সিলেটে যে রোগে দুই শতাধিক প্রা/ণ হা/নি, বাড়ছে চরম উদ্বেগ
সিলেটে যে রোগে দুই শতাধিক প্রা/ণ হা/নি, বাড়ছে চরম উদ্বেগ
editor
প্রকাশিত অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ
Manual5 Ad Code
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিলেটে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনায় বাড়ছে জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ। একের পর এক শিশুর মৃত্যু, প্রতিদিন নতুন রোগীর হাসপাতালে ভর্তি এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ। মাঠপর্যায়ে টিকাদান, সচেতনতা ও নজরদারি কার্যক্রমের ঘাটতির অভিযোগও উঠছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা হলো- বিয়ানীবাজারের এক বছর বয়সী আব্দুল্লাহ আল সাফওয়ান, কোম্পানীগঞ্জের নয় মাস বয়সী জিসান আহমেদ এবং হবিগঞ্জ সদরের মাত্র তিন মাস নয় দিন বয়সী শিশু জায়ান।
হাসপাতালে সন্তানদের চিকিৎসা করাতে আসা অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, শিশুদের একের পর এক মৃত্যুর খবর শুনে আমরা আতঙ্কিত। সময়মতো চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং টিকাদান নিশ্চিত করা জরুরি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্টদের আরও তৎপর হতে হবে।
Manual1 Ad Code
ল্যাব পরীক্ষায় কয়েকজনের শরীরে হাম শনাক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে আক্রান্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে টিকাদান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
Manual6 Ad Code
সিলেট নগরীর তালতলার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বাসিন্দা বলেন, “প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি ও শিশু মৃত্যুর খবর মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে। স্বাস্থ্য বিভাগ কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, কোথায় টিকাদান হচ্ছে এবং সংক্রমণ ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে- এসব বিষয়ে জনগণ স্পষ্ট তথ্য জানতে চায়।”
Manual5 Ad Code
এদিকে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) হিসেব অনুযায়ী বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৯৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে ৪৯ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩২ জন, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ৯ জন, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
জেলাভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে সিলেটে ৮৩, সুনামগঞ্জে ৬৯, হবিগঞ্জে ৩২ এবং মৌলভীবাজারে ১৬ জনের মৃত্যুর তথ্য দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা, আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং সংক্রমণ মোকাবিলায় দ্রুত সাড়াদানকারী দল সক্রিয় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ ও জনসাধারণকে নিয়মিত তথ্য জানানো জরুরি।