নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিলেটজুড়ে একের পর এক হত্যাকাণ্ডে যেন অস্বস্তি আর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জুলাই মাসের ১তারিখ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত এই ২৯দিনে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১৩ টি হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে। এর বাইরে আরও ৪টি রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এই ঘটনাগুলোতে কিছু সংখ্যক আসামি গ্রেফতার হলেও অনেক আসামি এখনও পলাতক। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পারিবারিক কলহ থেকে শুরু করে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ, ফুটবল খেলা নিয়ে দ্বন্দ্ব, পূর্বশত্রুতা, প্রেমের সম্পর্ক, শিশু হত্যাসহ জুলাই মাসজুড়ে সিলেট বিভাগে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাগুলোতে প্রাণ হারিয়েছেন নারী, পুরুষ, কিশোর ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। এসব ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হলেও এখনও অধরা রয়েছেন অনেক জড়িতরা।
সর্বশেষ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার থানাধীন সিলাম ইউনিয়নের মুক্তারপুর গ্রামে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে বাতির আলী নামে এক যুবককে মারধরের পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সিলেট মহানগরীর কাজিরবাজার ব্রিজ এলাকায় ফুটবল খেলা নিয়ে পূর্বের বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে নিহত হন নবম শ্রেণির ছাত্র রিফাত আহমদ। একই দিন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লালপুর গুচ্ছগ্রামে নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একটি সেফটি ট্যাংক থেকে ১১ মাস বয়সী শিশু আমির হামজার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে সন্দেহ করছে এবং চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
Manual4 Ad Code
রবিবার (২৬ জুলাই) জৈন্তাপুর উপজেলার কাপনাকান্দি গ্রামে জমি-সংক্রান্ত বিরোধে এক মাস আগে গুরুতর আহত মনোফর আলী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুর পর দায়ের করা মামলাটি হত্যাকাণ্ডে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। একই দিনে জকিগঞ্জে বৃদ্ধা হাসনা বেগমের মৃত্যু ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হলেও পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে ধারণা করছে।
Manual8 Ad Code
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার খায়েরগাঁও গ্রামে দুই সন্তানের জননী তাসলিমা আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে রুস্তম আলী নিহত হন। একই দিন সিলেট নগরীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের বারান্দা থেকে এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ এখনও নিশ্চিত হয়নি।
Manual8 Ad Code
সোমবার (১৩ জুলাই) হবিগঞ্জ থেকে জকিগঞ্জের মাহবুব সারওয়ার রাজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। চাকরির পরীক্ষা দিয়ে ঢাকায় থেকে ফেরার পথে নিখোঁজ হওয়ার পর তার মৃত্যু রহস্যজনক বলে জানিয়েছে পরিবার।
Manual5 Ad Code
শনিবার (১১ জুলাই) জৈন্তাপুরে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ ফারজানা আক্তার শিমুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর স্বামী ও শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়। একই রাতে ভারতের মেঘালয় সীমান্তে খাসিয়াদের গুলিতে গোয়াইনঘাটের মিনহাজ উদ্দিন নিহত হন।
সোমবার (৬ জুলাই) মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের একটি বাড়ির বাথরুম থেকে শুটকি ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যার উদ্দেশ্য ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বড়লেখার যুবক মো. সুফিয়ান আহমদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরিবারের অভিযোগ, গোপন বিয়ের জেরে স্ত্রীকে দিয়ে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের পর তার মুখে বিষ ঢেলে হত্যা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জকিগঞ্জে ফুটবল ম্যাচ দেখা নিয়ে তুচ্ছ বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে আলম আহমদ নিহত হন। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করে পুলিশ। একই সময়ে কানাইঘাটে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনা নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে জাহাঙ্গীর আলমকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে।
এদিকে পুলিশ জানায়, প্রতিটি হত্যাকাণ্ড ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। যেসব ঘটনায় মামলা হয়েছে সেগুলোর তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কয়েকটি ঘটনায় ইতোমধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পলাতকদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।