতে যায়। পুরো এলাকাজুড়ে কোনো জনবসতি না থাকায় গবাদিপশু প্রায়ই নির্জন পরিবেশে অবস্থান করে।
জানা যায়, সম্প্রতি গুচ্ছগ্রামের হারিকুস্ত এলাকার একটি গরু নিখোঁজ হয়। পরদিন জামটিলা এলাকায় গরুটিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। গরুটির শরীরজুড়ে আঁচড়ের দাগ এবং গলায় কামড়ের চিহ্ন ছিল। এছাড়া পেটের নরম অংশ খেয়ে ফেলে যায় শিকারী প্রাণীটি। এর কয়েকদিনের ব্যবধানে সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল আলি ও আলেক মিয়ার আরও দুটি গরু নিখোঁজ হয়। একদিন পর খড়মপুড়টিলা এলাকায় একই ধরনের আঘাতের চিহ্নসহ গরু দুটি মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলের কাছেই একটি শিয়াল ও একটি কুকুরের মরদেহও পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের দাবি, প্রাণী দুটির গলাতেও ক্ষতের চিহ্ন ছিল। তাদের ধারণা, মৃত গরুর মাংস খেতে এসে শিকারী প্রাণীর আক্রমণে শিয়াল ও কুকুরটির মৃত্যু হয়েছে। টানা ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে তিনটি গবাদিপশুর এমন মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, সীমান্তবর্তী বনাঞ্চলে কোনো হিংস্র প্রাণী অবস্থান করছে।
Manual5 Ad Code
আলি আকবর বলেন, “শ্রীপুর চা বাগান এলাকায় শিয়াল, বনবিড়াল ও মেছো বিড়ালের বিচরণ রয়েছে। কিন্তু যে প্রথম গরুটি মারা গেছে সেটি ছিল অনেক বড়, যার বাজারমূল্য এক লাখ টাকারও বেশি। ছোটখাটো কোনো বন্যপ্রাণীর পক্ষে এত বড় গরুকে আক্রমণ করে হত্যা করা সম্ভব নয়। তিনটি গরুর শরীরে একই ধরনের আঁচড় ও আঘাতের চিহ্ন দেখে মনে হচ্ছে কোনো হিংস্র প্রাণীর আক্রমণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।”
Manual4 Ad Code
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর সারী রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহলম ইসলাম জানান, সোমবার দুপুরে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মৃত তিনটি গরুর শরীরের আঘাত ও ক্ষতের চিহ্নের ছবি সংগ্রহ করে নমুনা হিসেবে বন্যপ্রাণী গবেষণা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
Manual3 Ad Code
তিনি আরও বলেন, শ্রীপুর চা বাগান ও মেঘালয় সীমান্তবর্তী বনাঞ্চলে মেছো বিড়াল, শিয়াল ও বনবিড়ালের বিচরণ রয়েছে। তবে এসব প্রাণীর পক্ষে একটি পূর্ণবয়স্ক গরুকে আক্রমণ করে হত্যা করা সম্ভব নয়।
Manual3 Ad Code
রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, একসময় পার্শ্ববর্তী মেঘালয়ের পাহাড়ি বনে লেপার্ড বা চিতাবাঘের নিয়মিত বিচরণ ছিল। বর্তমানে এ প্রাণী বিলুপ্তপ্রায় হলেও সীমান্ত অতিক্রম করে দলছুট কোনো লেপার্ড শ্রীপুর চা বাগান এলাকায় চলে আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এ ধরনের প্রাণী সাধারণত নিশাচর হওয়ায় দিনের বেলায় সহজে চোখে পড়ে না।
পরপর তিনটি গবাদিপশুর মৃত্যুর ঘটনায় বন বিভাগ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী শ্রীপুর চা বাগান ও আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করার আহ্বান জানিয়েছে বন বিভাগ।