বিয়ানীবাজারের সেই আলোচিত নৌকা বাইচ: বাধা পেরোলেও বিতর্ক ছাড়ছেনা
বিয়ানীবাজারের সেই আলোচিত নৌকা বাইচ: বাধা পেরোলেও বিতর্ক ছাড়ছেনা
editor
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ০৯:১৯ পূর্বাহ্ণ
Manual1 Ad Code
মিলাদ জয়নুল:
Manual4 Ad Code
বিয়ানীবাজারে বাধা পেরিয়ে দু’দফা অনুষ্ঠিত আলোচিত সেই নৌকা বাইচের বিতর্ক যেন পিছুই ছাড়ছেনা। সর্বশেষ রবিবার সুনাই নদীতে এ প্রতিযোগীতার ফাইনাল পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। তবে বাইচে প্রতিযোগীতার নিয়ম লঙ্গন হয়েছে মর্মে আয়োজকরা এবারও বিজয়ী-বিজিতদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণ করেননি। এ নিয়ে প্রতিযোগীতার ফাইনাল বাইচ দেখতে আসা হাজারো দর্শক ও প্রতিযোগীদের মধ্যে ক্ষোভ লক্ষ করা গেছে।
Manual1 Ad Code
বিয়ানীবাজার উপজেলার সুনাই নদীর লাউতা ইউপি অংশে নৌকা বাইচের এ প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমদিকে স্থানীয় তৌহিদী জনতা নামীয় একটি পক্ষের আপত্তির কারণে এ প্রতিযোগীতার আয়োজন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বিষয়টি সর্বপ্রথম বিয়ানীবাজারের আগামী প্রজন্ম পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এরপর জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হলে সর্বত্র ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় গত ২৮ আগস্ট বাইচের প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিনই পুরষ্কার বিতরণের ঘোষণা দেন আয়াজকরা। কিন্তু সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসা ও নিয়মের ব্যতয় হয়েছে অজুহাতে বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণ না করায় প্রশ্ন দেখা দেয়।
অমীমাংসিত সেই বাইচ প্রতিযোগীতা ১৩ সেপ্টেম্বর রবিবার ফের আয়োজন করা হলেও এদিনও পুরষ্কার বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। লাউতা ও বাহাদুরপুর গ্রামের যুবসমাজের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় গোলাপগঞ্জের কালীজুরির ‘পাগলা নাও’ ও হাকালুকির ‘বাঘ নাও’ অংশ নেয়। এবার সোনাই নদের তৃগাংগারমুখ এলাকায় নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিজয়ী নৌকার জন্য পুরস্কার হিসেবে একটি গরু এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী নৌকার জন্য একটি রেফ্রিজারেটর রাখা হয়েছে। এ নিয়ে হাকালুকির বাঘ নাও’য়ের পক্ষের লোকজন অভিযোগ করেন, তারা বিজয়ী হলেও অপরপক্ষের প্রভাবে আয়োজকরা পুরষ্কার দেননি। একেকটি প্রতিযোগীতায় অংশ নিতে প্রতিযোগীদের প্রচুর খরচ হয় বলেও তারা অভিযোগ করেন। কালিজুরীর পাগলা নাওয়ের লোকজন তাদের সাথে সংঘর্ষে জড়ায় বলেও তারা ভিডিও বার্তায় জানান। অপরদিকে কালিজুরীর পক্ষের লোকজনের দাবী, আয়োজকরা তাদের পুরষ্কার না দিয়ে অন্যায় করছেন। কারণ হাকালুকির নৌকা বাইচে পিছিয়ে ছিল।
Manual1 Ad Code
আয়োজক কমিটির সভাপতি আব্দুল লতিফ জানান, প্রতিযোগীতার প্রথম দুই পর্বে কমিটির নিয়ম লঙ্গিত হয়েছে। এরপর আমরা জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় আরেকটি পর্ব আয়োজন করতে চাইলেও কালিজুরী পাগলা নাও কর্তৃপক্ষ তা মানতে অপরগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমরা দ্রæত উভয়পক্ষকে নিয়ে বসে লটারীর মাধ্যমে বিজয়ী এবং বিজিত ঘোষণা করে পুরষ্কার তুলে দিব।
Manual2 Ad Code
নৌকাবাইচের চ‚ড়ান্ত পর্ব শুরুর আগেই সোনাই নদের দুই পাড়ে জড়ো হন হাজারো দর্শক। সংকেত দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিযোগী নৌকাগুলো ছুটে চলে নদের পানিতে। মাঝিদের সমন্বিত বৈঠার ছন্দে উত্তাল হয়ে ওঠে নদ। শিশু, নারীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে নৌকাবাইচ উপভোগ করেন। অনেকে মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।