বিয়ানীবাজার পৌরশহরের আলোচিত মা ও শিশু হাসপাতাল অনেক আগে বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন নামে চালু হচ্ছে এই প্রতিষ্টান। বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালটি একমাত্র ডাক্তার-নার্স-আয়াদের ভূল চিকিৎসায় বন্ধ হয়। একাধিক শিশু নবজাতক ওই হাসপাতালে মারা যাওয়ার অভিযোগ এখনো স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে। তবে পেশাগত রাজনীতিও মা ও শিশু হাসপাতাল বন্ধের আরেকটি অন্যতম কারণ।
সম্প্রতি বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত এক আয়ার বিরুদ্ধে কলোনীতে রোগী নিয়ে চিকিৎসা দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি এখন টক অব দ্য বিয়ানীবাজার।
বিয়ানীবাজার পৌরশহর এখন চিকিৎসা ব্যবসার উর্বর ভূমি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বিয়ানীবাজার উপজেলাসহ প্রতিবেশী এলাকার লোকজনকে চিকিৎসা দিচ্ছে। চিকিৎসা সেবা নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোন অভিযোগ না থাকলেও এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অদক্ষ নার্স, আয়া আর স্টাফদের দক্ষতার উপর অসন্তুষ্ট রোগীরা। নার্সদের অনেকেই স্যালাইন, ইনজেকশন পুশ করতে পারেনা।
Manual7 Ad Code
বিভিন্ন সূত্র জানায়, নার্সদের কেউ কেউ সামান্য প্রশিক্ষণ নিয়ে চাকরিতে যোগদান করেন। তাদের পর্যাপ্ত পড়াশোনা এবং ইন্টার্ন প্রশিক্ষন নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত নার্সরা এক্ষেত্রে একটু এগিয়ে। তারা নিজেরা সেবা না দিয়ে অনেক ক্ষেত্রে আয়াদের কাজে লাগান।
Manual6 Ad Code
খোঁজ নিয়ে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খরচ কমানোর জন্য সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে শিক্ষানবিশ, অদক্ষ ও প্রশিক্ষণ না থাকা নার্স দিয়ে সেবা দেওয়ার প্রবণতা বেড়ে গেছে। এতে চিকিৎসাব্যবস্থায় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। সংকটে পড়তে হচ্ছে রোগীদের। বিশেষ করে শিশু ও নবজাতকরা এর ভুক্তভোগী সবচেয়ে বেশি।
Manual2 Ad Code
রোগীর অভিভাবকদের অভিযোগ, বিয়ানীবাজারের বেসরকারি হাসপাতালগুলো রোগীর কাছ থেকে চিকিৎসা সেবার চড়া মূল্য আদায় করে। তার সঙ্গে যুক্ত করা হয় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জ। এরপরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কম বেতনে অদক্ষ, অনভিজ্ঞ নার্স দিয়ে চিকিৎসা পরিচালনা করে থাকে। অথচ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার মূল নিয়ামকই হলেন নার্স। চিকিৎসক ওষুধের নির্দেশনা দিলে নার্সরা তা রোগীর শরীরে প্রয়োগ করেন। রোগীকে সারিয়ে তোলার ক্ষেত্রে নার্সের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবুও নার্স রাখা হয় কম বেতন দিয়ে।
Manual4 Ad Code
সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘কিছু ঘটনায় অদক্ষ নার্সের বিষয়টি সামনে আসছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে আগামী সপ্তাহ থেকে বেসরকারি সবগুলো হাসপাতাল পরিদর্শন করা হবে। সরেজমিনে পরিদর্শন করে সব নার্সের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’