বিয়ানীবাজারে সৌরবিদ্যুৎ সম্ভাবনা, ছাদে সোলার প্যানেলের সুযোগ
বিয়ানীবাজারে সৌরবিদ্যুৎ সম্ভাবনা, ছাদে সোলার প্যানেলের সুযোগ
editor
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ১২:৫২ অপরাহ্ণ
Manual8 Ad Code
Manual6 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
Manual5 Ad Code
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি বিয়ানীবাজারে রয়েছে বিপুল সৌরশক্তির সম্ভাবনা। এখানকার শহর কেন্দ্রিক বহুতল ভবনের ছাদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও গ্রামীণ এলাকার বিভিন্ন স্থাপনায় সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুতের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা সম্ভব। কিন্তু সম্ভাবনার তুলনায় বাস্তবে বিয়ানীবাজার উপজেলায় সৌরবিদ্যুতের বিস্তার এখনো সীমিত।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা, জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা এবং পরিবেশের ওপর চাপ কমাতে সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হতে পারে। বিশেষ করে বিয়ানীবাজারের বিস্তীর্ণ গ্রামীণ এলাকার বেসরকারি ভবনের ছাদ সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের বড় ক্ষেত্র হতে পারে।
Manual4 Ad Code
সূত্র জানায়, বিপুল সম্ভাবনা থাকার পরও বিয়ানীবাজারে সরকারিভাবে কোন সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেই। এদিকে বিয়ানীবাজারে রুফটপ সোলারেরও ব্যবহার রয়েছে। স্থানীয়ভাবে বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত ভবনের বড় একটি অংশের ছাদ দিনের অধিকাংশ সময় খালি থাকে। সেখানে রুফটপ সোলার স্থাপন করা গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি ভবন মালিকের বিদ্যুৎ ব্যয়ও কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বড় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের দিকে না তাকিয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের রুফটপ সোলার প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। সরকারি অফিস, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, আবাসিক ভবন ও মার্কেটের ছাদকে এ ক্ষেত্রে কাজে লাগানো যেতে পারে। সাধারণ গ্রাহকের কাছে এককালীন বড় বিনিয়োগ এখনো একটি বড় বাধা।
বিয়ানীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাবেক পরিচালক এডভোকেট মো: আমান উদ্দিন বলেন, সহজ কিস্তি, স্বল্পসুদের ঋণ ও কার্যকর প্রণোদনা দেওয়া গেলে আবাসিক ভবনেও রুফটপ সোলারের ব্যবহার দ্রুত বাড়তে পারে। বর্তমান পরিচালক হানিফ আহমদ জানান, সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা থাকলেও এর প্রসারে রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। উচ্চ প্রাথমিক বিনিয়োগ, মানসম্মত যন্ত্রপাতি ও দক্ষ কারিগরের অভাব, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, বিদ্যুৎ সংযোগ ও নেট মিটারিং সংক্রান্ত জটিলতা এবং বিনিয়োগের অর্থনৈতিক নিশ্চয়তার ঘাটতি অন্যতম।
বিয়ানীবাজার অঞ্চলে ডিজেলচালিত সেচপাম্পের পরিবর্তে সৌরচালিত পাম্প ব্যবহার করা গেলে কৃষকের জ্বালানি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পরিবেশদূষণও কমানো সম্ভব। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জাতীয় ডাটাবেজে বিয়ানীবাজারের একটি রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার তথ্যও রয়েছে। বিয়ানীবাজার উপজেলার প্রায় ৯৫ ভাগ লোক প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে।
সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বিয়ানীবাজার জোনাল অফিসের ডিজিএম পার্থ চক্রবর্তী জানান, বিয়ানীবাজারে বেসরকারি উদ্যোগে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নিলে আমরা যথাসম্ভব সহায়তা করবো। এ ধরনের উদ্যোগ বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় সহায়ক হবে।