স্টাফ রিপোর্টার:
জীবিকার তাগিদে মরুভূমির দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন মৌলভীবাজারের মিছবা উদ্দিন (৫২)। ইচ্ছা ছিল হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবেন। কিন্তু মরণব্যাধি ক্যানসার সেই স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) কাতারের একটি স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
এদিকে মৃত্যুর ছয় দিন পার হলেও নানাবিধ প্রশাসনিক জটিলতা এবং নিয়োগকারী কোম্পানির গড়িমসির কারণে এখনো তার মরদেহ দেশে পাঠানো সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এবং মরদেহ ফিরে পাওয়ার অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তার স্ত্রী ও তিন কন্যাসন্তানের। বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম।
Manual3 Ad Code
নিহত মিছবা উদ্দিন মৌলভীবাজার জেলার জগৎশী ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং মোঃ মনোয়ার মিয়ার পুত্র। প্রায় দেড় বছর আগে তিনি কাতারে এসেছিলেন।
Manual6 Ad Code
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর কাতারের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন মিছবা। গত শুক্রবার সেখানে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর থেকেই মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন স্বজনরা। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরিতে ধীরগতি এবং প্রশাসনিক কিছু জটিলতার কারণে প্রক্রিয়াটি আটকে আছে। দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কাতারে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি ও আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Manual6 Ad Code
এ বিষয়ে কাতার জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুবুর রহমান চৌধুরী বাবু বলেন, “ঘটনাটি জানার পর থেকেই মরহুমের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর জন্য আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছি। আশা করছি খুব দ্রুত আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে কাতারে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের কর্মকর্তা নুরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। দূতাবাস কর্মকর্তা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন এবং দূতাবাসের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে প্রবাসী মিছবার আকস্মিক মৃত্যুতে তার নিজ এলাকা জগৎশীতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মরদেহটি দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে যেন পারিবারিকভাবে দাফন করা যায়, সে জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ের সহযোগিতা দাবি করেছেন এলাকাবাসী।