বিয়ানীবাজারে আবাদি জমির মাটি বিক্রির হিড়িক পড়েছে। এতে আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে কৃষিজমি। আইনের তোয়াক্কা না করেই অবাধে চালাচ্ছে মাটি বিক্রির ব্যবসা। এতে স্থানীয় কয়েকজন ট্রাক মালিক-চালক জড়িত বলে জানা গেছে।
Manual1 Ad Code
এতে যেমন ফসল ফলানোর জায়গা কমে যাচ্ছে, তেমনি ঝুঁকিতে পড়ছে ব্রিজ, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি। ফসলি জমিতে এক্সকাভেটর (ভেকু) বসিয়ে কাটা হচ্ছে মাটি। এসব মাটি ডাম্প ট্রাক ও সড়কে নিষিদ্ধ ট্রলি দিয়ে ক্রেতার কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে কৃষিজমির পাশাপাশি গ্রামীণ এবং পাকা রাস্তার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।
সরজমিন দেখা যায়, মাটি ব্যবসায়ীরা ফসলি জমিতে ভেকু দিয়ে কেটে তা বিক্রি করছেন বিভিন্ন বাড়ি-ভিটে, পুকুর ভরাটে এবং ইটভাটায়। উপজেলায় চলছে নির্বিচারে চলছে মাটি কাটা। এভাবে মাটি কেটে নেওয়ার কারণে যেমন ঝুঁকিতে পড়ে যাচ্ছে এলাকার ঘরবাড়ি। তেমনি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি। এছাড়া মাটিবোঝাই ভারী ডাম্প ট্রাক চলার কারণে ধুলোবালিতে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। উপজেলার অন্তত: ৩০টি স্পটে মাটি কাটার জমজমাট ব্যবসা চলমান।
Manual1 Ad Code
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান বলেন, মাটির টপ সয়েল কেটে নেওয়ার ফলে কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তন হচ্ছে। নির্বিচারে যেভাবে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে, তাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ফসলি জমি আশঙ্কাজনক হারে কমে যাবে। কমে যাবে ফসল উৎপাদন।
Manual4 Ad Code
তিলপারা এলাকার বাসিন্দা রিপন বলেন, আমার বাড়ির পিছনে সরকারি রাস্তা। এই রাস্তা দিয়ে মাটিবোঝাই ভারী ট্রাক চলাচলে রাস্তাটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ওমর ফারুক বলেন, অবৈধ মাটি পরিবহনে জড়িত থাকার দায়ে একটি ট্রাক আটক করা হয়েছে। মাটি কাটা বিরোধী অভিযান জোরালো করা হবে।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে হাবীবা মজুমদার বলেন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী কৃষি জমির টপ সয়েল কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। এতে দু’বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। শিগগির অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, জমির শ্রেণি পরিবর্তন করতে অনুমোদন লাগে। এছাড়া ঐ ছোট সড়ক দিয়ে ডাম্প ট্রাক চলাচল করার নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। এর আগে কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করা এবং ড্রেজার দিয়ে যারা বালু উত্তোলন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কৃষিজমি থেকে যারাই মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।