প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৭ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

এবার কী জানা যাবে অমীমাংসিত ইতিহাস

editor
প্রকাশিত জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ
এবার কী জানা যাবে অমীমাংসিত ইতিহাস

Manual4 Ad Code

 

Manual1 Ad Code

প্রজন্ম ডেস্ক:

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে অভিযুক্ত মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন গ্রেপ্তার হওয়ায় দীর্ঘ ৪৫ বছর পর আবারও সামনে এসেছে ইতিহাসের ‘অমীমাংসিত’ নানা প্রশ্ন। তবে মূল আলোচনায় রয়েছে মেজর মোজাফফর এতদিন কোথায়-কীভাবে আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি কি দেশেই ছিলেন, না কি বিদেশে পলাতক ছিলেন? কীভাবে তিনি গোয়েন্দাদের জালে ধরা পড়লেন, এমন নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে অনেকের মনে। তবে এসব প্রশ্নের বেশ কিছু জবাব বা ‘ক্লু’ পেয়েছে খবরের কাগজ।

৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার হওয়া মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন দীর্ঘদিন ভারতসহ বিভিন্ন স্থানে ‘বিপ্লব সরকার’ ও ‘জয় ব্যানার্জি’ ছদ্মনামে আত্মগোপনে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জীবিত একমাত্র অভিযুক্ত হওয়ায় তার জিজ্ঞাসাবাদে ১৯৮১ সালের বহু অমীমাংসিত ঘটনার তথ্য সামনে আসতে পারে।
ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বনানীর একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পরে সামরিক পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, প্রতিবেশী দেশ ভারত ও থাইল্যান্ডে বিভিন্ন সময়ে মেজর মোজাফফরের অবস্থান বা যাতায়াত ছিল। ভারতে তিনি ‘বিপ্লব সরকার’ ও ‘জয় ব্যানার্জি’ নামে দুটি পরিচয় ব্যবহার করেন। রাজধানী ঢাকার বনানীতে মেয়ের বাসায় তার ‘অনিয়মিত’ যাতায়াত ছিল। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা বা সংশ্লিষ্টরা এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি জিয়া হত্যাসহ ওই সময়ের বেশ কিছু ঘটনায় সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের দিক থেকেও মেজর মোজাফফর গ্রেপ্তারের বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, রাষ্ট্রপতি জিয়া হত্যায় জড়িত হিসেবে যে কয়েকজনের নাম বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত, তাদের মধ্যে একমাত্র জীবিত ব্যক্তি এই মেজর মোজাফফর। ফলে তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে ১৯৮১ সালে ৩০ মে চট্টগ্রামে সংঘটিত তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড এবং পরে সেনা বিদ্রোহ, ক্যুসহ ওই সময়ের বিভিন্ন ‘অমীমাংসিত’ সত্য উন্মোচনের নতুন সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা।

১৯৮১ সালের অমীমাংসিত ইতিহাস উন্মোচনের সম্ভাবনা

ইতিহাসের কলঙ্কিত এক অধ্যায় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে সংঘটিত হয়।

 

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমানের (বীর উত্তম) হত্যাকাণ্ড এবং তৎপরবর্তী সেনা বিদ্রোহ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অমীমাংসিত অধ্যায়। ওই সময়ের বিভিন্ন সামরিক অভ্যুত্থান, মেজর জেনারেল এম এ মঞ্জুরকে হত্যা, জেনারেল এরশাদের ক্ষমতা গ্রহণ এবং এসব ঘটনায় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহলের ভূমিকা আলোচনাসংক্রান্ত বিষয়গুলো দেশের ইতিহাসে আজও এক ধূসর অংশ হিসেবে রয়ে গেছে। এ ছাড়া সে সময়ে রাষ্ট্রপতি জিয়া হত্যার বিচারকাজ অতি দ্রুততার সঙ্গে শেষ করায় প্রকৃত কুশীলবদের ভূমিকা নিয়েও দীর্ঘস্থায়ী বিতর্কের সৃষ্টি হয়, যার ফলে আজও অনেক প্রশ্নের সঠিক উত্তর মেলেনি।

 

বিভিন্ন নথিপত্র অনুসারে,  মেজর মোজাফফর ১৯৮১ সালের ওই ঘটনাগুলোর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। তাছাড়া এ ঘটনায় সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই বর্তমানে একমাত্র জীবিত রয়েছেন। ফলে মোজাফফরের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি জিয়া হত্যাসহ ওই সময়ের বেশ কিছু সামরিক-রাজনৈতিক অপতৎপরতার তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের মাধ্যমে জাতির সামনে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার এক সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।

Manual3 Ad Code

 

রক্ষীবাহিনীতে কমিশন লাভ ও ভারতে ছদ্মনাম

Manual7 Ad Code

সংশ্লিষ্টরা জানান, মেজর মোজাফফর প্রথম জাতীয় রক্ষীবাহিনীতে (জেআরবি) কমিশন পেয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রক্ষীবাহিনীর সদস্যদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৮১ সালে তিনি চট্টগ্রামে ২৪ পদাতিক ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতায় আত্মগোপন করে থাকেন। সে সময় তিনি নিজেকে ‘বিপ্লব সরকার’ এবং ‘জয় ব্যানার্জি’–এই দুটি ছদ্মনামে পরিচয় দিতেন। পরে ১৯৯৬ সালে তিনি একবার দেশে ফিরে এসেছিলেন। এরপর স্থায়ীভাবে দেশে ছিলেন বা বিদেশে ছিলেন কি না, সেগুলো এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ঢাকায় তার মেয়ের বাসায় ‘অনিয়মিত’ যাতায়াত ছিল বলেও একটি সূত্র থেকে জানা যায়।

 

শুক্রবার (১৭ জুলাই) এ বিষয়ে একাধিক ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক ওই সেনা কর্মকর্তারা বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তথা ওই ঘটনার বিশালতা ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে মোজাফফরকে সমন্বিতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে সব বাহিনীর সমন্বয়ে একটি গ্রহণযোগ্য বা যথাযথ তদন্ত সেল গঠন করা যেতে পারে। তাদের মতে, কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক উদ্দেশ্যে নয়, বরং ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, জাতীয় আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের স্বার্থেই নির্মোহ তদন্ত হওয়া উচিত। মোজাফফরের কাছ থেকে অমীমাংসিত অনেক সত্য বা প্রকৃত ইতিহাস জানা সম্ভব বলেও মনে করেন তারা।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে ঢাকা থেকে মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পরের দিন বৃহস্পতিবার ডিএমপির আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে শুধু বলা হয়, ‘জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। বিশ্বস্ত সোর্স ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণপূর্বক ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ তার অবস্থান শনাক্তের মাধ্যমে বনানীর একটি বাসা থেকে মোজাফফরকে গ্রেপ্তার করা হয়।’ এ ছাড়া আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের (এমপি) কাছে যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানায় ডিএমপি।

Manual5 Ad Code

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০  

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code