স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেটে সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। গত আড়াই মাসে সিলেটে কমপক্ষে এক ডজন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ছিনতাইকারীদের টার্গেটে ছিল নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার। এমনকি টাকা লুটের সময় খুনের ঘটনাও ঘটেছে, যা সিলেটবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।
ছিনতাইকারীদের তৎপড়তা বাড়লেও তাদের পিছু ছাড়ছেনা পুলিশও। নগরীর বিভিন্ন স্থানে একের পর অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। গত ১ মার্চ থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৩ জন চিহ্নিত ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ১০টি ধারালো চাকু উদ্ধার করা হয়।
Manual6 Ad Code
পুলিশ জানায়, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় গঠিত বিশেষ টিম নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এই ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরি ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
Manual7 Ad Code
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন
সিলেট সদরের সুরমা ভ্যালী-১০৫, তোপখানা এলাকার আব্দুল করিম ওরফে সাকিব (৪৬), কিশোরগঞ্জের কদমচাল শান্তিপুর গ্রামের মো. রুবেল মিয়া (২৫), সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার পানিছড়া গ্রামের মো. সাহেদ হোসেন (২০), মৌলভীবাজার সদরের শেরপুর (পিটুয়া) গ্রামের বাবলু আহমদ (২৫), সিলেটের সাহেববাজার (বাজারতল) এলাকার মো. জাকির হোসেন (৩৩), সুনামগঞ্জের মধ্যনগর সাউদপাড়া গ্রামের রিপন মিয়া (৩১), সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া গ্রামের শরিফ আহমদ ওরফে সাঈদ আহমদ (৩২), জৈন্তাপুর উপজেলার সরুখেল পশ্চিম গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা ইমরান আহমদ দুলাল (৩০), সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার মাটিকাটা গ্রামের হাবিল আহমদ (২৮), তাহিরপুর উপজেলার চরগাঁও গ্রামের রফিকুল ইসলাম (১৯), কালীপুর এলাকার মো. ফারুক মিয়া (৩৫), সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার লামাশ্যামপুর গ্রামের মো. শুয়েব আহমদ (২৯) এবং কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিবপুর গ্রামের রুবেল আহমদ (২৭)।
তারা সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে অপরাধ সংঘটিত করছিলেন। পুলিশ বলছে, অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং নগরবাসীকে নিরাপত্তা দিতে তারা বদ্ধপরিকর। তবে সাধারণ মানুষ বলছেন, শুধু গ্রেফতার করলেই হবে না, এসব অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়।