বিয়ানীবাজারে পরিত্যক্ত পড়ে আছে দুই কোটি টাকার সরকারি সবজি শেড
বিয়ানীবাজারে পরিত্যক্ত পড়ে আছে দুই কোটি টাকার সরকারি সবজি শেড
editor
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০৯:৫১ পূর্বাহ্ণ
Manual8 Ad Code
কসবা বাজারের এই অংশে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পশু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ শেড নির্মাণ করা হলেও পরিত্যক্ত-আগামী প্রজন্ম/
মিলাদ জয়নুল:
বিয়ানীবাজার পৌরশহরের ত্রিমুখি বাজারে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য সরকারি সবজি শেড। বিশ^ ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় অর্ধনির্মিত সরকারি এই শেডের ভবিষ্যৎ কী, তা জানাতে পারছেনা কেউ।
জানা যায়, গ্রামীণ বাজারগুলোতে একই সীমানার মধ্যে মাংসের শেড বা দুগ্ধ কেনাবেচার স্থানের পাশে কৃষি বিপণন বা স্থানীয় সরকারের উদ্যোগে বিগত সরকার এসব সবজি শেড বা মাছের শেড তৈরি করে। স্থানীয় হাট-বাজারে সবজি বিক্রির সুবিধার্থে যে পাকা শেডগুলো নির্মিত হয়, সেগুলো স্থানীয় সরকার বিভাগ, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হয়। প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের আওতায় এলডিডিপি’র (লাইভস্টক এন্ড ডেইরী ডেভোলপমেন্ট প্রজেক্ট) উদ্যোগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়।
সূত্র জানায়, সিলেটের আরো কয়েকটি পৌরশহরের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিবেচনায় বিয়ানীবাজারের ত্রিমুখি বাজারেও এই প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। প্রথমদিকে ১ কোটি ১৭ লক্ষ টাকার এই প্রকল্প দুই দফা বৃদ্ধি পেয়ে পরবর্তীতে ১ কোটি ৯৭ টাকা নির্ধারিত হয়। শ্রীধরা বাজারে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়ম হলেও রহস্যজনক নীরবতা পালন করে তদারকি কর্তৃপক্ষ। নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের পাশাপাশি কাজের মান হয় অতি খারাপ। পরবর্তীতে এই প্রকল্পের অসমাপ্ত অংশ কসবা ত্রিমুখি বাজারের নদী ভরাট অংশে নির্মাণ করেন ঠিকাদার। বেআইনী এমন কাজ নিয়ে প্রকল্পের পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান এলাকাবাসী। কিন্তু এসব অভিযোগ-আপত্তি উপেক্ষা করে তৎকালীন পৌর কর্তৃপক্ষের তদারকিতে প্রকল্পের কাজ চালিয়ে নেয়া হয়। কসবা বাজারের অংশে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পশু জবাই, মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ভবিষ্যতে বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্যে শেডটি নির্মাণ করা হয়।
সরজমিন দেখা যায়, অপ্রয়োজনীয় এই প্রকল্পে সরকারি টাকা লুটপাটের জন্য নির্মিতব্য সবজি শেডের শ্রীধরা বাজারের অংশে মাছÑসবজি বিক্রি শুরু হয়েছে। অপর দোকানকোটাগুলো বন্ধ পড়ে আছে। কসবা বাজারের অংশের অবস্থাও একইরকম। বিদ্যুতের কাজ শেষ হয়নি, স্যানিটারী কাজও অসমাপ্ত। প্রকল্পের প্রায় ২০ ভাগ কাজ অসম্পূর্ণ। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, দুই বাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নস্ট করে সরকারি লুটপাটের এই প্রকল্প কোন কাজে আসছেনা। মাসের পর মাস বন্ধ পড়ে আছে সবজি মার্কেট। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই প্রকল্পের ঠিকাদার নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ নেতা ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে পলাতক। প্রকল্পের পরিচালক মো: আব্দুর রহীমের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগে মামলা করেছে দুদক।
Manual3 Ad Code
বিয়ানীবাজার পৌরসভার প্রকৌশল অফিসের কর্মকর্তা মামুন আহমদ জানান, এই প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ের দায়িত্বশীলরা ভালো বলতে পারবেন। আমার দপ্তরে এমন কোন তথ্য নেই।
Manual6 Ad Code
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা: মোহাম্মদ আব্দুস শহিদ হোসেন জানান, প্রকল্প হস্তান্তর হলে আমাদের অফিসে কাগজপত্র থাকতো, মনে হয় হস্তান্তর হয়নি। এই প্রকল্পের মেয়াদও শেষ হয়েছে। অন্যান্য উপজেলায় এ প্রকল্প শেষ হলেও বিয়ানীবাজারে কেন হয়নি, তা খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।