নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটে হামের ভয়াবহতা কাটছে না। বরং প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম-সদৃশ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯১ জন সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর সিলেট বিভাগে হামে নিশ্চিতভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২৭ জনে। আর সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৫ জনে।
Manual3 Ad Code
রোববার (৯ আগস্ট) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় প্রকাশিত হাম ও রুবেলা রোগের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সিলেট জেলায় ২৭১ জন, হবিগঞ্জে ১০৩ জন, মৌলভীবাজারে ১০২ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৫১ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। হবিগঞ্জের শনাক্ত রোগীদের মধ্যে দুজন রুবেলায় আক্রান্ত।
Manual7 Ad Code
হামের সংক্রমণের চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে হাসপাতালগুলোতে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৯১ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী নতুন করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৫ জন, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫১ জন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঁচজন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে সাতজন ভর্তি হয়েছেন।
Manual5 Ad Code
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৭১ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১২১ জন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬২ জন চিকিৎসাধীন। এছাড়া রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ছয়জন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচজন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৪১ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে দুজন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২১ জন ভর্তি রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহভাজন হাম রোগে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে হবিগঞ্জের তিন বছরের শিশু মো. এহসান, হবিগঞ্জের ১৮ বছর বয়সী শ্যামলা রানী দাস এবং সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের আট মাস বয়সী আয়ান রয়েছেন। তারা যথাক্রমে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
জেলা ভিত্তিক হিসাবেও মৃত্যুর চিত্র উদ্বেগজনক। এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগে সিলেটে ৪০ জন, হবিগঞ্জে ১৬ জন, মৌলভীবাজারে ১২ জন এবং সুনামগঞ্জে ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগে সিলেটে চারজন ও মৌলভীবাজারে একজনসহ মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে সিলেট বিভাগে হাম-সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত রোগীদের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ১২৫ জন।
জেলার হিসাবে নিশ্চিত হাম শনাক্তের দিক থেকে সুনামগঞ্জ সবার ওপরে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত জেলায় ৩৫১ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে জেলায় সন্দেহভাজন হাম রোগে ৫১ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ সুনামগঞ্জে হাম-সংশ্লিষ্ট মোট মৃত্যু ৫২ জন।
সিলেটে এ পর্যন্ত ২৭১ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে এবং হাম-সংশ্লিষ্ট মোট মৃত্যু ৪৪ জন। হবিগঞ্জে শনাক্ত হয়েছেন ১০৩ জন, মৃত্যু ১৬ জন। মৌলভীবাজারে শনাক্ত ১০২ জন এবং মোট মৃত্যু ১৩ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, একদিকে নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিদিনই হাসপাতালে যোগ হচ্ছে বিপুলসংখ্যক সন্দেহভাজন রোগী। এর সঙ্গে মৃত্যুর ধারাবাহিকতাও অব্যাহত রয়েছে।
ফলে সিলেট বিভাগে হাম পরিস্থিতি এখন শুধু আক্রান্তের সংখ্যা দিয়ে নয়, হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ ও মৃত্যুর হার দিয়েও উদ্বেগ তৈরি করছে।