নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিলেট বিভাগজুড়ে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে অনলাইন জুয়া, মাদক কারবারি এবং হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িত মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)। শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে রবিবার (২৬ জুলাই) ভোর পর্যন্ত সিলেট মহানগরীর শাহপরাণ, দক্ষিণ সুরমা এবং নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় পরিচালিত এসব অভিযানে তাদের আটক করা হয়। এসময় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে জুয়া খেলার বিভিন্ন আলামত, মোবাইলফোন, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা বড়ি ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
মহানগরীর শাহপরান (রহ.) এলাকায় অভিযানে অনলাইন জুয়ার আসর থেকে ৪ জন গ্রেফতার করা হয়েছে। র্যাব-৯ জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট নগরের শাহপরান (রহ.) থানাধীন ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের খাদিম চৌমুহনী পয়েন্ট এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারী একটি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার অ্যাপ ব্যবহার করে জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা চারটি স্মার্টফোনে জুয়া খেলার বিপুল আলামত পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ অনুযায়ী মামলা দায়ের করে তাদের শাহপরাণ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মহানগরীর দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ইয়াবা বড়ি ও গাঁজাসহ ৩জন মাদক কারবারি আটক করা হয়। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে র্যাব-৯-এর আরেকটি দল দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলা মসজিদ মার্কেটের পেছনে নদীর তীর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ২৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১.৫৫ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়।
Manual8 Ad Code
গ্রেফতাররা হলেন- দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলা এলাকার মো. আকবর হোসেন (৩৮), হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার মো. মোতালিব মিয়া (২২) এবং ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মো. সাহিন (৩০)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা র্যাবকে জানান, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা ও গাঁজা সংগ্রহ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা দিয়ে তাদের দক্ষিণ সুরমা থানায় হস্তান্তর করা হয়।
অন্যদিকে কুমিল্লার হত্যা মামলার আরও দুই আসামি নেত্রকোনা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ব্যবসায়ী এনামুল হক (২৯) হত্যা মামলার আরও দুই আসামিকে নেত্রকোনা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে র্যাব-৯ (শ্রীমঙ্গল ক্যাম্প) ও র্যাব-১৪ (ময়মনসিংহ) যৌথভাবে নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানার দলপা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
গ্রেফতাররা হলেন- নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বেখৈরহাটী এলাকার কনক মিয়া এবং তার স্ত্রী সাগরিকা হিজরা।
র্যাব জানায়, ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে গত ১৩ মে আসামিরা এনামুল হককে ডেকে নিয়ে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার একটি টিনশেড ঘরে হাত-পা বেঁধে তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ মে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বুড়িচং থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
Manual7 Ad Code
র্যাব আরও জানায়, গ্রেফতারের পর দুই আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে গত ১০ জুলাই এ মামলার এজাহারভুক্ত আরও একজন আসামিকে গ্রেফতার করেছিল র্যাব-৯।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া ) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, ‘পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃতদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।