প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৩০শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

সিলেটে তিন খুন, ছোরা উদ্ধারের পর যে বর্ণনা দিল পুলিশ

editor
প্রকাশিত আগস্ট ১৩, ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
সিলেটে তিন খুন, ছোরা উদ্ধারের পর যে বর্ণনা দিল পুলিশ

Manual3 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিলেট মহানগরীর রায়নগর আবাসিক এলাকার মিতালী ১১১ নম্বর বাসায় স্বামী-স্ত্রী ও গৃহকর্মী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরাটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত বাবুল মিয়ার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে রায়নগরের একটি খালি জায়গা থেকে ছোরাটি উদ্ধার করা হয়। এতে শুকনো রক্তের দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আলামত উদ্ধারের বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব তথ্য জানান সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর ও প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

Manual5 Ad Code

উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল মিয়া ছোরাটি রায়নগর এলাকার একটি খালি প্লটে ফেলে দেন। বুধবার সন্ধ্যায় ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়েও ছোরাটি পাওয়া যায়নি। পরে বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিক নিয়ে পুনরায় সেখানে তল্লাশি শুরু করা হয়। একপর্যায়ে ছোরাটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ছোরাটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। ছোরায় থাকা রক্তের সঙ্গে ঘটনাস্থলে পাওয়া রক্তের নমুনা মিলিয়ে দেখা হবে। এর মাধ্যমে ছোরায় থাকা রক্ত কার, সেটিও নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের আলামত বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পর ছোরাটি ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। বাসার বেসিন ও হাত ধোয়ার স্থানেও রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ছোরার ধাতব অংশে শুকনো রক্তের দাগ রয়েছে। এছাড়া একটি ব্যাগেও রক্তের দাগ পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল মিয়া যে ধরনের ছোরার কথা বলেছেন, উদ্ধার করা ছোরাটির সঙ্গে তার যথেষ্ট মিল রয়েছে। বাবুল মিয়া রংমিস্ত্রির পাশাপাশি কসাইয়ের কাজও করেন। কসাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ছুরি সাধারণত শক্ত ও মজবুত হয়ে থাকে।

বাবুলের দেওয়া বর্ণনা অনুযায়ী, ছোরাটি ছয় থেকে সাত ইঞ্চি লম্বা এবং কাঠের হাতলযুক্ত হওয়ার কথা। উদ্ধার করা ছোরাটির সঙ্গে সেই বর্ণনার যথেষ্ট মিল রয়েছে। তবে ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল ও অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে ছোরাটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রেমের সম্পর্ক নাকি সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধ- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল মিয়া জানান, রং করার কাজ করতে গিয়ে নিহত গৃহকর্মীর সঙ্গে তার পরিচয় ও যোগাযোগ হয়। তাদের মধ্যে সম্পর্কটি প্রেমের পর্যায়ে গিয়েছিল কি-না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গ্রেফতার বাবুল মিয়ার বরাত দিয়ে পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, প্রথমে গৃহকর্মীকে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়। তাকে রক্ষা করতে গৃহকর্ত্রী এগিয়ে এলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। পরে গৃহকর্তা এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। এরপর বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান বাবুল মিয়া। গৃহকর্মীর আচরণে বাবুল মিয়া ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি ছুরি নিয়ে ওই বাসায় গিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

ঘটনাস্থল সম্পর্কে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, বাসায় প্রবেশের সময় দরজার নিচের ছোট ছিটকানি ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। বাবুল মিয়া যে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন, সেখানকার রেলিংয়ে হাতের ছাপ ও পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে। বারান্দার নিচেও রক্তের চিহ্ন মিলেছে। ঘটনার পর বাসার কয়েকটি ওয়ারড্রোব ও আলমারি খোলা অবস্থায় পাওয়া গেলেও সেগুলো ভাঙা ছিল না। সেখান থেকে কোনো মূল্যবান জিনিসপত্র নেওয়া হয়েছে কি-না, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

Manual5 Ad Code

তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তিন পাতার একটি দলিলসদৃশ কাগজ পাওয়া গেছে। সেটি মূল দলিল নয়, সম্ভবত ফটোকপি বা অনুলিপি। এর সঙ্গে কোনো মামলা বা সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সময় বাবুল মিয়া ছাড়া অন্য কেউ ওই বাসায় প্রবেশ করেছিলেন কি-না, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, বাবুল মিয়া এর আগে ওই বাসায় রঙের করার কাজ করায় ঘরের ভেতরের পরিবেশ ও বিভিন্ন জিনিসপত্র সম্পর্কে তার ধারণা ছিল। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন বাসাভাড়া দিতে পারছিলেন না বলেও পুলিশ জানতে পেরেছে। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি বাসাভাড়া পরিশোধ করেছেন কি-না এবং ঘটনার পর কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

মামলার বিষয়ে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, নিহত দম্পতির প্রবাসী সন্তানরা দেশে এসে আইনজীবী ও স্বজনদের মাধ্যমে এজাহার দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এজাহার পাওয়া গেলে তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হবে। এরপর গ্রেফতার বাবুল মিয়াকে আদালতে হাজির করা হবে।

Manual1 Ad Code

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের সব আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার পাশাপাশি সাক্ষ্য-প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। এরপরই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কার কী ভূমিকা ছিল, সে বিষয়ে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Manual4 Ad Code

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code