নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত হলেও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশি কোনো এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইট ছিল না। কয়েক হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে রানওয়ে সম্প্রসারণ, আধুনিক ওয়্যারহাউজ নির্মাণ এবং নতুন টার্মিনালসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন ও চলমান থাকলেও এর পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। তবে সেই চিত্র বদলাতে যাচ্ছে। সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ একাধিক বিদেশি এয়ারলাইন্স ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানায়, বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালু হলে সিলেটের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের সরাসরি বিমান যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে ইতিবাচক কূটনৈতিক সম্পর্কের অগ্রগতির ভিত্তিতে সিলেটের পার্শ্ববর্তী ভারতীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গেও সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক ওয়্যারহাউজ। নতুন টার্মিনাল ভবনসহ আরও বেশ কিছু উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে বিদেশি কোনো এয়ারলাইন্স এই বিমানবন্দরে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে না।
Manual4 Ad Code
বর্তমানে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও ম্যানচেস্টার, সৌদি আরব, কাতার, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ ও আবুধাবিতে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এছাড়া আগামী আগস্ট মাসে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।বাংলাদেশ জাতীয় খবর
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম বিদেশি এয়ারলাইন্স হিসেবে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছিল দুবাইভিত্তিক ‘ফ্লাই দুবাই’। ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল সিলেট-দুবাই রুটে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। শুরুতে সপ্তাহে পাঁচ দিন ফ্লাইট পরিচালনা করলেও যাত্রী চাহিদা বাড়ায় পরে প্রতিদিনই ফ্লাইট চলাচল করত। তবে নিজস্ব পরিচালনাগত সমস্যার কারণে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে সিলেট-দুবাই রুটে ফ্লাইট বন্ধ করে দেয় এয়ারলাইন্সটি।
বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘ফ্লাই দুবাই’ আবারও সিলেট থেকে ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে। জাতীয় সংসদে বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটিকে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য নীতিগত সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। ট্রাভেল ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, চলতি বছরের শেষ দিকে আবারও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাই দুবাইয়ের ফ্লাইট চালু হতে পারে।
Manual1 Ad Code
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক আরেক এয়ারলাইন্স ‘এয়ার আরাবিয়া’ও সিলেট-দুবাই রুটে ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। চলতি বছরের শেষ কিংবা আগামী বছরের শুরু থেকে তাদের ফ্লাইট চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
Manual5 Ad Code
অন্যদিকে, ওমানভিত্তিক বাজেট এয়ারলাইন্স ‘সালাম এয়ার’ সিলেট-মাস্কট রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এ রুটে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার আগ্রহ দেখিয়েছে সালাম এয়ার। এই ফ্লাইট চালু হলে তুলনামূলক কম ভাড়ায় ওমানপ্রবাসী সিলেটিদের যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে।
এদিকে গত রবিবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটের ফ্লাইট পুনরায় চালু হয়েছে। এদিন সকালে ম্যানচেস্টার থেকে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণকারী যাত্রীদের স্বাগত জানান বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
Manual3 Ad Code
এ উপলক্ষে বিমানবন্দরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ইতিবাচক পর্যায়ে পৌঁছালে সিলেট-গুয়াহাটি রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি আশপাশের আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর ফলে আন্তঃরাষ্ট্রীয় যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও সম্প্রসারিত হবে।বাংলাদেশ জাতীয় খবর
এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব) সিলেটের সাবেক সভাপতি আবদুল জব্বার জলিল বলেন, ‘ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যে সক্ষমতা রয়েছে, তার পূর্ণ ব্যবহার এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। দীর্ঘদিন ধরেই সিলেটবাসী বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট পরিচালনার দাবি জানিয়ে আসছেন। সরকারের বর্তমান উদ্যোগ সফল হলে শুধু এ দাবি পূরণই হবে না, বরং এ অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক প্রবাসীও সরাসরি উপকৃত হবেন।’