নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে এ রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৬ জনে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৫৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তিরও মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে সিলেটে ডেঙ্গুতে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ১১৬ জনের মধ্যে একজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং বাকি সবাই শিশু। মৃতদের মধ্যে সিলেট জেলার ৪০ জন, সুনামগঞ্জের ৫১ জন, মৌলভীবাজারের ১৩ জন এবং হবিগঞ্জের ১২ জন রয়েছেন। বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৫৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই অনেক রোগীর শারীরিক অবস্থা জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই জটিলতা দেখা দেওয়ার আগেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
Manual1 Ad Code
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, বর্তমানে আক্রান্তদের প্রায় ৯৫ শতাংশই অসচেতনতা ও কুসংস্কারের কারণে টিকার আওতার বাইরে ছিল। এছাড়া সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকা এবং সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পর্যাপ্তভাবে পৌঁছাতে না পারায় এসব এলাকায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার তুলনামূলক বেশি। তবে হামের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় বা ‘লগ ফেজ’ ইতোমধ্যে অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। যদিও রোগটির উপসর্গ ও প্রকৃতিতে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৫৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। চলতি বছরে সিলেটে ডেঙ্গুতে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। তবে এ ঘটনায় আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট পাঁচজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
Manual4 Ad Code
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশন এলাকায় এখন পর্যন্ত কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে মশক নিধন কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।
Manual7 Ad Code
সিলেট জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত বলেন, সিলেটে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে জ্বরের রোগীদের জন্য বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। লার্ভা শনাক্তকরণ এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। তিনি জ্বর দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন।