তিন বাড়ির দরজায় কাফনের কাপড়-গলাকাটা মুরগি, এলাকাজুড়ে আতঙ্ক
তিন বাড়ির দরজায় কাফনের কাপড়-গলাকাটা মুরগি, এলাকাজুড়ে আতঙ্ক
editor
প্রকাশিত নভেম্বর ৫, ২০২৬, ১২:৪৩ অপরাহ্ণ
Manual3 Ad Code
ধামরাই দক্ষিণ (ঢাকা) প্রতিনিধি:
ঢাকার ধামরাইয়ে রাতের আঁধারে তিন বাড়ির দরজার সামনে লাশ দাফনের সরঞ্জাম ঝুলিয়ে রাখার খবর পাওয়া গেছে। ঝুলিয়ে রাখা ব্যাগে কাফনের কাপড়, আতর, সাবান ও গলাকাটা ব্রয়লার মুরগি ভরা ছিল।
রেখে যাওয়া ওই ব্যাগ একনজর দেখতে এলাকাবাসী ভিড় জমাচ্ছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পরিবারসহ এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
Manual6 Ad Code
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ভোররাতে উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বড় চন্দ্রাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
মোসলেহ উদ্দিন, ওয়াহিদ ভূঁইয়া রিপন ও সেন্টু মিয়ার বাড়ির দরজার সামনে এ ঘটনা ঘটে। ইতোপূর্বেও ওই এলাকার সোহরাব হোসেন সাগরের বাড়ির দরজার সামনে একই ঘটনা ঘটে। সেখানেও কাফনের কাপড়, আতর-গোলাপজল রেখে দিয়েছিল।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, উপজেলার বড় চন্দ্রাইল এলাকায় বৃহস্পতিবার ভোররাতে কে বা কারা কাফনের কাপড়, আতর, সাবান ও গলাকাটা মুরগি বাড়ির প্রধান দরজার সামনে রেখে দেয়। তারা ধারণা করছেন পূর্বশত্রুতার জের ধরে দরজার সামনে এসব রেখে অঘোষিত হুমকি দিচ্ছে। এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
Manual6 Ad Code
মোসলেহ উদ্দিন নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, গত মাসের ২০ তারিখে আমার বাড়িতে আগুন দেয়। এতে বসতঘরে খাট, আলমারিসহ যাবতীয় মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ সময় অপরিচিত নম্বরের মোবাইল ফোন থেকে হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করেছি; কিন্তু থানা থেকে তেমন কোনো সহযোগিতা পাইনি। সেই ঘটনা শেষ না হতেই আবার আমার বাড়িসহ আরও দুই বাড়ির গেটের সামনে কাফনের কাপড়, সাবান, আতর, গোলাপজল ও গলাকাটা একটি ব্রয়লার মুরগি রেখে দিয়েছে। এতে আমরা জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
ভুক্তভোগী মুদি দোকানদার সেন্টু মিয়া বলেন, আমার বাড়ির সামনেও কাফনের কাপড়সহ আতর-গোলাপ, গলাকাটা মুরগি রেখে দিয়েছে। আশপাশের লোকজন ধারণা করছেন, এটা আমাদের জবাই করে হত্যা করার অঘোষিত হুমকি।
Manual6 Ad Code
অপরদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের হিসাব সহকারী ওয়াহিদ ভূঁইয়া রিপন বলেন, প্রতিবেশীর বাড়িতে আগুন লাগার সময় তাদের সহযোগিতা করেছি। এ কারণেও ভয়ভীতি দেখানোর উদ্দেশ্যে এমন ঘটনা হতে পারে বলে মনে করছি; কিন্তু কে বা কারা এ ঘটনা ঘটাচ্ছে তা জানতে পারি নাই। এখন আমরা আতঙ্কে বসবাস করছি। আমরা দ্রুত প্রশাসনের সহায়তা চাচ্ছি।
এ বিষয়ে ধামরাই থানার ওসি নাজমুল হুদা খান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।